কী কাজে ব্যবহার হয়
প্রেডনিসোলোন একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড)। এটি প্রদাহ ও অতিসক্রিয় রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা শান্ত করে। হাঁপানি ও COPD এর আক্রমণ, গুরুতর এলার্জি, ত্বকের রোগ, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, ইনফ্লামেটরি বাওয়েল ডিজিজ, কিছু কিডনি ও রক্তের রোগ, অন্যান্য অটোইমিউন রোগ এবং কিছু ক্যান্সারে ব্যবহার হয়।
কীভাবে খাবেন
ডাক্তার অন্যভাবে না বললে দিনে একবার সকালে নাস্তার সাথে বা পরে খান। রোগ অনুযায়ী মাত্রা অনেক বদলায়, দিনে 5 mg থেকে 60 mg বা তার বেশি। 3 সপ্তাহের বেশি বা বেশি মাত্রায় খেয়ে থাকলে হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
কারা খাবেন না
প্রেডনিসোলোনে এলার্জি থাকলে বা চিকিৎসা না হওয়া গুরুতর সংক্রমণ থাকলে (যেমন সারা শরীরে ছত্রাক সংক্রমণ) খাবেন না। বেশি মাত্রায় খাওয়ার সময় জীবন্ত টিকা (লাইভ ভ্যাকসিন) নেবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অল্প দিনের কোর্সে: ক্ষুধা বাড়া, বদহজম, ঘুমের সমস্যা, মেজাজ বদলানো ও রক্তে শর্করা বাড়া। দীর্ঘদিন ব্যবহারে: ওজন বাড়া, মুখ গোল হওয়া, ত্বক পাতলা হওয়া ও সহজে কালশিটে দাগ, হাড় দুর্বল হওয়া, উচ্চ রক্তচাপ, ছানি বা গ্লুকোমা, মাংসপেশি দুর্বলতা ও বেশি সংক্রমণ। কালো পায়খানা, তীব্র পেট ব্যথা, সংক্রমণের লক্ষণ, বা মেজাজ ও আচরণে বড় পরিবর্তন হলে চিকিৎসা নিন।
সতর্কতা
আগে না হয়ে থাকলে জলবসন্ত, হারপিস জোস্টার বা হাম আক্রান্ত মানুষের কাছ থেকে দূরে থাকুন, আর সংস্পর্শে এলে দ্রুত ডাক্তার দেখান। ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, পাকস্থলীর আলসার, আগে যক্ষ্মা, গ্লুকোমা, হাড় দুর্বল বা মানসিক রোগের ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানান।
গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদান
প্রয়োজনে গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যায়; ডাক্তার উপকার ও ঝুঁকি বিবেচনা করবেন। সাধারণ মাত্রায় স্তন্যদানের সময় সাধারণত গ্রহণযোগ্য ধরা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
NSAID ও অ্যাসপিরিন পাকস্থলীর আলসারের ঝুঁকি বাড়ায়। এটি রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে এবং ডায়াবেটিসের ঔষধ ও ওয়ারফারিনের কাজ বদলাতে পারে। প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধের সাথে পটাশিয়াম আরও কমে যেতে পারে। রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন ও ফেনিটোইন এর কাজ কমিয়ে দিতে পারে।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।