ব্যবহার
কোয়ারসেটিন একটি প্রাকৃতিক উদ্ভিজ্জ রঞ্জক (ফ্ল্যাভোনয়েড), যা পেঁয়াজ, আপেল, বেরি, চা এবং আরও অনেক ফল ও সবজিতে পাওয়া যায়। এটি খাদ্য সম্পূরক হিসেবে একা বা ভিটামিন সি এর মতো ভিটামিনের সাথে বিক্রি হয়। সাধারণত যে কারণে নেওয়া হয়:
- সাধারণ স্বাস্থ্যের সহায়ক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সম্পূরক হিসেবে
- মৌসুমি অ্যালার্জি ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সহায়তায়
- হৃদযন্ত্র ও রক্তনালির স্বাস্থ্যের পণ্যের অংশ হিসেবে
এ নিয়ে গবেষণা এখনো সীমিত, এবং সঠিক চিকিৎসার বদলে কোনো রোগের চিকিৎসায় কোয়ারসেটিন ব্যবহার করা উচিত নয়।
কীভাবে কাজ করে
কোয়ারসেটিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ কোষের ক্ষতি করতে পারে এমন অস্থির অণু (ফ্রি র্যাডিক্যাল) নিষ্ক্রিয় করতে সাহায্য করে। এটি রোগপ্রতিরোধ কোষ থেকে হিস্টামিনসহ অ্যালার্জি ও প্রদাহ সৃষ্টিকারী পদার্থের নিঃসরণও কমাতে পারে। মানুষের শরীরে এই প্রভাব কতটা হয়, তা এখনো গবেষণাধীন।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশমতো খান। প্রাপ্তবয়স্কদের সম্পূরকে সাধারণত দিনে একবার বা দুইবার ৫০০ mg থাকে, খাবারের সাথে খেতে হয়। লেবেলের চেয়ে বেশি খাবেন না, এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন উচ্চ মাত্রা এড়িয়ে চলুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের জন্য সুপারিশ করা হয় না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলাকারী ঔষধের প্রভাব বাড়িয়ে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- সাইক্লোস্পোরিন, ডিগক্সিন ও আরও কিছু ঔষধের রক্তমাত্রা বদলাতে পারে।
- সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও লেভোফ্লক্সাসিনের মতো কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাব কমাতে পারে।
- নিয়মিত প্রেসক্রিপশনের ঔষধ খেলে ব্যবহারের আগে ফার্মাসিস্ট বা চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।
কারা খাবেন না
- কোয়ারসেটিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- গুরুতর কিডনি রোগ থাকলে, চিকিৎসক পরামর্শ না দিলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ সম্পূরক মাত্রায় সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। কারও কারও মাথাব্যথা, পেটের গোলমাল বা হাত পায়ে ঝিনঝিন ভাব হতে পারে। দীর্ঘদিন খুব উচ্চ মাত্রায় খেলে কিডনিতে প্রভাব পড়তে পারে।
মুখ বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে র্যাশের মতো তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণ, অথবা রক্ত পাতলাকারী ঔষধ খেলে অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সম্পূরক মাত্রার নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট তথ্য নেই। সাধারণ খাবারে থাকা পরিমাণ নিরাপদ, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সম্পূরক এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
- কিডনি রোগ থাকলে বা প্রেসক্রিপশনের ঔষধ খেলে চিকিৎসককে জানান।
- চিকিৎসক অন্য কিছু না বললে পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের অন্তত ২ সপ্তাহ আগে বন্ধ করুন।
- সম্পূরক সুষম খাদ্যের বিকল্প নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে পেটের গোলমাল ও মাথাব্যথা হতে পারে। খুব বেশি পরিমাণ কিডনির ওপর চাপ ফেলতে পারে। বেশি খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
খাদ্য সম্পূরক, ফ্ল্যাভোনয়েড অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।