ব্যবহার
প্রিমাকুইন একটি ম্যালেরিয়ার ঔষধ। প্লাজমোডিয়াম ভাইভাক্স বা ওভালে ম্যালেরিয়ার সাধারণ চিকিৎসার পর লিভারে সুপ্ত অবস্থায় থাকা জীবাণু (হিপনোজোইট) মেরে রোগ ফিরে আসা ঠেকাতে এটি ব্যবহার হয়, যাকে র্যাডিক্যাল কিউর বলা হয়। ফালসিপারাম ম্যালেরিয়ায় মশার মাধ্যমে সংক্রমণ ছড়ানো ঠেকাতে একক কম মাত্রাও দেওয়া হয়। কখনো বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ক্লিন্ডামাইসিনের সাথে এক ধরনের নিউমোনিয়ায় (নিউমোসিস্টিস) ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
প্রিমাকুইন একটি ৮-অ্যামিনোকুইনোলিন। ধারণা করা হয়, এটি প্রতিক্রিয়াশীল অক্সিজেন পদার্থের মাধ্যমে জীবাণুর শক্তি উৎপাদনকারী অংশ (মাইটোকন্ড্রিয়া) নষ্ট করে। এটি লিভারের জীবাণু ও রক্তের যৌন রূপ (গ্যামেটোসাইট) এর বিরুদ্ধে কার্যকর, তবে জ্বর সৃষ্টিকারী রক্তের জীবাণুর ওপর কম কাজ করে, তাই অন্য ম্যালেরিয়ার ঔষধের সাথে বা পরে দেওয়া হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা জাতীয় ম্যালেরিয়া নির্দেশিকা অনুযায়ী ওজন বিবেচনায় চিকিৎসক ঠিক করেন। প্রাপ্তবয়স্কদের ভাইভাক্স র্যাডিক্যাল কিউরে প্রচলিত মাত্রা দিনে একবার ১৫ mg (বেস) করে ১৪ দিন, ক্লোরোকুইন বা আর্টেমিসিনিন কম্বিনেশনের সাথে বা পরে। ফালসিপারামে সংক্রমণ ঠেকাতে একক কম মাত্রা দেওয়া হয়। পেটের সমস্যা কমাতে খাবারের সাথে খান। পুরো কোর্স শেষ করুন। ১৪ দিনের কোর্সের আগে G6PD পরীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- লোহিত কণিকা ভাঙতে পারে বা অস্থিমজ্জা দমিয়ে দিতে পারে এমন ঔষধ (ড্যাপসোন, সালফোনামাইড, নাইট্রোফুরানটোইন): হিমোলাইসিস বা রক্তকণিকা কমার ঝুঁকি বাড়ে।
- কুইনাক্রিন: একসাথে ব্যবহার করা যাবে না।
- QT দীর্ঘায়িত করে এমন ঔষধ (কিছু অ্যান্টিঅ্যারিদমিক, অ্যান্টিসাইকোটিক, ম্যাক্রোলাইড ও ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক, কুইনিন): সাবধানে ব্যবহার করুন।
কারা খাবেন না
- গুরুতর G6PD ঘাটতি (একটি প্রচলিত বংশগত এনজাইমের ঘাটতি), কারণ এতে বিপজ্জনকভাবে লোহিত কণিকা ভেঙে যেতে পারে।
- গর্ভাবস্থা।
- G6PD ঘাটতিযুক্ত বা G6PD অবস্থা অজানা এমন শিশুকে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
- সক্রিয় রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা লুপাসের মতো শ্বেত কণিকা কমার প্রবণতাযুক্ত অবস্থা, এবং কুইনাক্রিনের সাথে।
- প্রিমাকুইনে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত পেটে মোচড়, বমিভাব, বমি ও বুক জ্বালা হতে পারে, খাবারের সাথে খেলে কমে। হালকা রক্তস্বল্পতা এবং কদাচিৎ মেথহিমোগ্লোবিনিমিয়া (ঠোঁট নীলচে), শ্বেত কণিকা কমা বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হতে পারে।
গাঢ় (লাল, বাদামি বা কালো) প্রস্রাব, চোখ বা ত্বক হলুদ, হঠাৎ ফ্যাকাশে ভাব, দুর্বলতা, শ্বাসকষ্ট বা দ্রুত হৃৎস্পন্দন (হিমোলাইসিসের লক্ষণ); ঠোঁট বা আঙুল নীলচে; জ্বর বা গলা ব্যথা; অথবা মারাত্মক অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় প্রিমাকুইন একেবারেই নিষিদ্ধ, কারণ গর্ভের শিশুর G6PD অবস্থা অজানা এবং শিশুর হিমোলাইসিস হতে পারে; প্রসব ও দুধ খাওয়ানো শেষ না হওয়া পর্যন্ত র্যাডিক্যাল কিউর পিছিয়ে দেওয়া হয় এবং পরামর্শ অনুযায়ী এই সময়ে সাপ্তাহিক ক্লোরোকুইন দিয়ে প্রতিরোধ করা হয়। দুগ্ধদানকারী মা শুধু তখনই খেতে পারেন যখন শিশুর পরীক্ষায় G6PD স্বাভাবিক পাওয়া গেছে।
সতর্কতা
চিকিৎসার আগে G6PD ঘাটতির পরীক্ষা করার জোরালো পরামর্শ দেওয়া হয়। হালকা G6PD ঘাটতিতে নিবিড় চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে বিশেষ সাপ্তাহিক সূচিতে চিকিৎসা করা যেতে পারে। প্রস্রাব গাঢ় হলে সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে সাহায্য নিন। চিকিৎসাকালে রক্ত পরীক্ষা করা হতে পারে। হৃৎছন্দের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে পেটব্যথা, বমি, হিমোলাইসিস, ত্বক নীলচে হওয়াসহ মেথহিমোগ্লোবিনিমিয়া ও হৃৎছন্দের সমস্যা হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ম্যালেরিয়ারোধী, ৮-অ্যামিনোকুইনোলিন।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।