ব্যবহার
কুরস রুবার্ব রুবার্ব মূল (রিয়াম প্রজাতি, যাকে রেওয়ান্দ চিনি বলা হয়) ভিত্তিক একটি ইউনানি প্রস্তুতি, যাতে প্রায়ই অন্য হজমসহায়ক ভেষজও থাকে। ঐতিহ্যগতভাবে এটি বদহজম, অ্যাসিডিটি, গ্যাস ও পেট ফাঁপা, খিদে কমা এবং হালকা কোষ্ঠকাঠিন্যে এবং পাকস্থলী ও লিভারের টনিক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এসব ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি কোষ্ঠকাঠিন্যে এটি ব্যবহার করা উচিত নয়।
কীভাবে কাজ করে
রুবার্ব মূলে দুই ধরনের প্রধান প্রাকৃতিক উপাদান আছে। অল্প মাত্রায় এর ট্যানিন (সঙ্কোচক, শুকিয়ে দেওয়া উপাদান) ও তিক্ত উপাদান পাকস্থলীকে সবল করে হজমে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়। বেশি মাত্রায় এর অ্যান্থ্রাকুইনন (সোনামুখির মতো প্রাকৃতিক জোলাপ উপাদান) অন্ত্রের পেশিকে সক্রিয় করে এবং অন্ত্রে পানি টেনে মল নরম করে। তাই প্রভাব মাত্রার ওপর নির্ভর করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা বা নিবন্ধিত ইউনানি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, সাধারণত খাবারের পরে পানি দিয়ে খান। নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না, এবং চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া জোলাপ হিসেবে প্রায় ১ সপ্তাহের বেশি ব্যবহার করবেন না। চিকিৎসক না বললে শিশুদের জন্য এটি পরামর্শযোগ্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- দীর্ঘদিন বা বেশি মাত্রায় খেলে পটাসিয়াম কমে যেতে পারে। এতে ডিগোক্সিন ও হৃৎস্পন্দনের ঔষধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে, এবং ফুরোসেমাইড বা হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইডের মতো প্রস্রাবের ঔষধ এবং প্রেডনিসোলোনের মতো স্টেরয়েডজনিত পটাসিয়াম ঘাটতি আরও বাড়ে।
- একই সময়ে খেলে অন্য ঔষধের শোষণ কমতে পারে; প্রায় ২ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন।
- ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধ খেলে চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- অন্ত্রে বাধা, অজানা কারণে পেটব্যথা, অ্যাপেন্ডিসাইটিস বা ইনফ্লামেটরি বাওয়েল ডিজিজ (যেমন ক্রোনস ডিজিজ বা আলসারেটিভ কোলাইটিস) থাকলে।
- গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
- কিডনি পাথর বা কিডনির রোগ থাকলে, কারণ রুবার্বে অক্সালেট থাকে।
- ১২ বছরের কম বয়সী শিশু, চিকিৎসক না বললে।
- রুবার্ব বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পেট কামড়ানো, নরম মল বা ডায়রিয়া এবং প্রস্রাবের হলুদ-বাদামি বা লালচে রঙ (ক্ষতিকর নয়) হতে পারে। দীর্ঘদিন ব্যবহারে শরীর থেকে পানি ও লবণ বের হয়ে যাওয়া, দুর্বলতা এবং অন্ত্র অলস হয়ে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে।
তীব্র পেটব্যথা, রক্তমিশ্রিত বা কালো মল, মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো তীব্র ডায়রিয়া, পেশির দুর্বলতা বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করবেন না, কারণ উদ্দীপক জোলাপ জরায়ুর সংকোচন ঘটাতে পারে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও এড়িয়ে চলুন, কারণ কিছু জোলাপ উপাদান দুধে গিয়ে শিশুর পাতলা পায়খানা ঘটাতে পারে।
সতর্কতা
- মলত্যাগের অভ্যাসে ২ সপ্তাহের বেশি পরিবর্তন, মলে রক্ত বা ওজন কমে যাওয়ায় চিকিৎসকের পরীক্ষা দরকার।
- বয়স্ক এবং হৃদরোগ বা কিডনির সমস্যায় ভোগা মানুষের পানি ও লবণ ঘাটতির ঝুঁকি বেশি।
- ব্যবহারের সময় যথেষ্ট পানি পান করুন।
- শুধু বিশ্বস্ত ও লাইসেন্সপ্রাপ্ত প্রস্তুতকারকের পণ্য কিনুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে তীব্র ডায়রিয়া, পেট কামড়ানো, পানিশূন্যতা এবং পটাসিয়াম কমে যাওয়া হতে পারে, যা হৃৎপিণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে। বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেললে, বিশেষ করে শিশু বা বয়স্ক হলে, চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইউনানি ভেষজ প্রস্তুতি (হজমসহায়ক ও হালকা জোলাপ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।