ব্যবহার
স্যাকুবিট্রিল ভালসার্টানের সাথে একসাথে একটি ট্যাবলেটে ব্যবহার হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের দীর্ঘমেয়াদি হার্ট ফেইলিউরে, যখন হৃদযন্ত্র দুর্বলভাবে রক্ত পাম্প করে (ইজেকশন ফ্র্যাকশন কম), এটি দেওয়া হয়। এটি হার্ট ফেইলিউরের কারণে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর ঝুঁকি কমায়। এটি এককভাবে ব্যবহার করা হয় না।
কীভাবে কাজ করে
স্যাকুবিট্রিল নেপ্রিলাইসিন নামের একটি এনজাইমকে বাধা দেয়। এতে শরীরের এমন কিছু প্রাকৃতিক পদার্থ বাড়ে যা রক্তনালি প্রসারিত করে এবং কিডনিকে বাড়তি লবণ ও পানি বের করে দিতে সাহায্য করে। ভালসার্টান অ্যানজিওটেনসিন ২ নামের হরমোনের কাজ আটকায়, যা রক্তনালি সরু করে। দুটি মিলে হৃদযন্ত্রের উপর চাপ কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাত্রা ডাক্তার নির্ধারণ ও সমন্বয় করেন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত দিনে ২ বার ৪৯ mg/৫১ mg (স্যাকুবিট্রিল/ভালসার্টান) দিয়ে শুরু করা হয়। রক্তচাপ কম, কিডনি বা লিভারের সমস্যা থাকলে, অথবা আগে কখনো এসিই ইনহিবিটর বা অ্যানজিওটেনসিন রিসেপ্টর ব্লকার না খেয়ে থাকলে দিনে ২ বার ২৪ mg/২৬ mg দিয়ে শুরু করা হয়। সহ্য হলে সাধারণত প্রতি ২ থেকে ৪ সপ্তাহ পর মাত্রা দ্বিগুণ করে দিনে ২ বার ৯৭ mg/১০৩ mg পর্যন্ত নেওয়া হয়। খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়। ডাক্তারের সাথে কথা না বলে খাওয়া বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- এসিই ইনহিবিটর (যেমন এনালাপ্রিল বা রামিপ্রিল): একসাথে খাওয়া যাবে না; মারাত্মক ফোলাভাবের (অ্যানজিওইডিমা) ঝুঁকির কারণে এই ঔষধ শুরুর অন্তত ৩৬ ঘণ্টা আগে এসিই ইনহিবিটর বন্ধ করতে হবে।
- অন্য অ্যানজিওটেনসিন রিসেপ্টর ব্লকার (যেমন লোসার্টান): একসাথে খাবেন না, কারণ এই ট্যাবলেটে আগে থেকেই ভালসার্টান আছে।
- অ্যালিস্কিরেন: এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগ থাকলে।
- পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট, পটাশিয়ামযুক্ত লবণ, স্পাইরোনোল্যাকটোন, এপলেরেনোন ও অন্যান্য পটাশিয়াম-সংরক্ষণকারী ডাইউরেটিক: রক্তে পটাশিয়াম বাড়াতে পারে।
- আইবুপ্রোফেন ও অন্যান্য এনএসএআইডি জাতীয় ব্যথানাশক: কিডনির কাজে প্রভাব ফেলতে পারে।
- লিথিয়াম: রক্তে মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
- অ্যাটোরভাস্ট্যাটিনের মতো কিছু স্ট্যাটিনের মাত্রা বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- স্যাকুবিট্রিল, ভালসার্টান বা কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- বর্তমানে বা গত ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে এসিই ইনহিবিটর খেয়ে থাকলে।
- আগে কখনো অ্যানজিওইডিমা (মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা হঠাৎ ফুলে যাওয়া) হয়ে থাকলে, কারণ যা-ই হোক।
- ডায়াবেটিস বা মাঝারি থেকে গুরুতর কিডনি সমস্যায় অ্যালিস্কিরেনের সাথে।
- গুরুতর লিভার রোগ, বিলিয়ারি সিরোসিসসহ।
- গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে রক্তচাপ কমে যাওয়া (মাথা ঘোরা, বিশেষ করে দাঁড়ালে), রক্তে পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়া, কিডনির কাজ কমে যাওয়া, কাশি, ক্লান্তি ও মাথাব্যথা। মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে বা গিলতে কষ্ট হলে (অ্যানজিওইডিমা), অজ্ঞান হয়ে গেলে, হৃদস্পন্দন খুব ধীর বা অনিয়মিত হলে, অথবা প্রস্রাব স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় খাবেন না, কারণ এটি গর্ভের শিশুর মারাত্মক ক্ষতি বা মৃত্যু ঘটাতে পারে। গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকলে নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করুন এবং গর্ভবতী হলে সাথে সাথে ডাক্তারকে জানান। এই ঔষধ খাওয়ার সময় বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয় না।
সতর্কতা
চিকিৎসার আগে ও চলাকালে ডাক্তার রক্তচাপ, কিডনির কার্যক্ষমতা ও পটাশিয়ামের মাত্রা পরীক্ষা করবেন। কিডনি বা লিভারের রোগ, কিডনির ধমনি সরু হওয়া, পানিশূন্যতা বা আগে অ্যানজিওইডিমা হয়ে থাকলে ডাক্তারকে জানান। মাথা ঘোরা এড়াতে বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে ধীরে ধীরে উঠুন। মাথা ঘোরা বা ক্লান্ত লাগলে গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না। কৃষ্ণাঙ্গ আফ্রিকান বংশোদ্ভূতদের অ্যানজিওইডিমার ঝুঁকি কিছুটা বেশি হতে পারে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে সাধারণত রক্তচাপ খুব কমে গিয়ে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়ার মতো সমস্যা হয়। পা উঁচু করে শুয়ে পড়ুন এবং দ্রুত জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যানজিওটেনসিন রিসেপ্টর নেপ্রিলাইসিন ইনহিবিটর (এআরএনআই); হার্ট ফেইলিউরের ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। আর্দ্রতা থেকে রক্ষা করতে মূল প্যাকেটে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।