ব্যবহার
সিউডোএফেড্রিন একটি নাক বন্ধ দূর করার ঔষধ (ডিকনজেস্ট্যান্ট), যা সর্দি, ফ্লু, সাইনাসের প্রদাহ ও অ্যালার্জিজনিত সর্দিতে নাক ও সাইনাস বন্ধ ভাব কমাতে ব্যবহৃত হয়। অ্যালার্জির উপসর্গ ও নাক বন্ধ দুটোই কমাতে এটি প্রায়ই ফেক্সোফেনাডিন বা লোরাটাডিনের মতো অ্যান্টিহিস্টামিনের সাথে মিশিয়ে দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি নাক ও সাইনাসের ছোট রক্তনালিগুলোকে সংকুচিত করে। এতে নাকের ভেতরের আবরণের ফোলা কমে, শ্বাসপথ খুলে যায় এবং শ্লেষ্মা সহজে বেরিয়ে আসে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য সাধারণ ট্যাবলেটের মাত্রা প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টায় ৬০ mg, ২৪ ঘণ্টায় ২৪০ mg এর বেশি নয়। ধীরে নিঃসরিত মিশ্র ট্যাবলেট সাধারণত লেবেলের নির্দেশমতো দিনে ১ বা ২ বার খেতে হয় এবং আস্ত গিলতে হয়, ভাঙা বা চিবানো যাবে না। ঘুমের সমস্যা এড়াতে শেষ মাত্রা ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে নিন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ৭ দিনের বেশি খাবেন না। ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের শুধু চিকিৎসকের নির্দেশে দিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
সেলেজিলিন, মক্লোবেমাইড বা লিনেজোলিডের মতো MAO ইনহিবিটর খাওয়ার সময় বা বন্ধের ১৪ দিনের মধ্যে এটি খাবেন না, এতে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে যেতে পারে। ফিনাইলেফ্রিন, এফেড্রিন বা বেশি ক্যাফেইনযুক্ত পণ্যের মতো অন্য উত্তেজক ঔষধ এড়িয়ে চলুন। এটি রক্তচাপের ঔষধের কার্যকারিতা কমাতে পারে এবং ডিগক্সিন বা কিছু বিষণ্ণতারোধী ঔষধের সাথে হৃদ্স্পন্দনের সমস্যা বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
গুরুতর বা অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, গুরুতর করোনারি হৃদ্রোগ, MAO ইনহিবিটর গ্রহণ বা সম্প্রতি গ্রহণ করে থাকলে, অথবা সিউডোএফেড্রিনে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। গুরুতর কিডনি রোগ, থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা, ক্লোজড-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা ও ফিওক্রোমোসাইটোমায় (অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির টিউমার) সাধারণত এড়ানো হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- ঘুমের সমস্যা, অস্থিরতা ও নার্ভাস লাগা
- বুক ধড়ফড় বা দ্রুত হৃদ্স্পন্দন
- মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া
- ক্ষুধামান্দ্য ও বমি বমি ভাব
- প্রস্রাবে কষ্ট, বিশেষ করে প্রোস্টেট বড় থাকা পুরুষদের
বুকে ব্যথা, খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন, হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, অলীক কিছু দেখা বা শোনা, হঠাৎ পেটব্যথা বা মলদ্বার দিয়ে রক্তপাত, অথবা গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে এড়িয়ে চলুন এবং পরবর্তী সময়ে শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে খান। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায় এবং দুধের পরিমাণ কমাতে পারে, তাই চিকিৎসক না বললে স্তন্যদানকালে এড়ানোই ভালো।
সতর্কতা
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদ্রোগ, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা, গ্লুকোমা, প্রোস্টেট বড় হওয়া বা কিডনির সমস্যা থাকলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। বয়স্করা পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বেশি সংবেদনশীল হতে পারেন। একসাথে একাধিক নাক বন্ধের ঔষধযুক্ত পণ্য খাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে তীব্র অস্থিরতা, খুব উচ্চ রক্তচাপ, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদ্স্পন্দন, অলীক অনুভূতি, খিঁচুনি ও প্রস্রাবে কষ্ট হতে পারে। দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নাকের ডিকনজেস্ট্যান্ট; সিমপ্যাথোমিমেটিক (আলফা-অ্যাড্রেনার্জিক অ্যাগোনিস্ট)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুষ্ক ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।