ব্যবহার
প্রোপাফেনোন হৃৎস্পন্দনের কিছু অস্বাভাবিক ছন্দ (অ্যারিদমিয়া) প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, যেমন প্যারক্সিসমাল এট্রিয়াল ফাইব্রিলেশন (হৃৎপিণ্ডের উপরের প্রকোষ্ঠ থেকে শুরু হওয়া দ্রুত ও অনিয়মিত স্পন্দনের পর্ব) এবং কিছু গুরুতর ভেন্ট্রিকুলার অ্যারিদমিয়া, যাদের হৃৎপিণ্ডের গঠন মোটামুটি স্বাভাবিক। চিকিৎসক, প্রায়ই হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ, এটি শুরু ও পর্যবেক্ষণ করেন।
কীভাবে কাজ করে
প্রোপাফেনোন হৃৎপেশির কোষে সোডিয়াম প্রবেশ ধীর করে। এতে হৃৎপিণ্ডের বৈদ্যুতিক সংকেত স্থির হয় এবং স্বাভাবিক ছন্দ বজায় রাখতে সাহায্য করে। এর হালকা বিটা-ব্লকিং প্রভাবও আছে, যা হৃৎস্পন্দন কিছুটা কমাতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশমতো সেবন করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি ৮ ঘণ্টায় ১৫০ mg দিয়ে শুরু করা হয়, এবং প্রতিক্রিয়া, ইসিজি ফলাফল ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনুযায়ী চিকিৎসক ধীরে ধীরে বাড়াতে পারেন (যেমন প্রতি ৮ থেকে ১২ ঘণ্টায় ৩০০ mg)। খাবারের পর পানি দিয়ে ট্যাবলেট আস্ত গিলে খান। পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ বন্ধ করবেন না বা মাত্রা বদলাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অনেক ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া হয়। প্রোপাফেনোন ডিগক্সিন, ওয়ারফারিন, মেটোপ্রোললের মতো বিটা ব্লকার এবং সাইক্লোস্পোরিনের মাত্রা বাড়াতে পারে। কেটোকোনাজোল, ইরিথ্রোমাইসিন, ক্লারিথ্রোমাইসিন, রিটোনাভির, ফ্লুওক্সেটিন, প্যারোক্সেটিন, কুইনিডিন ও সিমেটিডিন প্রোপাফেনোনের মাত্রা বাড়াতে পারে। রিফামপিসিন মাত্রা কমাতে পারে। অন্য ছন্দনিয়ন্ত্রক ঔষধ ও QT বাড়ানো ঔষধ ঝুঁকি বাড়ায়। গ্রেপফ্রুটের রস এড়িয়ে চলুন। আপনি যেসব ঔষধ খান সব চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
অনিয়ন্ত্রিত হার্ট ফেইলিউর, হৃৎপিণ্ডজনিত শক, সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাক (অনেক ক্ষেত্রে), খুব ধীর হৃৎস্পন্দন, পেসমেকার ছাড়া নির্দিষ্ট হার্ট ব্লক বা পরিবহন সমস্যা, ব্রুগাডা সিনড্রোম, খুব নিম্ন রক্তচাপ, তীব্র হাঁপানি বা সিওপিডি, গুরুতর লবণের ভারসাম্যহীনতা, মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস, বা প্রোপাফেনোনে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো মাথা ঘোরা, মুখে ধাতব বা তেতো স্বাদ, বমি ভাব, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, ঝাপসা দেখা ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া।
অজ্ঞান হওয়া, বুকে ব্যথা, নতুন বা বেড়ে যাওয়া অনিয়মিত, খুব ধীর বা খুব দ্রুত হৃৎস্পন্দন, শ্বাসকষ্ট বা গোড়ালি ফোলা বেড়ে যাওয়া, না সারা জ্বর বা গলা ব্যথা (শ্বেতকণিকা কমে যাওয়ার লক্ষণ হতে পারে), অথবা অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলে তবেই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করুন। এটি বুকের দুধে যায়; বুকের দুধ খাওয়ানোর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
নিয়মিত ইসিজি ও চেকআপ দরকার। এই ধরনের অন্য ঔষধের মতো এটিও কখনো কখনো নতুন বা আরও খারাপ অ্যারিদমিয়া ঘটাতে পারে। লিভার বা কিডনি রোগ, বয়স্ক এবং পেসমেকার আছে এমন ব্যক্তিদের সাবধানে ব্যবহার করুন (পেসমেকারের সেটিং যাচাই লাগতে পারে)। পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের গরমিল আগে ঠিক করতে হবে। মাথা ঘোরাতে পারে: গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবন বিপজ্জনক এবং খুব নিম্ন রক্তচাপ, ধীর বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, খিঁচুনি ও জ্ঞান হারানো ঘটাতে পারে। সাথে সাথে নিকটস্থ হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্লাস IC অ্যান্টিঅ্যারিদমিক (হৃৎছন্দ নিয়ন্ত্রক ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।