ব্যবহার
রিমেজেপ্যান্ট প্রাপ্তবয়স্কদের মাইগ্রেনের আক্রমণ শুরু হওয়ার পর চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়, অরা থাকুক বা না থাকুক। মাসে ১৫ দিনের কম মাইগ্রেন হয় এমন ক্ষেত্রে (এপিসোডিক মাইগ্রেন) প্রতিরোধেও এটি ব্যবহার হয়। অন্য ধরনের মাথাব্যথায় এটি ব্যবহার করা হয় না।
কীভাবে কাজ করে
মাইগ্রেনের সময় মস্তিষ্কের চারপাশে সিজিআরপি (ক্যালসিটোনিন জিন সম্পর্কিত পেপটাইড) নামে একটি স্নায়ু রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যা রক্তনালী প্রসারিত করে ব্যথা ও প্রদাহ তৈরি করে। রিমেজেপ্যান্ট সিজিআরপির রিসেপ্টর বন্ধ করে দেয়, ফলে মাথাব্যথা এবং আলো ও শব্দে অস্বস্তির মতো উপসর্গ কমে, আর নিয়মিত সেবনে আক্রমণের সংখ্যাও কমতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- আক্রমণের চিকিৎসায়: প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা ৭৫ mg একবার, মাইগ্রেন শুরু হওয়ার পর যত দ্রুত সম্ভব।
- মাইগ্রেন প্রতিরোধে: চিকিৎসক বললে একদিন পরপর ৭৫ mg।
- ২৪ ঘণ্টায় ৭৫ mg এর বেশি নেবেন না।
- মুখে গলে যাওয়া ট্যাবলেটটি জিহ্বার উপর বা নিচে রাখুন, এটি গলে যাবে; পানি দিয়ে বা ছাড়া নেওয়া যায়। শুকনো হাতে প্যাক থেকে বের করে সাথে সাথে নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন ও রিটোনাভিরের মতো শক্তিশালী CYP3A4 ইনহিবিটরের সাথে ব্যবহার এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো রিমেজেপ্যান্টের মাত্রা অনেক বাড়ায়। ফ্লুকোনাজল, ডিলটিয়াজেম বা ইরিথ্রোমাইসিনের মতো মাঝারি CYP3A4 ইনহিবিটর নিলে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ নেবেন না। রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটয়েন ও সেন্ট জনস ওয়ার্টের মতো এনজাইম বাড়ানো ঔষধ এটির কার্যকারিতা কমাতে পারে, তাই এড়িয়ে চলুন। সাইক্লোস্পোরিন ও কুইনিডিনের মতো শক্তিশালী পি-গ্লাইকোপ্রোটিন ইনহিবিটরও এড়ানো উচিত। জাম্বুরা জাতীয় গ্রেপফ্রুটের রস এর মাত্রা বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
রিমেজেপ্যান্ট বা ট্যাবলেটের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না। যকৃতের গুরুতর রোগ বা শেষ পর্যায়ের কিডনি রোগে এটি সুপারিশ করা হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বমি বমি ভাব। কারো পেটব্যথা, বদহজম বা ক্লান্তি হতে পারে। র্যাশ, চুলকানি বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জি হতে পারে, কখনো সেবনের কয়েক দিন পরে। এই শ্রেণির ঔষধে রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া বা রেনড ফেনোমেনন (হাত পায়ের আঙুল ঠান্ডা, ফ্যাকাশে বা ব্যথাযুক্ত হওয়া) দেখা গেছে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট বা গুরুতর র্যাশ হলে, অথবা মাথাব্যথা হঠাৎ, খুব তীব্র বা আপনার স্বাভাবিক মাইগ্রেনের চেয়ে ভিন্ন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য সীমিত, তাই চিকিৎসক প্রয়োজন মনে না করলে এড়িয়ে চলাই ভালো। বুকের দুধে সামান্য পরিমাণ যায়; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
- চিকিৎসক মাইগ্রেন নিশ্চিত করার পরেই ব্যবহার করুন।
- যকৃৎ বা কিডনির রোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা রক্তসঞ্চালনের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- শিশু ও কিশোরদের জন্য অনুমোদিত নয়।
- মাথাব্যথার একটি ডায়েরি রাখুন; খুব ঘন ঘন ঔষধ লাগলে চিকিৎসকের কাছে যান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনের অভিজ্ঞতা খুব কম। বেশি খেয়ে ফেললে চিকিৎসক বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন। পর্যবেক্ষণসহ উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মাইগ্রেনরোধী ঔষধ, সিজিআরপি রিসেপ্টর অ্যান্টাগোনিস্ট (জেপ্যান্ট)
সংরক্ষণ
আর্দ্রতা ও আলো থেকে রক্ষায় মূল প্যাকে, ৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায় রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।