ব্যবহার
প্রোপ্রানোলল উচ্চ রক্তচাপ, এনজাইনা (হৃৎপিণ্ডে রক্ত কম পৌঁছানোর কারণে বুকে ব্যথা) এবং কিছু ধরনের অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। মাইগ্রেন প্রতিরোধ, হাত কাঁপা (এসেনশিয়াল ট্রেমর) কমানো এবং দুশ্চিন্তার শারীরিক লক্ষণ যেমন বুক ধড়ফড় ও কাঁপুনি কমাতেও এটি দেওয়া হয়। হার্ট অ্যাটাকের পরে, থাইরয়েড বেশি সক্রিয় হলে তার লক্ষণ কমাতে এবং লিভারের রোগে খাদ্যনালির ফোলা শিরা থেকে রক্তপাতের ঝুঁকি কমাতেও ডাক্তার এটি দিতে পারেন।
কীভাবে কাজ করে
প্রোপ্রানোলল একটি বিটা-ব্লকার। এটি হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালিতে অ্যাড্রেনালিনের প্রভাব আটকে দেয়, ফলে হৃৎস্পন্দন ধীর ও শান্ত হয়। এতে রক্তচাপ কমে, হৃৎপিণ্ডের অক্সিজেনের চাহিদা কমে এবং মানসিক চাপের শারীরিক লক্ষণ প্রশমিত হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- দুশ্চিন্তার লক্ষণে: সাধারণত দিনে একবার ৪০ mg; ডাক্তার প্রয়োজনে দিনে দুই বা তিনবার ৪০ mg পর্যন্ত বাড়াতে পারেন।
- মাইগ্রেন প্রতিরোধ ও হাত কাঁপায়: সাধারণত শুরুতে ৪০ mg দিনে দুই বা তিনবার, পরে ডাক্তার মাত্রা ঠিক করবেন।
- উচ্চ রক্তচাপে: সাধারণত ৪০ mg দিনে দুইবার দিয়ে শুরু, প্রয়োজনে ডাক্তার ধীরে ধীরে বাড়াবেন।
- এনজাইনা, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, হার্ট অ্যাটাকের পরে, থাইরয়েড ও লিভারের রোগে: ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী।
- শিশুদের ক্ষেত্রে: ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী।
প্রতিদিন একই সময়ে মুখে খান। মডিফায়েড-রিলিজ ক্যাপসুল দিনে একবার, না ভেঙে পুরোটা গিলে খেতে হয়। হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তার ১ থেকে ২ সপ্তাহ ধরে ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
আপনার সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান। ভেরাপামিল ও ডিলটিয়াজেম একসাথে খেলে হৃৎস্পন্দন খুব ধীর হয়ে যেতে পারে। অন্য রক্তচাপের ঔষধ, অ্যামিওডারোন ও ডিগোক্সিন এর প্রভাব বাড়াতে পারে। ক্লোনিডিন খেলে নিজে থেকে ক্লোনিডিন বন্ধ করবেন না, কারণ রক্তচাপ হঠাৎ অনেক বেড়ে যেতে পারে। ইনসুলিন বা ডায়াবেটিসের ট্যাবলেট খেলে রক্তে চিনি কমে যাওয়ার সতর্ক লক্ষণ এটি ঢেকে দিতে পারে। আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশক এর কাজ কমাতে পারে, আর সিমেটিডিন ও ফ্লুভক্সামিন এর মাত্রা বাড়াতে পারে। সালবিউটামল ইনহেলারের কাজও এটি কমিয়ে দিতে পারে। মদ্যপানে মাথা ঘোরা বাড়ে।
কারা খাবেন না
- হাঁপানি বা আগে শ্বাসনালি সংকুচিত হয়ে শোঁ শোঁ শব্দ হওয়ার ইতিহাস থাকলে।
- হৃৎস্পন্দন খুব ধীর, হার্ট ব্লক বা সিক সাইনাস সিনড্রোম থাকলে।
- নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা হার্ট ফেইলিওর বা হার্ট ফেইলিওরজনিত শক থাকলে।
- রক্তচাপ খুব কম হলে বা পায়ে রক্ত চলাচলের গুরুতর সমস্যা থাকলে।
- চিকিৎসা না হওয়া ফিওক্রোমোসাইটোমা (অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির টিউমার) বা মেটাবলিক অ্যাসিডোসিস থাকলে।
- প্রোপ্রানোললে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ক্লান্তি, হাত-পা ঠান্ডা থাকা, নাড়ি ধীর হওয়া, ঘুমের সমস্যা, স্পষ্ট স্বপ্ন দেখা, বমি বমি ভাব ও পাতলা পায়খানা। কম দেখা যায়: মাথা ঘোরা, মন খারাপ থাকা, আঙুল অবশ লাগা ও চুল পাতলা হওয়া।
শ্বাসকষ্ট বা বুকে শোঁ শোঁ শব্দ, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, নাড়ি খুব ধীর হওয়া, বুকের ব্যথা বেড়ে যাওয়া, শ্বাসকষ্টের সাথে গোড়ালি ফোলা, অথবা র্যাশ বা মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলার মতো এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে খাবেন। এটি শিশুর বৃদ্ধি কমাতে পারে এবং জন্মের পর নবজাতকের হৃৎস্পন্দন ধীর বা রক্তে চিনি কম হতে পারে, তাই জন্মের পর শিশুকে পরীক্ষা করা উচিত। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় খাওয়া যায়, তবে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন এবং শিশু বেশি ঘুমায় বা কম খায় কিনা খেয়াল রাখুন।
সতর্কতা
কখনও হঠাৎ বন্ধ করবেন না, এতে বুকে ব্যথা বা হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের রোগ, লিভার বা কিডনির রোগ, সোরিয়াসিস, মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস ও রক্ত চলাচলের সমস্যায় সাবধানে ব্যবহার করুন। যেকোনো অপারেশনের আগে ডাক্তার বা দাঁতের ডাক্তারকে জানান যে আপনি এটি খান। মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি হতে পারে, তাই গাড়ি চালানোর সময় সতর্ক থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেয়ে ফেললে হৃৎস্পন্দন খুব ধীর, রক্তচাপ খুব কম, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া, শ্বাসকষ্ট, রক্তে চিনি কমে যাওয়া ও খিঁচুনি হতে পারে। দেরি না করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নন-সিলেক্টিভ বিটা-অ্যাড্রেনার্জিক ব্লকার (বিটা-ব্লকার)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।