ব্যবহার
কুইনাইন সালফেট প্লাজমোডিয়াম ফালসিপারামজনিত ম্যালেরিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, ক্লোরোকুইন প্রতিরোধী ধরনসহ। সাধারণত ডক্সিসাইক্লিন বা ক্লিনডামাইসিনের মতো আরেকটি ঔষধের সাথে দেওয়া হয়। গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকির কারণে ম্যালেরিয়া প্রতিরোধ বা রাতে পায়ের পেশিতে টানের জন্য এটি পরামর্শ করা হয় না।
কীভাবে কাজ করে
কুইনাইন লোহিত কণিকার ভেতরে থাকা ম্যালেরিয়া পরজীবীকে মেরে ফেলে। ধারণা করা হয়, এটি পরজীবীকে হিমোগ্লোবিন নিরাপদভাবে ভাঙতে বাধা দেয়, ফলে বিষাক্ত বর্জ্য জমে পরজীবী মারা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশমতো খান। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রচলিত পদ্ধতি হলো ৬০০ mg প্রতি ৮ ঘণ্টা পরপর ৭ দিন, সাথে চিকিৎসকের বেছে নেওয়া আরেকটি ম্যালেরিয়ার ঔষধ। শিশু ও কম ওজনের মানুষের মাত্রা ওজন অনুযায়ী ঠিক করা হয়। পেটের অস্বস্তি কমাতে খাবারের সাথে বা পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে খান। ভালো বোধ করলেও পুরো কোর্স শেষ করুন। তীব্র ম্যালেরিয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসা দরকার, সাধারণত ইনজেকশন দিয়ে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কুইনাইন ডিগক্সিনের মাত্রা ও ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে। মেফ্লোকুইন, হ্যালোফ্যানট্রিন, অ্যামিওডারোন, কিছু অ্যান্টিবায়োটিক ও অ্যান্টিসাইকোটিকের মতো হৃৎস্পন্দনে প্রভাব ফেলা ঔষধের সাথে বিপজ্জনক ছন্দপতনের ঝুঁকি বাড়ে। রিফামপিসিন কুইনাইনের মাত্রা কমাতে পারে। অ্যালুমিনিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড শোষণ কমাতে পারে। ডায়াবেটিসের ঔষধের সাথে রক্তে সুগার আরও কমিয়ে দিতে পারে।
কারা খাবেন না
কুইনাইন বা কুইনিডিনে অ্যালার্জি থাকলে, অথবা আগে এটি খেয়ে প্লেটলেট কমে যাওয়া, রক্তের সমস্যা বা গুরুতর প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে খাবেন না। অপটিক নার্ভের প্রদাহ, আগের ব্যবহারে কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, মায়াস্থেনিয়া গ্র্যাভিস, লং QT বা কিছু ছন্দপতনের সমস্যা, বা G6PD ঘাটতিতে চিকিৎসক না বললে এড়িয়ে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সিনকোনিজম নামে একগুচ্ছ উপসর্গ সাধারণ: কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, কানে কম শোনা, মাথাব্যথা, বমি ভাব, মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা ও মুখ লাল হওয়া। রক্তে সুগার কমে যেতে পারে, বিশেষ করে গর্ভবতী নারী ও তীব্র ম্যালেরিয়ায়। পেটের অস্বস্তি, র্যাশ ও চুলকানিও হতে পারে।
অস্বাভাবিক কালশিটে দাগ বা রক্তপাত, প্রস্রাবে রক্ত বা গাঢ় প্রস্রাব, হঠাৎ ঘাম, কাঁপুনি বা বিভ্রান্তি (সুগার কমার লক্ষণ), দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অজ্ঞান হওয়া, দৃষ্টি বা শ্রবণশক্তি অনেক কমে যাওয়া, অথবা ফোসকাসহ তীব্র র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ম্যালেরিয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক, এবং চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলে বিশেষ করে প্রথম ৩ মাসে এর চিকিৎসায় কুইনাইন ব্যবহার করা হয়। রক্তে সুগার ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; সাধারণত গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়, তবে বিশেষ করে শিশুর G6PD ঘাটতির সম্ভাবনা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
হৃদরোগ, কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন। সুগার কমার লক্ষণ খেয়াল রাখুন। রক্তপাত, কালশিটে দাগ, দৃষ্টি বা শ্রবণের সমস্যা হলে ঔষধ বন্ধ করে চিকিৎসক দেখান। পায়ের টানের জন্য এটি ব্যবহার করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
কুইনাইনের অতিরিক্ত মাত্রা খুবই বিপজ্জনক; এতে অন্ধত্ব, বধিরতা, খিঁচুনি, গুরুতর ছন্দপতন এমনকি মৃত্যু হতে পারে। শুরুতে ভালো বোধ করলেও সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ম্যালেরিয়ারোধী, সিনকোনা অ্যালকালয়েড।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।