ব্যবহার
স্যালিসাইলিক এসিড ত্বকে লাগিয়ে মোটা বা আঁশযুক্ত ত্বক নরম করে তুলে ফেলতে ব্যবহার হয়। কম শক্তির পণ্য ব্রণ ও ব্ল্যাকহেডসে দেওয়া হয়। মলম, লোশন ও জেল সোরিয়াসিস, খুশকি, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস এবং পুরু ও খসখসে ত্বকে ব্যবহার হয়; আঁশযুক্ত প্রদাহযুক্ত ত্বকের জন্য প্রায়ই এর সাথে বিটামেথাসন, আর ছত্রাকজনিত ত্বকের সংক্রমণে বেনজোয়িক এসিড থাকে। বেশি শক্তির পণ্য আঁচিল, কড়া ও শক্ত চামড়া (কলাস) তুলতে ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি কেরাটোলাইটিক, অর্থাৎ মৃত কোষগুলোর মধ্যকার বন্ধন আলগা করে দেয়, ফলে সেগুলো সহজে ঝরে পড়ে। এতে শক্ত বা আঁশযুক্ত ত্বক পাতলা হয়, লোমকূপের মুখ খোলে, এবং পণ্যের অন্য ঔষধ নিচের ত্বকে পৌঁছাতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
পণ্যভেদে শক্তি অনেক আলাদা, তাই লেবেল বা ডাক্তারের পরামর্শ মানুন। ব্রণের পণ্য (সাধারণত ০.৫ থেকে ২ শতাংশ): আক্রান্ত জায়গায় দিনে ১ থেকে ৩ বার পাতলা করে লাগান; ত্বক সংবেদনশীল হলে দিনে ১ বার দিয়ে শুরু করুন। মলম, লোশন ও মাথার ত্বকের পণ্য: সাধারণত দিনে ১ বা ২ বার শুধু আক্রান্ত জায়গায়। আঁচিল ও কড়ার পণ্য: জায়গাটি ভিজিয়ে শুকিয়ে নিন, চারপাশের সুস্থ ত্বক ঢেকে রাখুন, এবং শুধু আঁচিল বা কড়ায় সাধারণত দিনে ১ বার লাগান; মাঝে মাঝে আলতো করে মৃত চামড়া ঘষে তুলে ফেলুন। ব্যবহারের পর হাত ধুয়ে নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
একই জায়গায় ত্বক শুকিয়ে বা ছাল তুলে দেয় এমন অন্য পণ্য (যেমন বেনজয়েল পারক্সাইড, ট্রেটিনোইন, অ্যাডাপালিন বা অ্যালকোহলযুক্ত পণ্য) ব্যবহার করলে জ্বালাপোড়া বাড়ে। বড় জায়গায় লাগালে যথেষ্ট পরিমাণ শোষিত হয়ে অ্যাসপিরিন ও ওয়ারফারিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধের প্রভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
স্যালিসাইলিক এসিড বা অ্যাসপিরিনের মতো অন্য স্যালিসাইলেটে এলার্জি থাকলে। কাটা, সংক্রমিত বা প্রদাহযুক্ত ত্বকে ব্যবহার করবেন না। আঁচিল ও কড়ার পণ্য মুখে, যৌনাঙ্গে, তিল, জন্মদাগ বা লোমযুক্ত আঁচিলে ব্যবহার করা যাবে না, এবং ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ডায়াবেটিস বা রক্তসঞ্চালনের সমস্যা থাকলে ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
লাগানোর জায়গায় শুষ্কতা, ছাল ওঠা, চিনচিন বা জ্বালা ও লালচে ভাব। গুরুতর এলার্জি (মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট) হলে, অথবা বড় জায়গায় ব্যবহারের পর কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, বমি বমি ভাব ও বমি, দ্রুত গভীর শ্বাস, মাথা ঘোরা বা বিভ্রান্তির মতো স্যালিসাইলেট বিষক্রিয়ার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
অল্প জায়গায় ব্যবহার সাধারণত গ্রহণযোগ্য বলে ধরা হয়। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থায় বেশি শক্তির পণ্য, বড় জায়গায় বা দীর্ঘদিন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনের আশেপাশে লাগাবেন না।
সতর্কতা
চোখ, মুখ ও নাকের ভেতর থেকে দূরে রাখুন; চোখে গেলে ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ত্বকের বড় অংশে, আঁটসাঁট ব্যান্ডেজের নিচে বা দীর্ঘদিন ব্যবহার করবেন না, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে; ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের এড়িয়ে চলুন। লাগানো ত্বক সহজে রোদে পুড়তে পারে, তাই সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। কিছু জেল ও দ্রবণ দাহ্য; আগুন থেকে দূরে রাখুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
গিলে ফেললে বা বড় জায়গায় বেশি ব্যবহার করলে স্যালিসাইলেট বিষক্রিয়া (কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, বমি, দ্রুত শ্বাস, বিভ্রান্তি) হতে পারে। এটি জরুরি অবস্থা; দেরি না করে হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কেরাটোলাইটিক (চর্মরোগের ঔষধ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো, তাপ ও আগুন থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।