ব্যবহার
পাইরাজিনামাইড যক্ষ্মা (টিবি) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি সবসময় অন্য যক্ষ্মার ঔষধের সাথে দেওয়া হয়, সাধারণত আইসোনিয়াজিড, রিফামপিসিন ও ইথামবিউটল, চিকিৎসার প্রথম দুই মাসে (ইনটেনসিভ পর্যায়)। অনেক সময় কয়েকটি যক্ষ্মার ঔষধ একসাথে থাকা কম্বিনেশন ট্যাবলেটে এটি পাওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
পাইরাজিনামাইড যক্ষ্মার জীবাণু মেরে ফেলে, বিশেষ করে যেগুলো কোষের ভেতরে বা শরীরের অম্লীয় জায়গায় লুকিয়ে থাকে, যেখানে অন্য ঔষধ কম কাজ করে। এতে যক্ষ্মার মোট চিকিৎসার সময় কমে আসে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা শরীরের ওজন অনুযায়ী ডাক্তার বা টিবি কর্মসূচি ঠিক করে দেয়, তাই নির্দেশনা অনুযায়ী খান। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রতি কেজি ওজনে প্রায় ২৫ mg, দিনে একবার। কম্বিনেশন ট্যাবলেট ওজনের ধাপ অনুযায়ী দেওয়া হয়। শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী, ডাক্তারের নির্দেশমতো। প্রতিদিন একই সময়ে, সম্ভব হলে খালি পেটে, অন্য যক্ষ্মার ঔষধের সাথে খান। কোনো ডোজ বাদ দেবেন না এবং ভালো লাগলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যালোপিউরিনল ও প্রোবেনেসিড: পাইরাজিনামাইড ইউরিক অ্যাসিড বাড়ায়, ফলে গেঁটেবাতের এই ঔষধগুলো কম কাজ করতে পারে।
- লিভারের ক্ষতি করতে পারে এমন অন্য ঔষধ ও অ্যালকোহল লিভারের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়।
- ডায়াবেটিসে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণ কঠিন করতে পারে এবং প্রস্রাবে কিটোন পরীক্ষার ফল প্রভাবিত করতে পারে।
কারা খাবেন না
- গুরুতর লিভারের রোগ থাকলে।
- গেঁটেবাতের তীব্র আক্রমণ চলাকালীন।
- পরফাইরিয়া (একটি বিরল বংশগত রক্তের রোগ) থাকলে।
- পাইরাজিনামাইডে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: গিঁটে ব্যথা, ইউরিক অ্যাসিড বেড়ে যাওয়া, বমিভাব, ক্ষুধা কমা, মুখ লাল হওয়া, র্যাশ এবং রোদে ত্বকের সংবেদনশীলতা। কম দেখা যায়: গেঁটেবাতের আক্রমণ এবং লিভারে প্রদাহ (হেপাটাইটিস)।
চোখ বা ত্বক হলুদ হলে, প্রস্রাব গাঢ় হলে, বারবার বমি বা পেটব্যথা হলে, অস্বাভাবিক ক্লান্তি লাগলে, গুরুতর বা ফোস্কাযুক্ত র্যাশ হলে, অথবা কোনো গিঁট গরম, খুব ব্যথাযুক্ত ও ফোলা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসা না করা যক্ষ্মা মা ও শিশু দুজনের জন্যই বিপজ্জনক। ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে গর্ভাবস্থায় যক্ষ্মার নিয়মিত চিকিৎসার অংশ হিসেবে পাইরাজিনামাইড ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায়; যক্ষ্মার চিকিৎসার সময় সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া হয়, তবে শিশুর জন্ডিস বা র্যাশ হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখতে হয়। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
সতর্কতা
- চিকিৎসার আগে ও চলাকালীন লিভারের রক্ত পরীক্ষা করা হতে পারে, বিশেষ করে লিভারের রোগ বা বেশি মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে।
- গেঁটেবাত, ডায়াবেটিস বা কিডনির রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান; মাত্রা বা সময়সূচি বদলাতে হতে পারে।
- অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন এবং কড়া রোদ কম লাগান।
- আগেভাগে ঔষধ বন্ধ করলে ঔষধ-প্রতিরোধী যক্ষ্মা হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে লিভারের ক্ষতি হতে পারে। কোনো লক্ষণ না থাকলেও সাথে সাথে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
যক্ষ্মা-রোধী ঔষধ (প্রথম সারির)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।