ব্যবহার
টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তে শর্করা যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণে না থাকলে, খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পাশাপাশি, একা বা মেটফরমিনের সাথে রিপাগ্লিনাইড ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
রিপাগ্লিনাইড মেগলিটিনাইড গ্রুপের ঔষধ। এটি খাবারের সময় অগ্ন্যাশয় থেকে দ্রুত ও অল্প সময়ের জন্য বেশি ইনসুলিন বের করায়। এতে খাওয়ার পর রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রতিটি প্রধান খাবারের ১৫ মিনিট আগে খান (খাওয়ার ঠিক আগে থেকে ৩০ মিনিট আগের মধ্যে)।
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত শুরুর মাত্রা প্রতিটি প্রধান খাবারের আগে ০.৫ mg, অথবা ডায়াবেটিসের অন্য ঔষধ থেকে বদলালে ১ mg। ডাক্তার প্রতি ১ থেকে ২ সপ্তাহে মাত্রা বাড়াতে পারেন। সর্বোচ্চ এক খাবারের আগে ৪ mg এবং দিনে ১৬ mg।
কোনো খাবার বাদ দিলে সেই ডোজও বাদ দিন। বাড়তি প্রধান খাবার খেলে পরামর্শ অনুযায়ী বাড়তি একটি ডোজ নেওয়া যায়।
বয়স্ক ও কিডনির সমস্যায় সাধারণত কম মাত্রা দিয়ে শুরু করা হয়। ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- জেমফাইব্রোজিল: রিপাগ্লিনাইডের সাথে খাওয়া যাবে না (রক্তে শর্করা অনেক কমে যাওয়ার ঝুঁকি)।
- ক্লোপিডোগ্রেল: রিপাগ্লিনাইডের মাত্রা বাড়ায়; সাধারণত এড়ানো হয় বা খুব সাবধানে ব্যবহার করা হয়।
- ক্লারিথ্রোমাইসিন, ইট্রাকোনাজোল, কিটোকোনাজোল, ট্রাইমেথোপ্রিম ও সাইক্লোস্পোরিন: রক্তে শর্করা কমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
- রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন ও ফেনিটয়েন: এর কাজ কমাতে পারে।
- বিটা-ব্লকার: রক্তে শর্করা কমার সতর্কসংকেত লুকিয়ে ফেলতে পারে।
- অ্যালকোহল ও ডায়াবেটিসের অন্য ঔষধ: রক্তে শর্করা কমার ঝুঁকি বাড়ে।
কারা খাবেন না
- টাইপ ১ ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিক কিটোঅ্যাসিডোসিস
- গুরুতর লিভারের রোগ
- জেমফাইব্রোজিল খেলে
- রিপাগ্লিনাইডে এলার্জি
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: রক্তে শর্করা কমে যাওয়া (ঘাম, কাঁপুনি, ক্ষুধা, বুক ধড়ফড়, মাথাব্যথা, বিভ্রান্তি), পেটে ব্যথা ও ডায়রিয়া।
বিরল: লিভারের সমস্যা, ত্বকে র্যাশ, রক্তে শর্করা স্থির হওয়ার সময় দেখার পরিবর্তন।
রক্তে শর্করা কমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে চিনি, গ্লুকোজ ট্যাবলেট বা মিষ্টি পানীয় খান, তারপর হালকা কিছু খান। বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা অজ্ঞান হওয়াসহ গুরুতর শর্করা কমা (অজ্ঞান মানুষকে মুখে কিছু দেবেন না), ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা মুখ ফুলে শ্বাসকষ্ট হলে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় রিপাগ্লিনাইড ব্যবহার হয় না; সাধারণত ইনসুলিন দেওয়া হয়। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না।
সতর্কতা
- নিয়মিত খাবার খান এবং সাথে চিনি বা মিষ্টি রাখুন।
- পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন, বিশেষ করে শুরুতে বা মাত্রা বদলালে।
- গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন; শর্করা কমার লক্ষণ টের পেলে থেমে যান।
- গুরুতর অসুস্থতা, সংক্রমণ বা অস্ত্রোপচারের সময় কিছুদিন ইনসুলিন লাগতে পারে।
- লিভার বা কিডনির রোগে এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তে শর্করা কমে যায়। চিনি বা মিষ্টি পানীয়, তারপর খাবার খান এবং চিকিৎসা নিন। শর্করা আবার কমে যেতে পারে, তাই কয়েক ঘণ্টা নজর রাখুন। অজ্ঞান হলে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ডায়াবেটিসের ঔষধ (মেগলিটিনাইড; খাবারের সময়ের শর্করা নিয়ন্ত্রক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।