ব্যবহার
পাইরিমেথামিন একটি পরজীবীনাশক ঔষধ। মানুষের ক্ষেত্রে এটি মূলত সালফাডায়াজিনের মতো সালফোনামাইডের সাথে টক্সোপ্লাজমোসিসের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি টক্সোপ্লাজমা গন্ডি নামের পরজীবীর সংক্রমণ, যা গর্ভাবস্থায়, নবজাতকের এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষের জন্য গুরুতর হতে পারে। সালফাডক্সিনের সাথে মিলিয়ে ম্যালেরিয়াতেও এটি ব্যবহৃত হয়েছে, যদিও প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হওয়ায় এখন এ ব্যবহার সীমিত। পাইরিমেথামিন ও সালফোনামাইডযুক্ত কিছু মিশ্র পণ্য প্রাণীর জন্য তৈরি (যেমন হাঁস মুরগির কক্সিডিওসিস চিকিৎসায়); সেগুলো শুধু পশু চিকিৎসার জন্য।
কীভাবে কাজ করে
পাইরিমেথামিন পরজীবীর ডাইহাইড্রোফোলেট রিডাক্টেজ নামের একটি এনজাইম বন্ধ করে। পরজীবী এই এনজাইম দিয়ে ফলিক অ্যাসিড তৈরি করে, যা দিয়ে সে নিজের ডিএনএ কপি করে ও সংখ্যায় বাড়ে। সালফোনামাইড একই পথের আগের একটি ধাপ বন্ধ করে, তাই দুটি ঔষধ একসাথে অনেক ভালো কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
টক্সোপ্লাজমোসিসের মাত্রা বেশি, রোগীভেদে আলাদা এবং চিকিৎসকই তা ঠিক করবেন; ঠিক যেভাবে দেওয়া হয়েছে সেভাবে খান, সাধারণত কয়েক সপ্তাহ ধরে। অস্থিমজ্জা রক্ষায় সাধারণত একই সাথে ফোলিনিক অ্যাসিড (ক্যালসিয়াম ফোলিনেট) দেওয়া হয়। শিশুদের মাত্রা শরীরের ওজন অনুযায়ী। পেটের অস্বস্তি কমাতে খাবারের সাথে খান। পশুর পণ্য শুধু লেবেলের নির্দেশ বা পশু চিকিৎসকের পরামর্শমতো ব্যবহার করুন; এগুলো মানুষের জন্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মেথোট্রেক্সেট, ট্রাইমেথোপ্রিম, কো-ট্রাইমক্সাজোল, প্রোগুয়ানিল ও জিডোভুডিনের মতো যে ঔষধ ফোলেট কমায় বা অস্থিমজ্জায় প্রভাব ফেলে, সেগুলোর সাথে রক্তের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ে। লোরাজেপামের সাথে মিলিয়ে খেলে লিভারের সমস্যার কথা জানা গেছে। ফলিক অ্যাসিড (ফোলিনিক অ্যাসিড নয়) পরজীবীর বিরুদ্ধে এর কাজ কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
পাইরিমেথামিনে অ্যালার্জি থাকলে, বা ফোলেটের ঘাটতিজনিত মেগালোব্লাস্টিক রক্তস্বল্পতা থাকলে খাবেন না। সালফা ঔষধে অ্যালার্জি থাকলে সালফোনামাইডযুক্ত মিশ্র পণ্য ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- ক্ষুধামান্দ্য, বমিভাব ও বমি
- রক্তকণিকা কমে যাওয়া (রক্তস্বল্পতা, শ্বেত কণিকা বা প্লেটলেট কমা), বিশেষ করে বেশি মাত্রায়
- ত্বকে র্যাশ
- মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা
গলা ব্যথা, জ্বর, মুখে ঘা, অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা ফ্যাকাশে ভাব, ফোসকা পড়া বা চামড়া ওঠা র্যাশ, অথবা খিঁচুনি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় টক্সোপ্লাজমোসিসের চিকিৎসায় শুধু বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে, সাধারণত প্রথম ৩ মাসের পরে এবং ফোলিনিক অ্যাসিডসহ, এটি দেওয়া যেতে পারে। এটি বুকের দুধে যায়; বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
সতর্কতা
চিকিৎসার সময় নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা লাগে, প্রায়ই সপ্তাহে একবার বা দুবার। মৃগী, লিভার বা কিডনির রোগ, অথবা ফোলেটের ঘাটতি বা হাঁপানির ইতিহাস থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। ট্যাবলেট শিশুদের থেকে দূরে রাখুন, কারণ ভুলবশত খেয়ে ফেললে খুব বিপজ্জনক। পশুর পণ্যের ক্ষেত্রে মাংস বা ডিম খাওয়ার আগে লেবেলে দেওয়া প্রত্যাহারকাল মেনে চলতে হবে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত মাত্রায় বমি, খিঁচুনি, শ্বাসের সমস্যা ও রক্তের গুরুতর সমস্যা হতে পারে এবং শিশুদের ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রোটোজোয়া ও ম্যালেরিয়া প্রতিরোধী, ডাইহাইড্রোফোলেট রিডাক্টেজ প্রতিরোধক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।