ব্যবহার
রেগুলার (সলিউবল) হিউম্যান ইনসুলিন একটি স্বল্পমেয়াদি ইনসুলিন, যা টাইপ ১ ডায়াবেটিস এবং ইনসুলিন প্রয়োজন এমন টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। হাসপাতালে ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিসের মতো জরুরি অবস্থায়, অস্ত্রোপচার ও গুরুতর অসুস্থতার সময় এবং রক্তে উচ্চ পটাশিয়াম কমাতেও এটি ব্যবহৃত হয়। এটি প্রায়ই আইসোফেন ইনসুলিনের সাথে আগে থেকে মেশানো অবস্থায় (যেমন ৩০/৭০) পাওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
ইনসুলিন শরীরের প্রাকৃতিক হরমোন, যা কোষকে রক্ত থেকে শর্করা (গ্লুকোজ) নিয়ে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে সাহায্য করে এবং লিভার থেকে অতিরিক্ত গ্লুকোজ নিঃসরণ বন্ধ করে। রেগুলার হিউম্যান ইনসুলিন মানুষের অগ্ন্যাশয়ে তৈরি ইনসুলিনের হুবহু একই। চামড়ার নিচে ইনজেকশন দিলে প্রায় ৩০ মিনিটে কাজ শুরু করে, ২ থেকে ৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ প্রভাব দেখায় এবং প্রায় ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা থাকে, ফলে খাবারের পরের শর্করার বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা ডাক্তার আপনার রক্তে শর্করা, খাবার, কাজকর্ম ও অন্য ঔষধ অনুযায়ী আলাদাভাবে ঠিক করেন, তাই ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ীই নিন। সাধারণত খাবারের প্রায় ৩০ মিনিট আগে পেট, উরু, নিতম্ব বা বাহুর উপরের অংশে চামড়ার নিচে ইনজেকশন দেওয়া হয়। গিঁট পড়া এড়াতে একই এলাকার মধ্যে প্রতিবার ইনজেকশনের জায়গা বদলান। মিক্সড ইনসুলিন ব্যবহারের আগে আলতো করে গড়িয়ে মিশিয়ে নিন; স্বচ্ছ রেগুলার ইনসুলিন মেশানোর দরকার নেই। শিরায় দেওয়া শুধু হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স করেন। ইনসুলিন পেন বা সুই কখনো অন্যের সাথে ভাগ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অন্য ডায়াবেটিসের ঔষধ, মদ, এসিই ইনহিবিটর, কিছু বিষণ্নতার ঔষধ ও স্যালিসাইলেট শর্করা কমানোর প্রভাব বাড়াতে পারে।
- স্টেরয়েড, থাইরয়েড হরমোন, কিছু প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ, জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি ও কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক রক্তে শর্করা বাড়িয়ে ইনসুলিনের চাহিদা বাড়াতে পারে।
- বিটা ব্লকার শর্করা কমে যাওয়ার সতর্ক লক্ষণ ঢেকে দিতে পারে।
- ইনসুলিনের সাথে পায়োগ্লিটাজোন হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- ইনজেকশনের সময় রক্তে শর্করা কম থাকলে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া)।
- হিউম্যান ইনসুলিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রক্তে শর্করা কমে যাওয়া: ঘাম, কাঁপুনি, ক্ষুধা, বুক ধড়ফড়, মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি বা খিটখিটে ভাব। ইনজেকশনের জায়গায় লালচে ভাব, ফোলা বা চুলকানি হতে পারে এবং একই জায়গায় বারবার ইনজেকশন দিলে চামড়ার নিচে গিঁট হতে পারে। শুরুতে ওজন বাড়া, সাময়িক ঝাপসা দেখা বা গোড়ালি ফোলা হতে পারে। মূলত শিরায় দিলে পটাশিয়াম কমে যেতে পারে।
শর্করা কমার লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে গ্লুকোজ, চিনি বা মিষ্টি পানীয় খান, তারপর হালকা খাবার খান। রোগী বিভ্রান্ত হলে, গিলতে না পারলে, খিঁচুনি হলে বা অজ্ঞান হয়ে গেলে (মুখে কিছু দেবেন না; গ্লুকাগন ইনজেকশন বা হাসপাতালে চিকিৎসা দরকার), অথবা গুরুতর অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিসের আদর্শ চিকিৎসা হিউম্যান ইনসুলিন এবং এটি শিশুর জন্য নিরাপদ। গর্ভাবস্থায় ও প্রসবের পর ইনসুলিনের চাহিদা সাধারণত বদলায়, তাই রক্তে শর্করা ঘনিষ্ঠভাবে পরীক্ষা করতে হবে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও এটি নিরাপদ; মাত্রা সমন্বয় লাগতে পারে।
সতর্কতা
- নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন, বিশেষ করে মাত্রা, খাবার বা কাজকর্ম বদলালে বা অসুস্থ হলে।
- সবসময় গ্লুকোজের উৎস ও ডায়াবেটিস পরিচয়পত্র সাথে রাখুন।
- শর্করা কম থাকলে গাড়ি চালাবেন না; চালানোর আগে পরীক্ষা করুন।
- ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ইনসুলিনের ধরন, ব্র্যান্ড বা শক্তি কখনো বদলাবেন না।
- ভুল এড়াতে প্রতিবার লেবেল দেখে নিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ইনসুলিন নিলে রক্তে শর্করা কমে যায়, যা তীব্র হয়ে খিঁচুনি, অজ্ঞান হওয়া ও মস্তিষ্কের ক্ষতি ঘটাতে পারে। হালকা ক্ষেত্রে মুখে গ্লুকোজ বা চিনি দিন; গুরুতর ক্ষেত্রে গ্লুকাগন বা শিরায় গ্লুকোজসহ জরুরি চিকিৎসা দরকার।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ডায়াবেটিসের ঔষধ; স্বল্পমেয়াদি হিউম্যান ইনসুলিন।
সংরক্ষণ
খোলা হয়নি এমন ইনসুলিন ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন; জমাবেন না। ব্যবহাররত ভায়াল বা পেন প্যাকে লেখা সময় পর্যন্ত (সাধারণত ৪ থেকে ৬ সপ্তাহ) ২৫ থেকে ৩০°C এর নিচে, তাপ ও আলো থেকে দূরে রাখা যায়। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।