ব্যবহার
প্রোক্লোরপেরাজিন মেসিলেট হলো ফেনোথিয়াজিন গোত্রের ঔষধ প্রোক্লোরপেরাজিনের ইনজেকশন রূপ। এটি বিভিন্ন কারণে (অস্ত্রোপচারের পর, মাইগ্রেন বা ঔষধজনিত) তীব্র বমিভাব ও বমি, মেনিয়ার্স রোগ বা ল্যাবিরিন্থাইটিসের মতো অন্তঃকর্ণের সমস্যাজনিত ভারটিগো ও মাথা ঘোরা, এবং বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে তীব্র সাইকোটিক লক্ষণ বা উত্তেজনার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। একই কাজে ট্যাবলেট রূপ (সাধারণত ম্যালিয়েট লবণ) ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
প্রোক্লোরপেরাজিন মস্তিষ্কের বমি সৃষ্টিকারী অংশে (কেমোরিসেপ্টর ট্রিগার জোন) ডোপামিন D2 রিসেপ্টর ব্লক করে এবং এর অ্যান্টিহিস্টামিন ও অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাবও আছে। এতে বমিভাব, বমি ও মাথা ঘোরা কমে। বেশি মাত্রায় মস্তিষ্কের অন্য অংশে ডোপামিন ব্লক করে সাইকোটিক লক্ষণ কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ইনজেকশনটি ডাক্তার বা নার্স পেশির গভীরে (কখনো কখনো শিরায়) দেন, এবং মাত্রা ডাক্তার ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী ঠিক করেন। ইনজেকশনের সময় ও পরে রোগীকে শুয়ে থাকতে হয়, কারণ এটি রক্তচাপ কমাতে পারে। বমি নিয়ন্ত্রণে এলে প্রায়ই ট্যাবলেটে বদলানো হয়। বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ছাড়া সাধারণত শিশুদের দেওয়া হয় না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যালকোহল, অপিওয়েড, ঘুমের ঔষধ, ঘুম আনা অ্যান্টিহিস্টামিন ও অ্যানেস্থেটিক: ঘুমভাব ও শ্বাস ধীর হওয়া বাড়ে।
- উচ্চ রক্তচাপের ঔষধ: রক্তচাপ আরও কমে যায়।
- অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ (যেমন অ্যাট্রোপিন বা বেনজহেক্সল): মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য ও বিভ্রান্তি বাড়ে।
- মেটোক্লোপ্রামাইড ও অন্য অ্যান্টিসাইকোটিক: নড়াচড়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও নিউরোলেপটিক ম্যালিগন্যান্ট সিন্ড্রোমের ঝুঁকি বাড়ে।
- QT ব্যবধান বাড়ায় এমন ঔষধ (যেমন অ্যামিওডারন, ইরিথ্রোমাইসিন, মেথাডন): হৃৎস্পন্দনের ছন্দের সমস্যার ঝুঁকি।
- লেভোডোপা ও পারকিনসনের অন্য ঔষধ: একটি অন্যটির প্রভাব নষ্ট করতে পারে।
- লিথিয়াম: স্নায়ুর বিষক্রিয়ার ঝুঁকি।
কারা খাবেন না
প্রোক্লোরপেরাজিন বা অন্য ফেনোথিয়াজিনে অ্যালার্জি, কোমা বা গুরুতর স্নায়ুতন্ত্রের অবসাদ, অস্থিমজ্জার রোগ, ফিওক্রোমোসাইটোমা থাকলে এবং ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের দেওয়া যাবে না। পারকিনসন রোগ, ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা বা প্রোস্টেট বড় হলে সাধারণত সুপারিশ করা হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- ঘুমভাব, মাথা ঘোরা, দাঁড়ালে রক্তচাপ কমে যাওয়া।
- ঘাড়, মুখ বা চোখের পেশিতে খিঁচুনি, অস্থিরতা, কাঁপুনি ও পেশি শক্ত হওয়ার মতো নড়াচড়ার সমস্যা (তরুণ ও শিশুদের বেশি)।
- মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবে অসুবিধা।
- ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা।
- কদাচিৎ: জন্ডিস, শ্বেতকণিকা কমে যাওয়া, সূর্যের আলোয় ত্বকের সংবেদনশীলতা।
পেশি শক্ত হওয়া, ঘাম ও বিভ্রান্তিসহ উচ্চ জ্বর (নিউরোলেপটিক ম্যালিগন্যান্ট সিন্ড্রোম), হঠাৎ তীব্র পেশির খিঁচুনি, মুখ বা জিহ্বার অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া, খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অজ্ঞান হওয়া, খিঁচুনি, গলা ব্যথাসহ জ্বর, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা মুখ ও গলা ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার প্রয়োজনীয় মনে করলেই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা হয়। শেষ ৩ মাসে এর সংস্পর্শে আসা শিশুর জন্মের পর নড়াচড়ার সমস্যা বা ঔষধ ছাড়ার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যাবে কিনা তা ডাক্তার বলে দেবেন।
সতর্কতা
বয়স্করা, বিশেষ করে ডিমেনশিয়া আক্রান্তরা, এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার প্রতি বেশি সংবেদনশীল এবং অ্যান্টিসাইকোটিকে তাদের স্ট্রোক ও মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি। হৃদরোগ, মৃগী, লিভার বা কিডনির রোগ, পারকিনসন রোগ, ডায়াবেটিস, মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস ও থাইরয়েডের কম কার্যকারিতায় সাবধানে ব্যবহার করুন। ঘুমভাব হতে পারে, তাই পরে গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না। অ্যালকোহল ও তীব্র রোদ এড়িয়ে চলুন। এক-দুই দিনের বেশি বমি হলে কারণ খুঁজে বের করতে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে গভীর ঘুমভাব, নিম্ন রক্তচাপ, নড়াচড়ার সমস্যা, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, খিঁচুনি ও কোমা হতে পারে। হাসপাতালে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ফেনোথিয়াজিন বমিরোধক ও অ্যান্টিসাইকোটিক।
সংরক্ষণ
হাসপাতালে ব্যবহৃত ঔষধ: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী অ্যাম্পুল ৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখুন। দ্রবণের রং বদলালে ব্যবহার করবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।