ব্যবহার
প্রিমিডোন একটি প্রেসক্রিপশন ঔষধ, যা মৃগী বা খিঁচুনি রোগ নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়, যেমন সারা শরীরে খিঁচুনি (টনিক-ক্লোনিক) এবং আংশিক (ফোকাল) খিঁচুনি; একা অথবা অন্য খিঁচুনিরোধী ঔষধের সাথে দেওয়া হয়। এটি এসেনশিয়াল ট্রেমর কমাতেও ব্যবহৃত হয়, এটি একটি সাধারণ অবস্থা যাতে হাত, মাথা বা কণ্ঠ কাঁপে।
কীভাবে কাজ করে
শরীরে লিভার প্রিমিডোনকে দুটি সক্রিয় পদার্থে পরিণত করে: ফেনোবার্বিটাল ও ফেনাইলইথাইলম্যালোনামাইড (PEMA)। প্রিমিডোন ও এই দুটি পদার্থ মিলে মস্তিষ্কের অতিসক্রিয় স্নায়ু সংকেত শান্ত করে, মূলত মস্তিষ্কের প্রাকৃতিক শান্তকারক বার্তাবাহক GABA এর প্রভাব বাড়িয়ে এবং স্নায়ুকোষের উত্তেজনা কমিয়ে। এতে খিঁচুনির সম্ভাবনা কমে এবং কাঁপুনিও কমতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসক মাত্রা ঠিক করেন; ঠিক যেভাবে প্রেসক্রাইব করা হয়েছে সেভাবেই খান। সাধারণত রাতে ঘুমানোর আগে কম মাত্রা দিয়ে শুরু করে কয়েক সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়, যাতে ঘুমভাব ও মাথা ঘোরা কম হয়। চূড়ান্ত মাত্রা ব্যক্তিভেদে আলাদা এবং সাধারণত দিনে কয়েক ভাগে দেওয়া হয়। কাঁপুনির জন্য সাধারণত কম মাত্রা লাগে।
- প্রতিদিন একই সময়ে খান; পেটে সমস্যা হলে খাবারের সাথে বা পরে খান।
- ডোজ বাদ পড়লে মনে পড়ামাত্র খান, তবে পরের ডোজের সময় কাছাকাছি হলে বাদ দিন; দ্বিগুণ ডোজ নেবেন না।
- হঠাৎ ঔষধ বন্ধ করবেন না, এতে খিঁচুনি বা প্রত্যাহারজনিত সমস্যা হতে পারে; চিকিৎসক ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
প্রিমিডোন লিভারে অনেক ঔষধের ভাঙন দ্রুত করে, ফলে সেগুলোর কার্যকারিতা কমে যেতে পারে। যত ঔষধ খান সব চিকিৎসককে জানান।
- হরমোনযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ (বড়ি, ইমপ্ল্যান্ট, প্যাচ) কাজ না-ও করতে পারে; বিকল্প নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি দরকার।
- ওয়ারফারিন, কর্টিকোস্টেরয়েড, কিছু হার্টের ঔষধ, ডক্সিসাইক্লিন ও আরও অনেক ঔষধের কার্যকারিতা কমতে পারে।
- ফেনিটোইন, কার্বামাজেপিন, ভ্যালপ্রোয়েট ও ল্যামোট্রিজিনের মতো অন্য খিঁচুনিরোধী ঔষধের সাথে পারস্পরিক মাত্রা পরিবর্তন হতে পারে।
- অ্যালকোহল, ঘুমের ঔষধ, শক্তিশালী ব্যথানাশক, ঘুম আনা অ্যান্টিহিস্টামিন ও অন্য সিডেটিভ ঘুমভাব ও শ্বাস ধীর হওয়া বাড়ায়।
- দীর্ঘদিন ব্যবহারে ফলিক এসিড ও ভিটামিন ডি কমে যেতে পারে।
কারা খাবেন না
- প্রিমিডোন বা ফেনোবার্বিটালে অ্যালার্জি থাকলে।
- অ্যাকিউট পরফাইরিয়া (একটি বিরল জিনগত রক্তরোগ) থাকলে।
- গুরুতর শ্বাসকষ্ট বা গুরুতর লিভার বা কিডনি রোগে, যদি না চিকিৎসক অন্যরকম সিদ্ধান্ত নেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
