ব্যবহার
প্রানলুকাস্ট হাইড্রেট দীর্ঘমেয়াদে হাঁপানি (ব্রঙ্কিয়াল অ্যাজমা) এর লক্ষণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে ব্যবহার করা হয়। কিছু দেশে অ্যালার্জিক রাইনাইটিসেও ব্যবহৃত হয়। এটি তাৎক্ষণিক উপশমের ঔষধ নয় এবং শুরু হয়ে যাওয়া হাঁপানির টান থামায় না।
কীভাবে কাজ করে
প্রানলুকাস্ট একটি লিউকোট্রিন রিসেপ্টর অ্যান্টাগনিস্ট। অ্যালার্জি ও হাঁপানিতে শ্বাসনালিতে লিউকোট্রিন নামের পদার্থ নিঃসৃত হয়, যা ফোলা, শ্লেষ্মা ও শ্বাসনালির পেশি সংকোচন ঘটায়। প্রানলুকাস্ট এদের কাজ বন্ধ করে, ফলে শ্বাসনালি বেশি খোলা ও কম প্রদাহযুক্ত থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ভালো থাকলেও প্রতিদিন চিকিৎসকের নির্দেশমতো সেবন করুন। ড্রাই সিরাপ মূলত শিশুদের জন্য, এবং শিশুর শরীরের ওজন অনুযায়ী চিকিৎসক মাত্রা ঠিক করেন। খাওয়ানোর ঠিক আগে দানাগুলো অল্প পানিতে মিশিয়ে নিন, এবং দিনে দুই ভাগে, সাধারণত সকালের নাস্তা ও রাতের খাবারের পরে দিন। প্রাপ্তবয়স্করা সাধারণত চিকিৎসকের নির্দেশমতো ক্যাপসুল সেবন করেন। হঠাৎ লক্ষণের জন্য উপশমকারী ইনহেলার ব্যবহার চালিয়ে যান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ওয়ারফারিন: এর প্রভাব বাড়তে পারে, তাই রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষা করা উচিত।
- লিভারের CYP3A4 এনজাইম দ্বারা ভাঙে এমন ঔষধ, যেমন কেটোকোনাজোল, ইট্রাকোনাজোল বা ইরিথ্রোমাইসিন, প্রানলুকাস্টের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- প্রানলুকাস্ট শুরু করার সময় ইনহেলড বা মুখে খাওয়ার স্টেরয়েড হঠাৎ বন্ধ করবেন না; কমাতে হলে ধীরে ধীরে, চিকিৎসকের পরামর্শে কমাতে হবে।
কারা খাবেন না
প্রানলুকাস্ট বা পণ্যের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পেট খারাপ, বমি ভাব, ডায়রিয়া, পেটব্যথা, র্যাশ, চুলকানি, মাথাব্যথা ও ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে। কদাচিৎ লিভারে প্রভাব (লিভার এনজাইম বাড়া, জন্ডিস), শ্বেত রক্তকণিকা কমে যাওয়া বা আচরণে পরিবর্তন হতে পারে। খুব কদাচিৎ স্টেরয়েড কমানোর সময় রক্তনালির প্রদাহজনিত একটি অবস্থা (চার্গ-স্ট্রস সিনড্রোম) দেখা গেছে।
শ্বাসকষ্ট বাড়তে থাকলে, মুখ বা গলা ফুলে গেলে, ত্বক বা চোখ হলুদ হলে, প্রস্রাব গাঢ় হলে, অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত হলে, র্যাশ ও জ্বরের সাথে অবশ বা ঝিনঝিন ভাব হলে, অথবা তীব্র ত্বকের প্রতিক্রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত নয়; চিকিৎসক উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই ব্যবহার করুন, কারণ গর্ভাবস্থায় হাঁপানি নিয়ন্ত্রণে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এটি বুকের দুধে যেতে পারে; চিকিৎসক অন্যভাবে না বললে চিকিৎসার সময় সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানো এড়ানো হয়।
সতর্কতা
- হাঁপানির তীব্র টানের চিকিৎসায় নয়।
- লিভারের রোগে সতর্কতার সাথে ব্যবহার করুন; লিভার পরীক্ষা করা হতে পারে।
- বিশেষ করে শিশুদের মেজাজ বা আচরণের পরিবর্তন লক্ষ করুন এবং চিকিৎসককে জানান।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া হাঁপানির অন্য ঔষধ কমাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে পেট খারাপ, মাথাব্যথা বা ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে। চিকিৎসক বা বিষক্রিয়া কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
লিউকোট্রিন রিসেপ্টর অ্যান্টাগনিস্ট (হাঁপানিরোধী)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। আর্দ্রতা থেকে রক্ষা করতে প্যাক বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।