ব্যবহার
রিভাস্টিগমিন আলঝেইমার রোগের হালকা থেকে মাঝারি ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রংশ) এবং পারকিনসন রোগের সাথে যুক্ত ডিমেনশিয়ার উপসর্গ কমাতে ব্যবহার হয়। এটি কিছু সময়ের জন্য স্মৃতি, চিন্তা ও দৈনন্দিন কাজে সাহায্য করতে পারে, তবে রোগ সারায় না বা থামায় না।
কীভাবে কাজ করে
ডিমেনশিয়ায় মস্তিষ্কে অ্যাসিটাইলকোলিন কমে যায়, যা স্মৃতি ও শেখার জন্য স্নায়ুকোষের একটি বার্তাবাহক রাসায়নিক। রিভাস্টিগমিন এই রাসায়নিক ভেঙে ফেলা এনজাইমগুলো (কোলিনএস্টারেজ) আটকে দেয়, ফলে মস্তিষ্কে বেশি অ্যাসিটাইলকোলিন থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ক্যাপসুল বা সিরাপ, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে ২ বার ১.৫ mg করে, সকাল ও রাতের খাবারের সাথে শুরু করা হয়। ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়ান, অন্তত ২ সপ্তাহ পর পর, সাধারণত সর্বোচ্চ দিনে ২ বার ৬ mg পর্যন্ত।
- চামড়ায় লাগানোর প্যাচ: ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। সাধারণত দিনে একটি প্যাচ পিঠের উপরের অংশ, বাহু বা বুকের পরিষ্কার, শুকনো ও লোমহীন চামড়ায় লাগাতে হয়, প্রতিদিন আলাদা জায়গায়। নতুন প্যাচ লাগানোর আগে পুরনোটি খুলে ফেলুন।
- পেটের অস্বস্তি কমাতে ক্যাপসুল সবসময় খাবারের সাথে খান।
- ৩ দিনের বেশি ঔষধ বাদ গেলে আগের মাত্রায় আবার শুরু করবেন না; ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, সাধারণত সবচেয়ে কম মাত্রা থেকে আবার শুরু করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান, বিশেষ করে: মেটোক্লোপ্রামাইড (কাঁপুনি ও শক্ত ভাব বাড়াতে পারে); এটেনোলল বা প্রোপ্রানোললের মতো বিটা ব্লকার ও হৃৎস্পন্দন কমায় এমন ঔষধ (নাড়ি খুব ধীর হওয়া বা অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি); অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাবযুক্ত ঔষধ, যেমন কিছু প্রস্রাবের থলির, এলার্জির ও পুরনো ধরনের বিষণ্ণতার ঔষধ, যা রিভাস্টিগমিনের উল্টো কাজ করে; এবং অপারেশনের সময় ব্যবহৃত মাংসপেশি শিথিল করার ঔষধ, তাই অপারেশনের আগে চিকিৎসক দলকে জানান।
কারা খাবেন না
- রিভাস্টিগমিন, একই ধরনের ঔষধ (কার্বামেট) বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- আগে রিভাস্টিগমিন প্যাচে চামড়ার তীব্র প্রতিক্রিয়া হয়ে প্যাচের জায়গার বাইরে ছড়িয়ে থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, বমি, পাতলা পায়খানা, খাবারে অরুচি, ওজন কমা, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি এবং পারকিনসন রোগীদের কাঁপুনি বেড়ে যাওয়া। প্যাচের জায়গায় লালচে ভাব বা চুলকানি হতে পারে। শুরুতে বা মাত্রা বাড়ানোর সময় পেটের সমস্যা বেশি হয়।
জরুরি চিকিৎসা নিন যদি: হৃৎস্পন্দন খুব ধীর বা অনিয়মিত হয়, অজ্ঞান হয়ে যান, তীব্র বা টানা বমি বা পাতলা পায়খানায় পানিশূন্যতা দেখা দেয়, রক্তবমি হয় বা কালো পায়খানা হয়, খিঁচুনি হয়, অথবা ছড়িয়ে পড়া র্যাশ, মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্ট হয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য খুব কম; ডাক্তার একান্ত প্রয়োজন মনে করলেই ব্যবহার করা উচিত। চিকিৎসা চলাকালে বুকের দুধ খাওয়ানো পরামর্শযোগ্য নয়।
সতর্কতা
- হৃৎস্পন্দনের সমস্যা, পাকস্থলী বা ডিওডেনামের আলসার, হাঁপানি বা অন্য ফুসফুসের রোগ, প্রস্রাবে বাধা, খিঁচুনি, অথবা লিভার বা কিডনির রোগ থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- যাদের ওজন কম তাদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বেশি হতে পারে; নিয়মিত ওজন মাপা উচিত।
- একসাথে একটির বেশি প্যাচ লাগাবেন না এবং প্যাচ কাটবেন না। ভুল করে বাড়তি প্যাচ লাগালে মাত্রাতিরিক্ত হতে পারে।
- মাথা ঘোরা বা ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে; গাড়ি চালানো বা যন্ত্র চালানোয় সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি হয়ে গেলে তীব্র বমি বমি ভাব, বমি, পাতলা পায়খানা, ঘাম, ধীর হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ কমে যাওয়া, মাংসপেশির দুর্বলতা ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। লাগানো প্যাচ খুলে ফেলুন এবং সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কোলিনএস্টারেজ ইনহিবিটর (ডিমেনশিয়ার ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। প্যাচ ব্যবহারের আগ পর্যন্ত সিল করা প্যাকেটে রাখুন এবং ব্যবহৃত প্যাচ ভাঁজ করে ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।