বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Quinine Dihydrochloride

  • 6 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 6 টি কোম্পানি

ব্যবহার

কুইনিন ডাইহাইড্রোক্লোরাইড হলো ম্যালেরিয়ার ঔষধ কুইনিনের ইনজেকশন রূপ। প্লাজমোডিয়াম ফালসিপারামজনিত মারাত্মক বা জটিল ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় হাসপাতালে এটি ব্যবহার হয়, বিশেষ করে যখন আর্টেসুনেট ইনজেকশন পাওয়া যায় না বা উপযুক্ত নয়, এবং যারা মুখে ঔষধ খেতে পারে না তাদের ক্ষেত্রে।

কীভাবে কাজ করে

কুইনিন লোহিত রক্তকণিকার ভেতরে থাকা ম্যালেরিয়া জীবাণু মেরে ফেলে। ধারণা করা হয়, জীবাণু হিমোগ্লোবিন হজম করার সময় যে বিষাক্ত বর্জ্য (হিম) তৈরি করে তা নিরাপদে সরাতে পারে না, ফলে জীবাণু নিজেই বিষাক্ত হয়ে মারা যায়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

শুধু হাসপাতালে চিকিৎসক বা নার্স দেন, সাধারণত গ্লুকোজ বা স্যালাইনে পাতলা করে কয়েক ঘণ্টা ধরে ধীরে শিরায় ইনফিউশন হিসেবে, কখনো কখনো গভীর মাংসপেশিতে ইনজেকশন হিসেবে। মাত্রা ওজন অনুযায়ী হিসাব করা হয় এবং লোডিং ডোজ দিয়ে শুরু হতে পারে, চিকিৎসকের নির্দেশমতো। কখনো দ্রুত শিরায় ইনজেকশন দেওয়া যাবে না। রোগী গিলতে পারলে কোর্স শেষ করতে ট্যাবলেট বা অন্য ম্যালেরিয়ার ঔষধে বদলানো হয়।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • মেফ্লোকুইন, হ্যালোফ্যানট্রিন ও QT দীর্ঘায়িত করে এমন ঔষধ (কিছু অ্যান্টিঅ্যারিদমিক, অ্যান্টিসাইকোটিক, ম্যাক্রোলাইড, ফ্লুরোকুইনোলোন): বিপজ্জনক হৃৎছন্দ ও খিঁচুনির ঝুঁকি।
  • ডিগোক্সিন: মাত্রা বাড়তে পারে।
  • ওয়ারফারিন: রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
  • ডায়াবেটিসের ঔষধ ও ইনসুলিন: রক্তে শর্করা কমার ঝুঁকি বাড়ে।
  • রিফাম্পিসিন: কুইনিনের মাত্রা কমায়।
  • অ্যালুমিনিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড ও সিমেটিডিন খাওয়ার কুইনিনের মাত্রা বদলাতে পারে।

কারা খাবেন না

  • কুইনিন বা কুইনিডিনে অ্যালার্জি থাকলে।
  • আগে কুইনিনে গুরুতর প্রতিক্রিয়া, যেমন প্লেটিলেট কমা, হিমোলাইটিক ইউরিমিক সিনড্রোম বা ব্ল্যাকওয়াটার ফিভার।
  • কুইনিনজনিত অপটিক নিউরাইটিস বা কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ।
  • মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস।
  • দীর্ঘ QT ইন্টারভাল, যদি না উপকার স্পষ্টভাবে বেশি হয়।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

সাধারণ প্রতিক্রিয়া (সিনকোনিজম) হলো কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, হালকা শ্রবণশক্তি কমা, মাথাব্যথা, বমিভাব, মাথা ঘোরা ও ঝাপসা দেখা। রক্তে শর্করা কমে যাওয়া সাধারণ ও গুরুতর হতে পারে, বিশেষ করে গর্ভবতী ও শিশুদের। ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা হতে পারে।

চিকিৎসক ও নার্সরা নিবিড়ভাবে নজর রাখেন; শর্করা কমার কারণে ঘাম, বিভ্রান্তি বা ঝিমুনি; অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা খুব কম রক্তচাপ; রক্তক্ষরণ বা কালশিটে দাগ; গাঢ় প্রস্রাব; হঠাৎ দৃষ্টি হারানো বা মারাত্মক অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

মারাত্মক ম্যালেরিয়া মা ও শিশু উভয়ের জন্য প্রাণঘাতী, তাই প্রয়োজনে গর্ভাবস্থায় কুইনিন ব্যবহার করা হয় এবং শর্করা বারবার পরীক্ষা করা হয়। পাওয়া গেলে আর্টেসুনেটকে প্রায়ই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণত দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাওয়া যায়, তবে বিশেষ করে শিশুর G6PD ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

সতর্কতা

চিকিৎসার সময় রক্তে শর্করা, হৃৎছন্দ (ECG), রক্তচাপ ও কিডনির কাজ পর্যবেক্ষণ করা হয়। কিডনি বা লিভারের সমস্যায় এবং চিকিৎসা ৪৮ ঘণ্টার বেশি চললে মাত্রা কমানো হয়। হৃদরোগ, G6PD ঘাটতি বা অ্যাট্রিয়াল ফাইব্রিলেশনে সাবধানে ব্যবহার করা হয়।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

মাত্রাতিরিক্ত হলে কানে তীব্র শব্দ, অন্ধত্ব, খিঁচুনি, বিপজ্জনক হৃৎছন্দ, রক্তচাপ কমা ও অচেতন অবস্থা হতে পারে। এটি জরুরি অবস্থা, হাসপাতালে চিকিৎসা করা হয়।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

ম্যালেরিয়ারোধী (সিনকোনা অ্যালকালয়েড)।

সংরক্ষণ

প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩০°C এর নিচে ও আলো থেকে দূরে রাখুন। শুধু হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য; শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Quinine Dihydrochloride এর ব্র্যান্ড

1 টি ব্র্যান্ড

Quinine Dihydrochloride যুক্ত কম্বিনেশন ঔষধ

5 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।