ব্যবহার
রোফ্লুমিলাস্ট প্রাপ্তবয়স্কদের মারাত্মক সিওপিডি (দীর্ঘমেয়াদী ফুসফুসের রোগ) তে ব্যবহার হয়, যাদের ক্রনিক ব্রংকাইটিস (প্রতিদিন কফসহ কাশি) আছে এবং বারবার রোগ বেড়ে যায়। এটি ইনহেলার চিকিৎসার (ব্রঙ্কোডাইলেটর) সাথে অতিরিক্ত দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসা হিসেবে খাওয়া হয়। এটি তাৎক্ষণিক আরামের ঔষধ নয়, হঠাৎ শ্বাসকষ্টে কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
রোফ্লুমিলাস্ট ফুসফুসের প্রদাহ সৃষ্টিকারী কোষে ফসফোডাইএস্টারেজ-৪ (PDE4) নামের একটি এনজাইম আটকে দেয়। এতে শ্বাসনালির প্রদাহ কমে এবং সিওপিডি বেড়ে যাওয়ার সংখ্যা কমাতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: দিনে একবার ৫০০ মাইক্রোগ্রাম (০.৫ mg)। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে কোনো কোনো ডাক্তার প্রথম ৪ সপ্তাহ দিনে একবার ২৫০ মাইক্রোগ্রাম দিয়ে শুরু করেন, তারপর ৫০০ মাইক্রোগ্রামে বাড়ান। ট্যাবলেট আস্ত পানি দিয়ে প্রতিদিন একই সময়ে গিলে খান, খাবারের আগে বা পরে। উপকার পেতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। ডাক্তারের দেওয়া ইনহেলার চালিয়ে যান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- রিফাম্পিসিন, ফেনোবার্বিটাল, কার্বামাজেপিন ও ফেনিটোইন এর কাজ কমায়; একসাথে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় না।
- ইরিথ্রোমাইসিন, কেটোকোনাজোল, ফ্লুভোক্সামিন, সিমেটিডিন ও এনোক্সাসিন এর মাত্রা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়াতে পারে।
- থিওফাইলিনের সাথে একসাথে ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় না।
- রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর ঔষধ (যেমন মেথোট্রেক্সেট বা অ্যাজাথায়োপ্রিন) এর সাথে দীর্ঘদিন ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় না।
কারা খাবেন না
মাঝারি বা মারাত্মক লিভারের রোগ থাকলে; রোফ্লুমিলাস্ট বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: পাতলা পায়খানা, বমি বমি ভাব, ওজন কমা, ক্ষুধা কমা, পেটব্যথা, মাথাব্যথা, ঘুমের সমস্যা ও কোমরে ব্যথা। এগুলো প্রায়ই প্রথম কয়েক সপ্তাহ পরে কমে যায়। উদ্বেগ, অস্থিরতা, মন খারাপ বা বিষণ্ণতাও হতে পারে। নিজেকে ক্ষতি করার চিন্তা এলে, হঠাৎ মারাত্মক মন খারাপ বা আচরণের পরিবর্তন হলে, মারাত্মক বা দীর্ঘস্থায়ী পাতলা পায়খানা হলে, অথবা এলার্জির লক্ষণ (মুখ বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে র্যাশ) দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। ওজন কমতে থাকলে ডাক্তারকে জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় না। গর্ভধারণের সম্ভাবনা আছে এমন নারীরা চিকিৎসার সময় কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করবেন। খাওয়ার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
আগে বিষণ্ণতা বা মানসিক সমস্যা, লিভারের সমস্যা, হার্ট ফেইলিউর, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, অথবা যক্ষ্মা, হেপাটাইটিস বা HIV এর মতো গুরুতর সংক্রমণ থাকলে ডাক্তারকে জানান। নিয়মিত ওজন মাপা হতে পারে। এটি হাঁপানির জন্য নয় এবং ১৮ বছরের কম বয়সীদের দেওয়া হয় না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি, বুক ধড়ফড় ও রক্তচাপ কমে যাওয়া হতে পারে। চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহনাশক ঔষধ (ফসফোডাইএস্টারেজ-৪ ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।