ব্যবহার
রেটিনল পালমিটেট হলো ভিটামিন A এর একটি রূপ। এটি ভিটামিন A এর ঘাটতি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। এই ঘাটতিতে রাতকানা, চোখ শুকিয়ে যাওয়া এবং গুরুতর হলে চোখের উপরিভাগের ক্ষতি (জেরোফথালমিয়া) ও মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে, বিশেষ করে শিশুদের। অন্ত্র, লিভার বা অগ্ন্যাশয়ের কিছু রোগে খাবার থেকে ভিটামিন A ঠিকমতো শোষিত না হলেও এটি দেওয়া হয়। মুখে খাওয়া সম্ভব না হলে ইনজেকশন রূপ ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
চোখে কম আলোয় দেখার জন্য যে আলো-সংবেদনশীল রঞ্জক লাগে, তা তৈরিতে ভিটামিন A দরকার। এটি ত্বক এবং চোখ, শ্বাসনালি ও অন্ত্রের আবরণ সুস্থ রাখে, রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করে এবং বৃদ্ধির জন্য জরুরি। রেটিনল পালমিটেট লিভারে জমা থাকে এবং দরকার অনুযায়ী সক্রিয় ভিটামিন A তে রূপান্তরিত হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা নির্ভর করে বয়স, ব্যবহারের কারণ ও ঘাটতির তীব্রতার ওপর; চিকিৎসকের পরামর্শ বা লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী খান। নির্ধারিত মাত্রার বেশি খাবেন না, কারণ ভিটামিন A শরীরে জমে থাকে। মুখে খাওয়ার রূপ কিছুটা চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে খাওয়া ভালো। ইনজেকশন চিকিৎসক বা নার্স দেন। শিশুদের উচ্চমাত্রার ভিটামিন A ক্যাপসুল শুধু স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় বা চিকিৎসকের পরামর্শে দেওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অন্য ভিটামিন A পণ্য বা আইসোট্রেটিনয়েন, অ্যাসিট্রেটিন বা ট্রেটিনয়েন ক্যাপসুলের মতো রেটিনয়েড ঔষধের সাথে একসাথে খাবেন না, এতে ভিটামিন A এর বিষক্রিয়া হতে পারে। উচ্চমাত্রায় টেট্রাসাইক্লিন, ডক্সিসাইক্লিন বা মিনোসাইক্লিনের সাথে খেলে মাথার খুলির ভেতরে চাপ বাড়তে পারে। অরলিস্ট্যাট, কোলেস্টাইরামিন ও মিনারেল অয়েল শোষণ কমাতে পারে। উচ্চমাত্রা ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে, শরীরে আগে থেকেই ভিটামিন A বেশি থাকলে (হাইপারভিটামিনোসিস A), অথবা রেটিনয়েড ঔষধ খেলে এটি ব্যবহার করবেন না। গর্ভাবস্থায় উচ্চমাত্রা ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
স্বাভাবিক মাত্রায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বিরল। অতিরিক্ত ভিটামিন A, বিশেষ করে দীর্ঘদিন খেলে, যা হতে পারে:
- মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঝাপসা দেখা, বমিভাব বা বমি
- ত্বক শুষ্ক হওয়া, চামড়া ওঠা বা চুলকানি, ঠোঁট ফাটা, চুল পড়া
- হাড় বা গিঁটে ব্যথা, ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ
- দীর্ঘদিন উচ্চমাত্রায় লিভারের সমস্যা
- শিশুদের বড় মাত্রার পর মাথার নরম জায়গা ফুলে ওঠা
বমিসহ তীব্র মাথাব্যথা বা দৃষ্টির পরিবর্তন, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অতিরিক্ত ঝিমুনি, অ্যালার্জির লক্ষণ (র্যাশ, ফোলা, শ্বাসকষ্ট) হলে, অথবা শিশু বেশি পরিমাণে খেয়ে ফেললে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ভিটামিন A দরকার, তবে বেশি হলে শিশুর মারাত্মক জন্মগত ত্রুটি হতে পারে। গর্ভবতী বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করছেন এমন নারীরা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাপ্লিমেন্ট থেকে দিনে ১০,০০০ IU এর বেশি নেবেন না এবং উচ্চমাত্রার পণ্য এড়িয়ে চলবেন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্বাভাবিক নির্ধারিত মাত্রা নিরাপদ; ভিটামিন A দুধে যায়, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া উচ্চমাত্রা নেবেন না।
সতর্কতা
দুবার ভিটামিন A খাওয়া এড়াতে আপনার সব সাপ্লিমেন্ট ও মাল্টিভিটামিন দেখে নিন। লিভারের রোগ, কিডনির রোগ এবং বেশি মদ্যপানের অভ্যাস থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। শিশুরা মাত্রাতিরিক্ত সেবনে বেশি সংবেদনশীল; ঔষধ তাদের নাগালের বাইরে রাখুন। দীর্ঘদিন উচ্চমাত্রায় ব্যবহারে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধান দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবারে অনেক বেশি খেলে তীব্র মাথাব্যথা, ঝিমুনি, বমি, ঝাপসা দেখা এবং শিশুদের মাথার নরম জায়গা ফুলে উঠতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত খেলে লিভার ও হাড়ের ক্ষতি হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন; চিকিৎসায় ভিটামিন A বন্ধ করে সহায়ক যত্ন দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
চর্বিতে দ্রবণীয় ভিটামিন (ভিটামিন A)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে, শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইনজেকশন প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।