ব্যবহার
এটি প্রোটিন, চর্বি, শর্করা, ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ একটি সম্পূর্ণ ও সুষম পুষ্টি ফর্মুলা। মূলত সেই শিশুদের জন্য (সাধারণত প্রায় ১ বছর বয়স থেকে) তৈরি যারা খেতে চায় না, ওজন কম, অসুস্থতা থেকে সেরে উঠছে বা স্বাভাবিক খাবার থেকে যথেষ্ট পুষ্টি পাচ্ছে না। এটি খাবারের পাশাপাশি সম্পূরক হিসেবে, অথবা চিকিৎসকের পরামর্শে কিছু সময়ের জন্য প্রধান পুষ্টির উৎস হিসেবে দেওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
এটি বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ও উপাদান জোগায়: মাংসপেশি ও টিস্যুর জন্য প্রোটিন, শক্তির জন্য চর্বি ও শর্করা, আর হাড়, রক্ত ও রোগ প্রতিরোধের জন্য ভিটামিন ও খনিজ (যেমন ক্যালসিয়াম, আয়রন, জিংক ও ভিটামিন ডি)। কিছু ফর্মুলায় হজমে সাহায্যের জন্য আঁশ বা প্রিবায়োটিকও থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী সাথে দেওয়া চামচ ও ফুটিয়ে ঠান্ডা করা নিরাপদ পানি দিয়ে তৈরি করুন। সম্পূরক হিসেবে সাধারণত দিনে ১ থেকে ২ বার দেওয়া হয়, তবে পরিমাণ বয়স, ওজন ও প্রয়োজনের ওপর নির্ভর করে, তাই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ মানুন। তৈরি করা দুধ প্যাকে লেখা সময়ের মধ্যে খাওয়ান এবং বেঁচে যাওয়া অংশ ফেলে দিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ঔষধের সাথে উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া আশা করা হয় না। এতে থাকা খনিজ (যেমন ক্যালসিয়াম ও আয়রন) একই সময়ে খেলে সিপ্রোফ্লক্সাসিন বা টেট্রাসাইক্লিনের মতো কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের শোষণ কমাতে পারে; প্রায় ২ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন।
কারা খাবেন না
- ১ বছরের কম বয়সী শিশু, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া
- গ্যালাকটোসেমিয়া (বিরল বংশগত রোগ) থাকলে
- দুধের প্রোটিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- স্বাস্থ্যকর্মীর নির্দেশ ছাড়া ইনজেকশন বা টিউবে খাওয়ানোর জন্য নয়
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। শুরুতে কিছু শিশুর হালকা পেট ফাঁপা, গ্যাস, পাতলা পায়খানা বা কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে।
খাওয়ার পর মুখ বা ঠোঁট ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে চাকা চাকা র্যাশ বা বারবার বমি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন, কারণ এটি দুধে অ্যালার্জির লক্ষণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এই ফর্মুলা শিশুদের জন্য তৈরি। গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মায়েদের বাড়তি পুষ্টির দরকার হলে তাঁদের জন্য তৈরি পণ্য ব্যবহার করা উচিত বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
সতর্কতা
এটি সুষম খাবারের বিকল্প নয়। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নভাবে ও সঠিক ঘনত্বে তৈরি করুন; বেশি ঘন বা বেশি পাতলা হলে ক্ষতি হতে পারে। ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ বা বিশেষ খাদ্য চাহিদা থাকা শিশুদের শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে দিন। কৌটা ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা মেয়াদ শেষ হলে ব্যবহার করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খাওয়ালে পেটের অস্বস্তি, ডায়রিয়া বা অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন বৃদ্ধি হতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত খেলে কিছু ভিটামিন বেশি জমে যেতে পারে; নির্ধারিত পরিমাণ মেনে চলুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পুষ্টি সম্পূরক (শিশুদের সম্পূর্ণ পুষ্টি ফর্মুলা)।
সংরক্ষণ
না খোলা কৌটা ৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। খোলার পর ভালোভাবে বন্ধ রাখুন এবং প্যাকে লেখা সময়ের মধ্যে, সাধারণত ৩ থেকে ৪ সপ্তাহে, শেষ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।