ব্যবহার
রেমডেসিভির একটি অ্যান্টিভাইরাল ঔষধ, যা হাসপাতালে কোভিড-১৯ চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। কোভিড-১৯ নিউমোনিয়ায় যাঁদের বাড়তি অক্সিজেন লাগে, এবং অক্সিজেন লাগে না কিন্তু গুরুতর অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি বেশি এমন কিছু রোগীকে এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
রেমডেসিভির করোনাভাইরাসকে (SARS-CoV-2) তার জিনগত উপাদান নকল করতে বাধা দেয়, ফলে ভাইরাস বংশবৃদ্ধি করতে পারে না। এতে শরীর সংক্রমণ দূর করতে পারে এবং সেরে ওঠার সময় কমতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
রেমডেসিভির হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স শিরায় ৩০ থেকে ১২০ মিনিট ধরে ইনফিউশন (স্যালাইন) হিসেবে দেন, ডাক্তারের নির্দেশমতো। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত প্রথম দিন একটি বেশি মাত্রা, এরপর দিনে একবার কম মাত্রা দেওয়া হয়, রোগের তীব্রতা অনুযায়ী মোট ৩ থেকে ১০ দিন। শিশুদের মাত্রা শরীরের ওজন অনুযায়ী, ডাক্তারের নির্দেশমতো।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ক্লোরোকুইন ও হাইড্রক্সিক্লোরোকুইন রেমডেসিভিরের অ্যান্টিভাইরাল কাজ কমাতে পারে, তাই একসাথে দেওয়া হয় না। রিফামপিসিনের মতো শক্তিশালী এনজাইম-বর্ধক ঔষধ সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়। চিকিৎসক দল অন্য সব ঔষধ পর্যালোচনা করবেন।
কারা খাবেন না
রেমডেসিভির বা ঔষধের অন্য কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে দেওয়া হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমিভাব, রক্ত পরীক্ষায় লিভার এনজাইম বেড়ে যাওয়া, মাথাব্যথা ও র্যাশ। ইনফিউশনের সময় বা পরপরই প্রতিক্রিয়া হতে পারে, যেমন রক্তচাপ কমে যাওয়া, ঘাম, কাঁপুনি, বমিভাব ও হৃৎস্পন্দন ধীর হওয়া।
ইনফিউশনের সময় বা পরে অজ্ঞান ভাব বা মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট বা শাঁ শাঁ শব্দ, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, র্যাশ, বুকে ব্যথা, খুব ধীর বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অথবা চোখ বা ত্বক হলুদ হলে সঙ্গে সঙ্গে নার্স বা ডাক্তারকে জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার সম্ভাব্য ঝুঁকির চেয়ে উপকার বেশি মনে করলেই কেবল গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাবেন কিনা, তা-ও ডাক্তার পরামর্শ দেবেন।
সতর্কতা
- শুরুর আগে ও চিকিৎসার সময় লিভারের রক্ত পরীক্ষা করা হয়; লিভার এনজাইম খুব বেড়ে গেলে ঔষধ বন্ধ করা হতে পারে।
- কিডনির কার্যকারিতা ও রক্ত জমাটের পরীক্ষাও করা হতে পারে।
- ইনফিউশন প্রতিক্রিয়ার জন্য রোগীকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়।
- এটি হাসপাতালে দেওয়া অক্সিজেন, স্টেরয়েড বা অন্য সহায়ক চিকিৎসার বিকল্প নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে প্রশিক্ষিত কর্মীরা দেন বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বেশি দেওয়া হলে চিকিৎসক দল রোগীকে পর্যবেক্ষণ করে সহায়ক চিকিৎসা দেবেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিভাইরাল (নিউক্লিওটাইড অ্যানালগ)।
সংরক্ষণ
না খোলা পাউডারের ভায়াল ৩০°C এর নিচে রাখুন। কনসেনট্রেট দ্রবণ লেবেলে বলা থাকলে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন। প্রস্তুত ইনফিউশন হাসপাতালের কর্মীরা ঔষধের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করেন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।