ব্যবহার
রেসিপিনেফ্রিন (রেসিমিক এপিনেফ্রিন) শ্বাসের মাধ্যমে নেওয়া একটি ব্রঙ্কোডাইলেটর, অর্থাৎ শ্বাসনালি খুলে দেয় এমন ঔষধ। চিকিৎসকের নির্ণীত হাঁপানি রোগীদের হালকা, মাঝে মাঝে হওয়া লক্ষণ যেমন শোঁ শোঁ শব্দ, বুক আটকে আসা ও শ্বাসকষ্ট সাময়িকভাবে উপশমে এটি ব্যবহৃত হয়। হাসপাতালে ক্রুপে আক্রান্ত শিশুদের উপরের শ্বাসনালির ফোলা কমাতে নেবুলাইজারের মাধ্যমেও এটি দেওয়া হয়। এটি হাঁপানির দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণকারী ঔষধ নয়।
কীভাবে কাজ করে
রেসিপিনেফ্রিন হলো এপিনেফ্রিনের (অ্যাড্রেনালিন) দুটি প্রতিবিম্ব রূপের মিশ্রণ। শ্বাসে নিলে এটি শ্বাসনালির রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে শ্বাসনলের চারপাশের পেশি শিথিল করে, এবং ছোট রক্তনালী সঙ্কুচিত করে শ্বাসনালির আস্তরণের ফোলা কমায়। কয়েক মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু হয়, তবে প্রভাব অল্প সময় থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু লেবেলের নির্দেশনা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, এর জন্য নির্ধারিত ইনহেলার বা নেবুলাইজার দিয়ে ব্যবহার করুন। লক্ষণ উপশমের জন্য যত কম পাফ দরকার তত কম নিন এবং লেবেলে লেখা দৈনিক সর্বোচ্চ সংখ্যা ছাড়াবেন না। নির্দেশিত সময়ের চেয়ে ঘন ঘন ব্যবহার করবেন না। ক্রুপে এটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ডাক্তার বা নার্স দেন এবং পরে কয়েক ঘণ্টা শিশুকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
MAO ইনহিবিটর জাতীয় বিষণ্নতার ঔষধের সাথে (বা বন্ধের ২ সপ্তাহের মধ্যে) ব্যবহার করবেন না। অন্য উত্তেজক বা নাক বন্ধের ঔষধ (যেমন সিউডোএফেড্রিন), ক্যাফেইন, অ্যামিট্রিপটিলিনের মতো ট্রাইসাইক্লিক বিষণ্নতার ঔষধ, থাইরয়েডের ঔষধ ও ডিগক্সিনের সাথে সাবধান থাকুন, কারণ এগুলো হৃৎপিণ্ডের উপর প্রভাব বাড়াতে পারে। প্রোপ্রানোললের মতো বিটা ব্লকার এর কাজ আটকাতে পারে এবং রক্তচাপ বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- রেসিপিনেফ্রিন বা এপিনেফ্রিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- MAO ইনহিবিটর বন্ধের ২ সপ্তাহের মধ্যে।
- যাদের চিকিৎসক কখনো হাঁপানি নির্ণয় করেননি।
- হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা, ডায়াবেটিস, প্রোস্টেট বড় হওয়া, গ্লুকোমা বা খিঁচুনি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাবধান থাকুন বা এড়িয়ে চলুন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে অস্থিরতা, হাত-পা কাঁপা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, মাথাব্যথা, অনিদ্রা, বমিভাব ও মুখে খারাপ স্বাদ বা গলা শুকিয়ে যাওয়া।
২০ মিনিটের মধ্যে শ্বাস না কমলে বা বাড়লে, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বার দরকার হলে, অথবা বুকে ব্যথা, ধড়ফড় বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, তীব্র মাথাব্যথা বা মুখ ও গলা ফুলে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় হাঁপানি নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ, তবে এই ঔষধ পছন্দসই উপশমকারী নয়। গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন; সাধারণত সালবিউটামল ইনহেলার বেশি উপযুক্ত।
সতর্কতা
ঘন ঘন উপশমকারী ঔষধ লাগলে বুঝতে হবে হাঁপানি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রিত নয়: প্রতিরোধক চিকিৎসার জন্য চিকিৎসক দেখান। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কয়েক দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না। প্রতিদিন কতবার ব্যবহার করছেন তার হিসাব রাখুন। শিশুরা শুধু চিকিৎসকের নির্দেশে ব্যবহার করবে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ব্যবহার করলে তীব্র কাঁপুনি, খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, বুকে ব্যথা, উচ্চ রক্তচাপ, বমি ও অস্থিরতা হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ব্রঙ্কোডাইলেটর, সিম্প্যাথোমিমেটিক (অ্যাড্রেনার্জিক এগোনিস্ট)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। হিমায়িত করবেন না। দ্রবণ গোলাপি বা বাদামি হয়ে গেলে বা কণা দেখা গেলে ব্যবহার করবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।