ব্যবহার
রিফাক্সিমিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা মূলত অন্ত্রের ভেতরে কাজ করে। অআক্রমণাত্মক ই. কোলাই জীবাণুর কারণে ভ্রমণকালীন ডায়রিয়া (জ্বর বা মলে রক্ত ছাড়া), প্রাপ্তবয়স্কদের হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি (লিভারের রোগের কারণে বিভ্রান্তি) বারবার হওয়ার ঝুঁকি কমাতে, এবং ডায়রিয়াসহ ইরিটেবল বাউয়েল সিনড্রোমে (আইবিএস-ডি) এটি ব্যবহার হয়। ক্ষুদ্রান্ত্রে জীবাণুর অতিরিক্ত বৃদ্ধিতেও ডাক্তার এটি দিতে পারেন।
কীভাবে কাজ করে
রিফাক্সিমিন রিফামাইসিন গ্রুপের ঔষধ। এটি জীবাণুর বৃদ্ধির জন্য দরকারি প্রোটিন তৈরি বন্ধ করে দেয়। রক্তে খুব কম শোষিত হয়, তাই এটি অন্ত্রের জীবাণুর ওপর কাজ করে, যার মধ্যে অ্যামোনিয়া তৈরিকারী জীবাণুও আছে। লিভারের রোগে এই অ্যামোনিয়া মস্তিষ্কের ক্ষতি করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ভ্রমণকালীন ডায়রিয়া, প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী: সাধারণত ২০০ mg দিনে ৩ বার, ৩ দিন।
- হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথি, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত ৫৫০ mg দিনে ২ বার, দীর্ঘমেয়াদি, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- আইবিএস-ডি, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত ৫৫০ mg দিনে ৩ বার, ১৪ দিন, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- অন্য ব্যবহার ও ১২ বছরের কম বয়সী শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শে।
খাবারের আগে বা পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে খান। ঔষধের কোর্স পুরো শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
সাইক্লোস্পোরিন রক্তে রিফাক্সিমিনের মাত্রা বাড়াতে পারে। রিফাক্সিমিন ওয়ারফারিনের কাজ বদলাতে পারে, তাই রক্ত পরীক্ষা (INR) আরও ঘন ঘন করার দরকার হতে পারে। এটি হরমোনযুক্ত জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির কার্যকারিতা কমাতে পারে; অতিরিক্ত সুরক্ষা দরকার কি না ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
কারা খাবেন না
- রিফাক্সিমিন বা রিফাম্পিসিনের মতো অন্য রিফামাইসিনে এলার্জি থাকলে।
- অন্ত্রে বাধা থাকলে।
- জ্বর বা মলে রক্তসহ ভ্রমণকালীন ডায়রিয়ায়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
গ্যাস, পেট ফাঁপা, বমিভাব, পেটব্যথা, মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা। লিভারের রোগীদের পা ফোলা ও ক্লান্তি হতে পারে। কখনও কখনও প্রস্রাব লালচে হতে পারে।
এসব হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- চিকিৎসার সময় বা পরে তীব্র বা টানা ডায়রিয়া, বিশেষ করে পানির মতো বা রক্তযুক্ত।
- ডায়রিয়া বেড়ে গেলে বা ৪৮ ঘণ্টার বেশি থাকলে, বা সাথে বেশি জ্বর থাকলে।
- মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, গুরুতর র্যাশ বা শ্বাসকষ্ট।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার না বললে গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খান।
সতর্কতা
জ্বর বা মলে রক্তসহ ডায়রিয়ায় এটি ব্যবহার না করে ডাক্তার দেখান। লিভারের গুরুতর রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান। হেপাটিক এনসেফালোপ্যাথির জন্য খেলে ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বন্ধ করবেন না। ডায়রিয়ার সময় প্রচুর পানি ও তরল খান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
খুব কম শোষিত হয় বলে গুরুতর প্রভাবের সম্ভাবনা কম। বেশি খেয়ে ফেললে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিবায়োটিক (রিফামাইসিন, অন্ত্রে কাজ করে)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।