ব্যবহার
প্রোসাইক্লিডিন হাইড্রোক্লোরাইড ব্যবহার হয়:
- অ্যান্টিসাইকোটিক ঔষধের কারণে হওয়া নড়াচড়ার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, যেমন শরীর শক্ত হওয়া, কাঁপুনি, অস্থিরতা ও হঠাৎ পেশিতে টান (অ্যাকিউট ডিসটোনিয়া) এর চিকিৎসায়;
- পারকিনসন্স রোগের আড়ষ্টতা, কাঁপুনি ও ধীরগতি কমাতে, সাধারণত অন্য ঔষধের সাথে।
কীভাবে কাজ করে
প্রোসাইক্লিডিন একটি অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ। পারকিনসন্স রোগে, বা অ্যান্টিসাইকোটিক ডোপামিন বন্ধ করলে, মস্তিষ্কের রাসায়নিক অ্যাসিটাইলকোলিন ডোপামিনের তুলনায় বেশি সক্রিয় হয়ে যায়। প্রোসাইক্লিডিন অ্যাসিটাইলকোলিনকে বাধা দিয়ে এই ভারসাম্য ফিরিয়ে আনে, ফলে আড়ষ্টতা, কাঁপুনি ও পেশির টান কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক, ট্যাবলেট: সাধারণত দিনে তিনবার ২.৫ mg দিয়ে শুরু, খাবারের পরে। লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত ডাক্তার কয়েক দিন পরপর দিনে ২.৫ mg করে ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়াতে পারেন। চূড়ান্ত মাত্রা প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী; বয়স্কদের সাধারণত কম মাত্রা লাগে।
হঠাৎ তীব্র পেশির টান: ডাক্তার বা নার্স মাংসপেশি বা শিরায় ইনজেকশন দিতে পারেন।
হঠাৎ বন্ধ করবেন না, কারণ লক্ষণ তীব্রভাবে ফিরে আসতে পারে; ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন। শিশু: সাধারণত ব্যবহার হয় না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাবযুক্ত অন্য ঔষধ (যেমন অ্যামিট্রিপটিলিন ও অন্য ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট, কিছু অ্যান্টিহিস্টামিন, ক্লোরপ্রোমাজিন ও ক্লোজাপিন) মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাব আটকে যাওয়া ও বিভ্রান্তি বাড়ায়।
- অ্যালকোহল ও ঘুমের ঔষধ ঝিমুনি বাড়ায়।
- প্রোসাইক্লিডিন পাকস্থলী খালি হওয়া ধীর করে কিছু ঔষধের শোষণ বদলাতে পারে।
- এটি মেটোক্লোপ্রামাইড ও ডমপেরিডনের মতো ঔষধের কাজ কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- ন্যারো-অ্যাঙ্গেল (অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার) গ্লুকোমা থাকলে
- প্রস্রাবে কষ্ট, যেমন প্রোস্টেট বড় হওয়ার কারণে
- পাকস্থলী বা অন্ত্রে বাধা থাকলে
- মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস থাকলে
- প্রোসাইক্লিডিনে এলার্জি থাকলে
- টার্ডিভ ডিসকিনেসিয়া (দেরিতে শুরু হওয়া অনিচ্ছাকৃত নড়াচড়া) থাকলে, কারণ এটি বাড়তে পারে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মুখ শুকিয়ে যাওয়া, ঝাপসা দেখা, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবে কষ্ট, মাথা ঘোরা ও ঝিমুনি। কম ক্ষেত্রে: অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, স্মৃতির সমস্যা, দ্রুত হৃদস্পন্দন ও র্যাশ। বয়স্কদের বিভ্রান্তি হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
চোখ লাল ও ঝাপসাসহ চোখে তীব্র ব্যথা (হঠাৎ গ্লুকোমা হতে পারে), একদম প্রস্রাব না হওয়া, তীব্র বিভ্রান্তি বা হ্যালুসিনেশন, গরম ও শুকনো ত্বকসহ খুব বেশি জ্বর, বা এলার্জির লক্ষণ হলে সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত; ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলেই ব্যবহার করুন। এটি বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই, এবং অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ দুধ কমাতে পারে; বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- ঝিমুনি ও ঝাপসা দেখা হতে পারে; ঔষধটি আপনার উপর কী প্রভাব ফেলে তা না জানা পর্যন্ত গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না।
- এটি ঘাম কমায়, তাই গরম আবহাওয়ায় বা ব্যায়ামের সময় শরীর বেশি গরম হওয়া এড়িয়ে চলুন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- বয়স্ক এবং হৃদরোগ, লিভার বা কিডনির রোগ, প্রোস্টেট বড় হওয়া বা গ্লুকোমার ইতিহাস থাকলে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
- মেজাজের উপর প্রভাবের কারণে এটির অপব্যবহার হতে পারে; শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী খান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন, চোখের মণি বড় হওয়া, দ্রুত হৃদস্পন্দন, উচ্চ তাপমাত্রা, গরম শুকনো ত্বক, প্রস্রাব না হওয়া ও খিঁচুনি হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিকোলিনার্জিক (অ্যান্টিমাসকারিনিক) পারকিনসনরোধী ঔষধ।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।