ব্যবহার
এটি একটি বহু-স্ট্রেইন প্রোবায়োটিক সাপ্লিমেন্ট, যাতে ১৪টি ভিন্ন স্ট্রেইনের জীবন্ত উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে (সাধারণত ল্যাক্টোব্যাসিলাস, বিফিডোব্যাকটেরিয়াম, স্ট্রেপ্টোকক্কাস থার্মোফিলাস ও এ ধরনের প্রজাতি)। অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে, অ্যান্টিবায়োটিকজনিত ডায়রিয়া কমাতে, ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) এর পেট ফাঁপা ও অনিয়মিত পায়খানার মতো উপসর্গে আরাম দিতে এবং ভ্রমণের সময় বা পেটের গোলমালের পর হজমে সহায়তার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। এটি খাদ্য সাপ্লিমেন্ট, অন্ত্রের গুরুতর রোগের চিকিৎসা নয়।
কীভাবে কাজ করে
প্রোবায়োটিক হলো জীবন্ত অণুজীব, যা যথেষ্ট পরিমাণে খেলে স্বাস্থ্যের উপকার হতে পারে। এই পণ্যের ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রে পৌঁছে ক্ষতিকর জীবাণুকে সরিয়ে রাখতে, অন্ত্রের আস্তরণ সুস্থ রাখার উপাদান তৈরি করতে এবং খাবার হজমে সাহায্য করে। কয়েকটি স্ট্রেইন একসাথে দেওয়ার উদ্দেশ্য হলো স্বাভাবিক অন্ত্র-ব্যাকটেরিয়ার আরও বেশি কাজ পূরণ করা। প্রভাব স্ট্রেইনভেদে আলাদা, সাধারণত হালকা, আর পণ্যটি খাওয়ার সময় পর্যন্তই থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী সেবন করুন, সাধারণত দিনে একবার খাবারের সাথে বা ঠিক আগে পানি দিয়ে গিলে খান। গরম পানীয়ের সাথে খাবেন না, কারণ তাপে ব্যাকটেরিয়া মারা যেতে পারে। অ্যান্টিবায়োটিক খেলে তার থেকে অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে প্রোবায়োটিক নিন এবং অ্যান্টিবায়োটিকের কোর্স শেষ হওয়ার পরও কয়েক দিন চালিয়ে যান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যান্টিবায়োটিক ও ছত্রাকরোধী ঔষধ প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়াকে মেরে ফেলতে পারে; অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
- সাইক্লোস্পোরিন, ট্যাক্রোলিমাস, ক্যান্সারের কেমোথেরাপি বা উচ্চমাত্রার স্টেরয়েডের মতো রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমানো ঔষধ খেলে শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে প্রোবায়োটিক ব্যবহার করুন।
কারা খাবেন না
- রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা খুব দুর্বল হলে, যেমন কেমোথেরাপির সময়, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর বা অগ্রসর এইচআইভিতে, চিকিৎসক না বললে।
- গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তি, যাঁদের বড় শিরায় দীর্ঘমেয়াদি স্যালাইনের লাইন (সেন্ট্রাল লাইন) আছে, বা তীব্র প্যানক্রিয়াটাইটিস আছে।
- কোনো উপাদানে, যেমন দুধের প্রোটিন থাকলে তাতে, অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
প্রথম কয়েক দিনে হালকা গ্যাস, পেট ফাঁপা বা পায়খানার ধরনে পরিবর্তন হতে পারে, যা সাধারণত ঠিক হয়ে যায়। অ্যালার্জি খুব কম হয়।
কাঁপুনি দিয়ে উচ্চ জ্বর, তীব্র পেটব্যথা, রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। খুব গুরুতর অসুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া রক্তে সংক্রমণ ঘটিয়েছে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
প্রচলিত প্রোবায়োটিক স্ট্রেইনগুলো গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত নিরাপদ ধরা হয়, কারণ খুব সামান্যই রক্তে যায়। তবুও এ সময় কোনো সাপ্লিমেন্ট শুরুর আগে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
সতর্কতা
- ডায়রিয়া ২ দিনের বেশি থাকলে, রক্ত থাকলে, অথবা জ্বর বা পানিশূন্যতা থাকলে চিকিৎসকের কাছে যান; শিশুদের ক্ষেত্রে আরও আগে যান।
- অপরিণত (প্রি-ম্যাচিউর) ও খুব ছোট শিশুদের শুধু চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে প্রোবায়োটিক দিন।
- অ্যালার্জি থাকলে লেবেলে দুধ, সয়া বা গ্লুটেন আছে কিনা দেখে নিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে বেশি খেলে বিপদের সম্ভাবনা কম, তবে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা পাতলা পায়খানা বাড়তে পারে। উপসর্গ তীব্র হলে পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রোবায়োটিক খাদ্য সাপ্লিমেন্ট।
সংরক্ষণ
২৫°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন, অথবা প্যাকে বলা থাকলে ফ্রিজে (২ থেকে ৮°C) রাখুন। আর্দ্রতা থেকে বাঁচাতে পাত্রের মুখ শক্ত করে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।