ব্যবহার
প্রিসিপিটেটেড সালফার (গন্ধক) একটি মিহি হলুদ গুঁড়া, যা ত্বকের সমস্যার জন্য ক্রিম, মলম, লোশন ও সাবানে ব্যবহৃত হয়। স্ক্যাবিস বা খোসপাঁচড়া (ছোট মাইটের সংক্রমণ, যাতে খুব চুলকায়), ব্রণ, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস ও খুশকি এবং পিটিরিয়াসিস ভার্সিকলারের মতো কিছু ছত্রাক সংক্রমণে এটি ব্যবহার করা হয়। মাথার ত্বক ও ত্বকের পণ্যে প্রায়ই স্যালিসাইলিক অ্যাসিডের সাথে মেশানো থাকে।
কীভাবে কাজ করে
ত্বকে সালফার ধীরে ধীরে এমন পদার্থে রূপান্তরিত হয় যা স্ক্যাবিসের মাইট এবং কিছু ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক মেরে ফেলে। এর কেরাটোলাইটিক প্রভাবও আছে, অর্থাৎ এটি মৃত চামড়ার উপরের স্তর নরম ও আলগা করে এবং লোমকূপ খুলে দেয়, ফলে ব্রণ ও আঁশ কমে। এটি তৈলাক্ত ত্বককে কিছুটা শুষ্ক করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
পণ্যের শক্তি ও রোগ অনুযায়ী পদ্ধতি আলাদা, তাই লেবেল বা ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবহার করুন। স্ক্যাবিসে সাধারণত রাতে গলার নিচ থেকে সারা শরীরে সালফার মলম লাগানো হয়, পরপর কয়েক রাত, প্রতিবার নতুন করে লাগানোর আগে ধুয়ে ফেলতে হয়; সাধারণত পরিবারের সবাইকে একসাথে চিকিৎসা করা হয়। ব্রণ বা খুশকিতে আক্রান্ত জায়গায় দিনে একবার বা দুইবার পাতলা করে লাগান, অথবা নির্দেশ অনুযায়ী শ্যাম্পু বা সাবান ব্যবহার করুন। শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- বেনজয়েল পারক্সাইড, ট্রেটিনয়েন বা রিসরসিনলের মতো ব্রণ বা চামড়া ওঠানোর অন্য পণ্য: একই জায়গায় ব্যবহারে ত্বক খুব শুষ্ক ও জ্বালাপোড়া হতে পারে।
- পারদযুক্ত ত্বকের পণ্য: সালফারের সাথে ব্যবহার করবেন না, কারণ এতে জ্বালাদায়ক যৌগ তৈরি হয় ও ত্বকে দাগ পড়ে।
কারা খাবেন না
সালফার বা পণ্যের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না। কাটা, কাঁচা বা খুব প্রদাহযুক্ত ত্বকে লাগাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ প্রভাব হলো শুষ্কতা, হালকা লালচে ভাব, চামড়া ওঠা, জ্বালা ও অপ্রীতিকর গন্ধ। সালফার কাপড় ও বিছানায় দাগ ফেলতে পারে এবং রুপার গয়নার রং বদলে দিতে পারে। অ্যালার্জিজনিত ত্বকের প্রতিক্রিয়া কম দেখা যায়।
মুখ বা ঠোঁট ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, অথবা ফোসকাযুক্ত বা দ্রুত ছড়িয়ে পড়া তীব্র র্যাশ হলে ব্যবহার বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানো মায়েদের স্ক্যাবিসে ত্বকে লাগানো সালফারকে সাধারণত তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প ধরা হয়, তবে শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন। দুধ খাওয়ানোর আগে স্তনবৃন্তে লাগাবেন না।
সতর্কতা
চোখ, মুখ ও নাকের ভেতর থেকে দূরে রাখুন। স্ক্যাবিসের চিকিৎসার পর বিছানার চাদর, তোয়ালে ও কাপড় গরম পানিতে ধুয়ে নিন; মাইট চলে যাওয়ার পরও কয়েক সপ্তাহ চুলকানি থাকতে পারে। শিশু ও নবজাতকের জন্য ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী কম শক্তির পণ্য লাগে। উন্নতি না হলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি লাগালে বেশ জ্বালাপোড়া হতে পারে; সাবান ও পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। গিলে ফেললে ডাক্তার বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহারের স্ক্যাবিসনাশক, কেরাটোলাইটিক ও জীবাণুনাশক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।