ব্যবহার
সার্টাকোনাজোল নাইট্রেট ত্বকে লাগানোর একটি ছত্রাকনাশক ঔষধ। ক্রিমটি পায়ের আঙুলের ফাঁকে ছত্রাক (অ্যাথলিটস ফুট), শরীরের দাদ (টিনিয়া করপোরিস), কুঁচকির দাদ (টিনিয়া ক্রুরিস), ত্বকের ইস্ট সংক্রমণ (ক্যান্ডিডিয়াসিস) এবং পিটিরিয়াসিস ভার্সিকালার (ইস্টজনিত ত্বকে সাদা বা কালচে দাগ) এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। কিছু পণ্য যোনির ইস্ট সংক্রমণের জন্য তৈরি, সেগুলো শুধু নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করতে হয়।
কীভাবে কাজ করে
সার্টাকোনাজোল অ্যাজোল গোষ্ঠীর ছত্রাকনাশক। এটি ছত্রাককে এরগোস্টেরল তৈরি করতে বাধা দেয়, যা ছত্রাকের কোষপর্দার মূল উপাদান; ফলে ছত্রাক বাড়তে পারে না। বেশি ঘনত্বে এটি সরাসরি কোষপর্দা ক্ষতিগ্রস্ত করে ছত্রাক মেরে ফেলতেও সাহায্য করে। চুলকানি কমাতেও এর হালকা প্রভাব আছে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের ত্বকের সংক্রমণে: আক্রান্ত জায়গা ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিন, তারপর আক্রান্ত ত্বক ও চারপাশের অল্প সুস্থ ত্বকে ২% ক্রিমের পাতলা প্রলেপ দিন, সাধারণত নির্দেশনা অনুযায়ী দিনে এক বা দুইবার। চিকিৎসা সাধারণত ২ থেকে ৪ সপ্তাহ চলে। ত্বক ভালো দেখালেও পুরো কোর্স শেষ করুন, নইলে সংক্রমণ ফিরে আসতে পারে। হাতে চিকিৎসা না হলে লাগানোর পর হাত ধুয়ে নিন। যোনিতে ব্যবহারের পণ্য লেবেল বা চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ত্বক দিয়ে খুব সামান্য সার্টাকোনাজোল শোষিত হয়, তাই খাওয়ার ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া আশা করা হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একই জায়গায় একই সময়ে অন্য ক্রিম, মলম বা প্রসাধনী লাগাবেন না। যোনিতে ব্যবহারের পণ্য ল্যাটেক্স কনডম ও ডায়াফ্রাম দুর্বল করতে পারে।
কারা খাবেন না
- সার্টাকোনাজোল, অন্য অ্যাজোল ছত্রাকনাশক (যেমন মাইকোনাজোল বা ক্লোট্রিমাজোল) বা ক্রিমের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাধারণত হালকা এবং লাগানোর জায়গাতেই সীমাবদ্ধ: জ্বালাপোড়া, হুল ফোটার মতো অনুভূতি, লালচে ভাব, চুলকানি, শুষ্কতা বা ত্বক উঠে যাওয়া। চিকিৎসা চলার সাথে সাধারণত এগুলো কমে যায়।
কদাচিৎ লাগানোর জায়গায় ফোলা বা ফোসকাসহ অ্যালার্জিক ত্বকপ্রদাহ (কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস) হতে পারে।
ছড়িয়ে পড়া র্যাশ, ফোসকা, মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলা, অথবা শ্বাসকষ্ট হলে ব্যবহার বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ত্বক দিয়ে খুব অল্প পরিমাণ শোষিত হয়, তবে গর্ভাবস্থায় তথ্য সীমিত। গর্ভাবস্থায় শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত ছোট জায়গায় ব্যবহার করা যায়; নির্দেশ ছাড়া স্তন বা বোঁটার আশেপাশে লাগাবেন না, আর লাগালে দুধ খাওয়ানোর আগে ধুয়ে ফেলুন।
সতর্কতা
শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য। চোখ, মুখ বা নাকের ভেতরে লাগাবেন না। পরামর্শ ছাড়া আঁটসাঁট ব্যান্ডেজ দিয়ে ঢাকবেন না। জায়গাটি পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন, প্রতিদিন মোজা ও অন্তর্বাস বদলান এবং তোয়ালে ভাগাভাগি করবেন না। ২ সপ্তাহে উন্নতি না হলে বা সংক্রমণ ছড়ালে রোগনির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকের কাছে যান। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য পরামর্শযোগ্য নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি লাগালে গুরুতর ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে জ্বালাপোড়া বাড়তে পারে। ভুল করে ক্রিম গিলে ফেললে চিকিৎসক বা বিষক্রিয়া কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহারযোগ্য অ্যাজোল (ইমিডাজোল) ছত্রাকনাশক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে, মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জমাবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।