শুরুর দিকে ঘুমভাব, মাথা ঘোরা, ভারসাম্যহীনতা, বমিভাব, ক্লান্তি এবং ঝাপসা বা দুটি করে দেখা সাধারণ; শরীর মানিয়ে নিলে এগুলো প্রায়ই কমে যায়। অন্যান্য প্রভাবের মধ্যে আছে ক্ষুধামন্দা, মাথাব্যথা, মেজাজের পরিবর্তন, খিটখিটে ভাব বা অস্থিরতা (বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের), র্যাশ এবং দীর্ঘদিন ব্যবহারে ফোলেট কমে গিয়ে রক্তস্বল্পতা, হাড় নরম হওয়া ও গিঁট শক্ত হওয়া। ক্ষেত্রবিশেষে ত্বকের গুরুতর প্রতিক্রিয়া, রক্তের রোগ বা লিভারের সমস্যা হতে পারে। অন্য খিঁচুনিরোধী ঔষধের মতো, অল্প কিছু মানুষের নিজেকে ক্ষতি করার চিন্তা আসতে পারে।
ফোসকা, চামড়া ওঠা বা মুখে ঘাসহ ছড়িয়ে পড়া র্যাশ, গলাব্যথাসহ জ্বর বা অস্বাভাবিক কালশিটে, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অতিরিক্ত ঘুমভাব বা ধীর, অগভীর শ্বাস, থামছে না এমন খিঁচুনি, অথবা নিজেকে ক্ষতি করার চিন্তা এলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
প্রিমিডোন জন্মগত ত্রুটির ঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং নবজাতকের রক্তপাতের সমস্যা ও প্রত্যাহারজনিত লক্ষণ সৃষ্টি করতে পারে। সন্তান ধারণে সক্ষম নারীরা শুরু করার আগে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করবেন, নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করবেন এবং পরামর্শমতো ফলিক এসিড খাবেন। গর্ভবতী হলে নিজে থেকে ঔষধ বন্ধ করবেন না, কারণ অনিয়ন্ত্রিত খিঁচুনিও বিপজ্জনক; দ্রুত চিকিৎসকের সাথে দেখা করুন। জন্মের পর নবজাতকের ভিটামিন K লাগতে পারে। প্রিমিডোন বুকের দুধে যায় এবং শিশুকে ঘুমঘুম ও কম দুধ টানার সমস্যায় ফেলতে পারে; শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে বুকের দুধ খাওয়ান এবং শিশুকে নজরে রাখুন।
সতর্কতা
- ঔষধটি আপনাকে কীভাবে প্রভাবিত করে তা না জানা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না।
- এই ঔষধ চলাকালে অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
- দীর্ঘদিন ব্যবহারে নির্ভরতা তৈরি হতে পারে; বন্ধ করতে হবে ধীরে ধীরে।
- বয়স্ক, শিশু এবং লিভার, কিডনি বা ফুসফুসের সমস্যা থাকলে বেশি পর্যবেক্ষণ দরকার।
- দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসায় চিকিৎসক রক্তকণিকা, লিভার ও ভিটামিনের মাত্রা পরীক্ষা করতে পারেন।
- মেজাজ বা আচরণের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখতে পরিবারকে বলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে গভীর ঘুমভাব, বিভ্রান্তি, ভারসাম্যহীনতা, ধীর বা অগভীর শ্বাস, নিম্ন রক্তচাপ ও কোমা হতে পারে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সেবায় ফোন করুন বা হাসপাতালে যান এবং প্যাকেট সাথে নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খিঁচুনিরোধী ঔষধ (বার্বিচুরেট-সম্পর্কিত অ্যান্টিকনভালসেন্ট)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।