ব্যবহার
রেসমেটিরম প্রাপ্তবয়স্কদের মেটাবলিক ডিসফাংশন-অ্যাসোসিয়েটেড স্টিয়াটোহেপাটাইটিস (MASH, আগে যাকে NASH বলা হতো) চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, যখন লিভারে মাঝারি থেকে বেশি দাগ বা ফাইব্রোসিস হয়েছে কিন্তু সিরোসিস হয়নি। লিভারে চর্বি জমে প্রদাহ ও ক্ষতি হলে তাকে MASH বলে; এটি প্রায়ই স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও উচ্চ কোলেস্টেরলের সাথে দেখা যায়। স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি এটি খেতে হয়।
কীভাবে কাজ করে
রেসমেটিরম লিভারের থাইরয়েড হরমোন রিসেপ্টর বিটার উপর কাজ করে। এতে লিভার বেশি চর্বি খরচ করে, ফলে লিভারের চর্বি কমে এবং সময়ের সাথে প্রদাহ ও দাগ কমতে পারে। এটি মূলত লিভারে কাজ করে; থাইরয়েডের রোগের চিকিৎসায় এটি ব্যবহার হয় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লিভার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী দিনে একবার মুখে খেতে হয়, খাবারের আগে বা পরে। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা ওজনের উপর নির্ভর করে: ওজন ১০০ কেজির কম হলে দিনে একবার ৮০ mg, আর ১০০ কেজি বা বেশি হলে দিনে একবার ১০০ mg। কিছু ঔষধ একসাথে খেলে ডাক্তার মাত্রা কমাতে পারেন। শিশুদের জন্য নয়। চিকিৎসার সময় নিয়মিত লিভারের রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- জেমফাইব্রোজিল ও এ ধরনের শক্তিশালী CYP2C8 বাধাদানকারী ঔষধ রেসমেটিরমের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়; একসাথে খাওয়া যাবে না।
- ক্লোপিডোগ্রেল খেলে রেসমেটিরমের মাত্রা কমাতে হতে পারে।
- সাইক্লোস্পোরিন ও লিভারের পরিবহন প্রোটিনে বাধা দেয় এমন কিছু ঔষধ এড়িয়ে চলতে হয়।
- রেসমেটিরম কিছু স্ট্যাটিনের রক্তমাত্রা বাড়ায়, তাই রোসুভাস্ট্যাটিন, সিমভাস্ট্যাটিন, অ্যাটরভাস্ট্যাটিন ও প্রাভাস্ট্যাটিনের মাত্রা সীমিত রাখতে হতে পারে।
যত ঔষধ ও সাপ্লিমেন্ট খান, সব ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
রেসমেটিরম বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে। সিরোসিসের কারণে ইতিমধ্যে জটিলতা দেখা দিলে (ডিকম্পেনসেটেড সিরোসিস) এটি দেওয়া হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, চুলকানি, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটব্যথা ও মাথা ঘোরা, বেশিরভাগই প্রথম কয়েক সপ্তাহে। কম দেখা যায়: লিভারের ক্ষতি এবং পিত্তথলির সমস্যা, যেমন পিত্তথলিতে পাথর বা প্রদাহ।
চোখ বা ত্বক হলুদ হলে, প্রস্রাব গাঢ় হলে, পেটের ডান দিকের উপরে ব্যথা হলে, খুব ক্লান্তি বা খাবারে অরুচি হলে, জ্বরসহ তীব্র বা টানা পেটব্যথা হলে, অথবা মুখ বা ঠোঁট ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য খুবই কম। গর্ভবতী হলে বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে ডাক্তারকে জানান; উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই শুধু ডাক্তার এটি দেবেন। বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই, তাই বুকের দুধ খাওয়ালে আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
সতর্কতা
চিকিৎসার সময় ডাক্তার লিভারের রক্ত পরীক্ষা করবেন। লিভার বা পিত্তথলির সমস্যার কোনো লক্ষণ দেখলে দেরি না করে জানান। খাবার ও ব্যায়ামের নিয়ম মেনে চলুন, মদ্যপান এড়িয়ে চলুন, এবং ডায়াবেটিস, রক্তচাপ ও কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
এর নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। পরামর্শের চেয়ে অনেক বেশি খেয়ে ফেললে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান; লক্ষণ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
লিভারের ঔষধ (থাইরয়েড হরমোন রিসেপ্টর বিটা অ্যাগোনিস্ট)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।