ব্যবহার
সালসালেট একটি ব্যথানাশক ও প্রদাহনাশক ঔষধ। রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, অস্টিওআর্থ্রাইটিস ও এ ধরনের গিঁটের সমস্যায় ব্যথা, ফোলা ও আড়ষ্টতা কমাতে এটি ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
শরীরে সালসালেট ভেঙে স্যালিসাইলিক অ্যাসিডে পরিণত হয়, যা অ্যাসপিরিনেরও সক্রিয় উপাদান। স্যালিসাইলিক অ্যাসিড প্রোস্টাগ্ল্যানডিন নামের ব্যথা ও প্রদাহ সৃষ্টিকারী রাসায়নিকের উৎপাদন কমায়। অ্যাসপিরিনের মতো নয়, এটি রক্তের প্লাটিলেটের ওপর খুব কম প্রভাব ফেলে এবং পাকস্থলীতে কম জ্বালাপোড়া করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশমতো সেবন করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা দিনে ৩০০০ mg, ২ বা ৩ ভাগে (যেমন দিনে ২ বার ১৫০০ mg বা দিনে ৩ বার ১০০০ mg), খাবার বা দুধের সাথে এবং এক গ্লাস পানি দিয়ে। বয়স্কদের কম মাত্রা লাগতে পারে। পূর্ণ উপকার পেতে কয়েক দিন লাগতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যাসপিরিন বা আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাকের মতো অন্য এনএসএইডির সাথে খাবেন না, এতে পাকস্থলীর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়ে। এটি ওয়ারফারিন ও অন্য রক্ত পাতলাকারক, মিথোট্রেক্সেট এবং কিছু ডায়াবেটিসের ঔষধের (সালফোনাইলইউরিয়া) প্রভাব বাড়াতে পারে। এটি রক্তচাপের ঔষধ ও ডাইইউরেটিকের কার্যকারিতা কমাতে পারে। অ্যান্টাসিড স্যালিসিলেটের মাত্রা কমাতে পারে। আপনি যেসব ঔষধ খান সব চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
সালসালেট, অ্যাসপিরিন বা অন্য স্যালিসিলেটে অ্যালার্জি থাকলে, অথবা অ্যাসপিরিন বা এনএসএইডি খেয়ে হাঁপানি, আমবাত বা ফোলা হয়ে থাকলে খাবেন না। ফ্লু বা জলবসন্তের মতো ভাইরাসজনিত অসুখে শিশু ও কিশোরদের জন্য নয় (রেইই সিনড্রোমের ঝুঁকি)। সক্রিয় পাকস্থলীর ঘা বা রক্তক্ষরণে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পেটের অস্বস্তি, বুক জ্বালা, বমি ভাব, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, কানে কম শোনা, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা ও র্যাশ হতে পারে। কানে শব্দ হওয়া প্রায়ই মাত্রা বেশি হওয়ার লক্ষণ।
কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, রক্তবমি বা কফির গুঁড়ার মতো বমি, পেটে তীব্র ব্যথা, মুখ বা ঠোঁট ফোলা, সাঁই সাঁই শব্দ বা শ্বাসকষ্ট, তীব্র ত্বকের প্রতিক্রিয়া, বিভ্রান্তি বা খুব কম প্রস্রাব হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক না বললে গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন, এবং গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে ব্যবহার করবেন না, কারণ স্যালিসিলেট শিশুর ক্ষতি করতে ও প্রসবে প্রভাব ফেলতে পারে। স্যালিসিলেট বুকের দুধে যায়; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
কিডনি বা লিভারের রোগ, হাঁপানি, হার্ট ফেইলিউর, উচ্চ রক্তচাপ, গোঁটেবাত এবং পাকস্থলীর ঘায়ের ইতিহাস থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন, এতে পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ে। দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহারে রক্তে স্যালিসিলেটের মাত্রা পরীক্ষা লাগতে পারে। চিকিৎসক বললে অস্ত্রোপচারের আগে বন্ধ করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে কানে শব্দ, দ্রুত শ্বাস, বমি, ঘাম, জ্বর, বিভ্রান্তি, তন্দ্রাভাব ও খিঁচুনি হতে পারে, যা প্রাণঘাতী হতে পারে। সাথে সাথে নিকটস্থ হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
নন-স্টেরয়েডাল অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি ঔষধ (এনএসএইডি), স্যালিসিলেট।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।