ব্যবহার
র্যানিবিজুমাব এমন চোখের রোগে ব্যবহৃত হয় যেখানে চোখের পেছনে অস্বাভাবিক, ছিদ্রযুক্ত রক্তনালি তৈরি হয়ে রেটিনার ক্ষতি করে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ওয়েট (নিওভাসকুলার) এজ-রিলেটেড ম্যাকুলার ডিজেনারেশন, ডায়াবেটিসজনিত রেটিনার কেন্দ্রে ফোলা (ডায়াবেটিক ম্যাকুলার ইডিমা), রেটিনার শিরা বন্ধ হওয়ার পর ম্যাকুলার ফোলা, প্রোলিফারেটিভ ডায়াবেটিক রেটিনোপ্যাথি, তীব্র মায়োপিয়ার সাথে যুক্ত অস্বাভাবিক রক্তনালি (মায়োপিক কোরয়েডাল নিওভাসকুলারাইজেশন), এবং অপরিণত শিশুদের রেটিনোপ্যাথি অব প্রিম্যচিউরিটি।
কীভাবে কাজ করে
র্যানিবিজুমাব একটি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডির খণ্ডাংশ (পরীক্ষাগারে তৈরি প্রোটিন)। এটি ভাসকুলার এন্ডোথেলিয়াল গ্রোথ ফ্যাক্টর এ (ভিইজিএফ-এ) এর সাথে যুক্ত হয়ে এটিকে আটকে দেয়; এই সংকেতই নতুন রক্তনালি তৈরি ও তাদের ছিদ্র দিয়ে তরল বের হওয়ার কারণ। এটি আটকালে রেটিনায় তরল বের হওয়া ও ফোলা কমে, অস্বাভাবিক রক্তনালির বৃদ্ধি ধীর হয়, যা দৃষ্টি স্থিতিশীল বা উন্নত করতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু যোগ্য চক্ষু বিশেষজ্ঞ জীবাণুমুক্ত পরিবেশে, অবশ করার ড্রপ ও চোখ পরিষ্কারের পর, চোখের ভেতরে ইনজেকশন (ইন্ট্রাভিট্রিয়াল) হিসেবে এটি দেন। চিকিৎসা সাধারণত মাসিক ইনজেকশন দিয়ে শুরু হয়, তারপর দৃষ্টি পরীক্ষা ও চোখের স্ক্যান অনুযায়ী বিশেষজ্ঞের ঠিক করা ব্যবধানে চলে। মাত্রা ও সূচি ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী। সব ফলো-আপ অ্যাপয়েন্টমেন্ট বজায় রাখুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মুখে খাওয়ার ঔষধের সাথে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। একই চোখে একই সময়ে অ্যাফ্লিবারসেপ্ট বা বেভাসিজুমাবের মতো অন্য অ্যান্টি-ভিইজিএফ ঔষধ দেওয়া উচিত নয়। অন্য চোখের চিকিৎসা এবং ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- র্যানিবিজুমাব বা ইনজেকশনের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- চোখে বা চোখের আশেপাশে সক্রিয় বা সন্দেহজনক সংক্রমণ থাকলে।
- চোখের ভেতরে সক্রিয় তীব্র প্রদাহ থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: চোখে ব্যথা বা অস্বস্তি, চোখ লাল হওয়া বা ইনজেকশনের জায়গায় চোখের সাদা অংশে ছোট রক্তপাত, চোখের সামনে ভাসমান বস্তু, ঝাপসা দেখা, ইনজেকশনের পর অল্প সময়ের জন্য চোখের চাপ বেড়ে যাওয়া, চোখ জ্বালা ও পানি পড়া। বিরল কিন্তু গুরুতর: চোখের ভেতরে সংক্রমণ (এন্ডফথ্যালমাইটিস), প্রদাহ, রেটিনা ছিঁড়ে যাওয়া বা আলাদা হওয়া, এবং ইনজেকশনজনিত ছানি। খুব বিরল ক্ষেত্রে স্ট্রোকের মতো রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা জানা গেছে।
ইনজেকশনের পরের কয়েক দিনে চোখের ব্যথা বা লালভাব বাড়লে, হঠাৎ দৃষ্টি কমে গেলে বা হারালে, আলোতে সংবেদনশীলতা, অনেক নতুন ভাসমান বস্তু বা আলোর ঝলকানি, অথবা দৃষ্টির কোনো অংশে পর্দার মতো দেখলে দ্রুত চিকিৎসা নিন বা সেদিনই চক্ষু বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন। শরীরের এক পাশে হঠাৎ দুর্বলতা বা কথা বলতে কষ্টের মতো স্ট্রোকের লক্ষণেও দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ভিইজিএফ আটকালে গর্ভের শিশুর বিকাশ প্রভাবিত হতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় এটি সুপারিশ করা হয় না। গর্ভধারণের সম্ভাবনা আছে এমন নারীরা চিকিৎসার সময় এবং শেষ ইনজেকশনের পর অন্তত ৩ মাস কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করবেন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
প্রতিটি ইনজেকশনে সংক্রমণ ও চোখের চাপ বাড়ার অল্প ঝুঁকি আছে; ইনজেকশনের পর চোখ পরীক্ষা করা হবে। ইনজেকশনের পর দৃষ্টি ঝাপসা হতে পারে, তাই পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না। গ্লুকোমা, স্ট্রোক বা মিনি স্ট্রোকের ইতিহাস, বা চোখের যেকোনো সংক্রমণ থাকলে বিশেষজ্ঞকে জানান। একই দিনে দুই চোখে চিকিৎসায় বিশেষ সতর্কতা দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বিশেষজ্ঞ দেন বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বেশি পরিমাণ দিলে চোখের চাপ বাড়তে পারে; বিশেষজ্ঞ প্রয়োজনে তা পরীক্ষা করে চিকিৎসা করবেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
চোখের অ্যান্টি-ভিইজিএফ ঔষধ, মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি খণ্ডাংশ
সংরক্ষণ
ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন। জমাবেন না। আলো থেকে রক্ষার জন্য বাইরের বাক্সে রাখুন। হাসপাতাল বা ক্লিনিক প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করে।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।