ব্যবহার
র্যামুসিরুমাব একটি প্রেসক্রিপশনভিত্তিক ক্যানসারের ঔষধ। একা বা কেমোথেরাপি বা অন্য টার্গেটেড ঔষধের সাথে এটি অগ্রসর পাকস্থলীর ক্যানসার ও পাকস্থলী ও খাদ্যনালীর সংযোগস্থলের ক্যানসার, অগ্রসর নন-স্মল সেল ফুসফুসের ক্যানসার, ছড়িয়ে পড়া কোলোরেক্টাল (অন্ত্রের) ক্যানসার এবং রক্তে উচ্চ আলফা-ফিটোপ্রোটিনযুক্ত অগ্রসর লিভার ক্যানসারে (হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা) সাধারণত আগের চিকিৎসার পর ব্যবহৃত হয়। ক্যানসার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা ঠিক করেন।
কীভাবে কাজ করে
র্যামুসিরুমাব একটি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি, অর্থাৎ গবেষণাগারে তৈরি এমন একটি প্রোটিন যা নির্দিষ্ট একটি অণুকে লক্ষ্য করে। টিউমার নতুন রক্তনালি তৈরিতে (অ্যাঞ্জিওজেনেসিস) যে VEGF রিসেপ্টর ২ ব্যবহার করে, এটি তা আটকে দেয়। পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ না পেলে টিউমার কম অক্সিজেন ও পুষ্টি পায়, ফলে এর বৃদ্ধি ধীর হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
হাসপাতাল বা ক্যানসার কেন্দ্রে চিকিৎসক বা নার্স শিরায় স্যালাইনের মাধ্যমে প্রায় ১ ঘণ্টা ধরে এটি দেন, ক্যানসারের ধরন ও সম্মিলন অনুযায়ী সাধারণত প্রতি ২ বা ৩ সপ্তাহে। মাত্রা শরীরের ওজনের উপর ভিত্তি করে বিশেষজ্ঞ ঠিক করেন। প্রতিটি ইনফিউশনের আগে সাধারণত একটি অ্যান্টিহিস্টামিন দেওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান, বিশেষ করে ওয়ারফারিন বা অ্যাসপিরিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধ, কারণ রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
- র্যামুসিরুমাব বা কোনো উপাদানে মারাত্মক অ্যালার্জি
- ফুসফুসের ক্যানসারে: টিউমারে গহ্বর থাকলে বা বড় রক্তনালিতে ছড়িয়ে পড়লে, গুরুতর রক্তপাতের ঝুঁকির কারণে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- উচ্চ রক্তচাপ, মাথাব্যথা, ক্লান্তি
- ডায়রিয়া, পেটব্যথা, মুখে ঘা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া
- পা ফোলা, প্রস্রাবে প্রোটিন
- শ্বেতকণিকা বা অণুচক্রিকা কমা (মূলত কেমোথেরাপির সাথে)
- ইনফিউশন প্রতিক্রিয়া: স্যালাইন চলার সময় শীত লাগা, কাঁপুনি, পিঠে ব্যথা, মুখ লাল হওয়া বা শ্বাসকষ্ট
- গুরুতর তবে কম সাধারণ: রক্তপাত, অন্ত্র বা পাকস্থলীর দেয়াল ফুটো হওয়া (পারফোরেশন), ধমনীতে রক্ত জমাট বাঁধা (হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক), ক্ষত শুকাতে দেরি
তীব্র পেটব্যথা, রক্তবমি, কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, কাশির সাথে রক্ত, বুকে ব্যথা, মুখ বা হাত-পায়ে হঠাৎ দুর্বলতা বা অসাড়তা, কথা বলতে কষ্ট, বিভ্রান্তি বা দৃষ্টিসমস্যাসহ অতি তীব্র মাথাব্যথা, অথবা মারাত্মক অ্যালার্জির লক্ষণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
র্যামুসিরুমাব গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা উচিত নয়। গর্ভধারণের সম্ভাবনা আছে এমন নারীদের চিকিৎসাকালে এবং শেষ ডোজের পর অন্তত ৩ মাস কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসাকালে এবং শেষ ডোজের পর অন্তত ৩ মাস বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
- নিয়মিত রক্তচাপ ও প্রস্রাবের প্রোটিন পরীক্ষা করা হয়।
- পরিকল্পিত অস্ত্রোপচারের আগে সাধারণত চিকিৎসা বন্ধ রাখা হয় এবং ক্ষত শুকানোর পরেই আবার শুরু করা হয়।
- লিভার সিরোসিস, সম্প্রতি রক্তপাত, হৃদরোগ বা স্ট্রোকের ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
র্যামুসিরুমাব স্বাস্থ্যকর্মীরা দেন, তাই মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। হলে রোগীকে পর্যবেক্ষণে রেখে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যানসারবিরোধী মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি (VEGF রিসেপ্টর ২ ব্লকার, অ্যান্টি-অ্যাঞ্জিওজেনিক এজেন্ট)।
সংরক্ষণ
হাসপাতালে ব্যবহৃত ঔষধ। প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী আলো থেকে রক্ষার জন্য আসল বাক্সে ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন; জমাবেন না বা ঝাঁকাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।