ব্যবহার
সেসামাম ইন্ডিকাম হলো তিল গাছ। এর বীজ থেকে পাওয়া তিলের তেল অনেক প্রচলিত চুলের তেলে মূল তেল হিসেবে ব্যবহার হয়, যেমন আমলকির সাথে তৈরি তেলে, এবং মালিশ ও ত্বকের তেলেও। প্রচলিতভাবে এটি মাথার ত্বক ও চুলের পুষ্টি, চুলের রুক্ষতা কমানো এবং শুষ্ক ত্বক নরম করতে ব্যবহৃত হয়। তিল ও তিলের তেল সাধারণ খাবারও। তিলের তেল চুল পড়া বা চুল পাকা বন্ধ করে, এমন দাবির পক্ষে ভালো প্রমাণ নেই।
কীভাবে কাজ করে
তিলের তেলে লিনোলেইক ও ওলেইক অ্যাসিডের মতো ফ্যাটি অ্যাসিড এবং সেসামল ও সেসামিনের মতো প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট প্রচুর থাকে। চুল ও ত্বকে এটি একটি হালকা সুরক্ষা স্তর তৈরি করে, যা আর্দ্রতা হারানো কমায়, উপরিভাগ নরম করে এবং চুল আঁচড়ানো সহজ করে। তেলের অন্যান্য ভেষজ উপাদানও এটি মাথার ত্বকে পৌঁছে দেয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চুলের তেল হিসেবে লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন। সাধারণত অল্প পরিমাণ তেল মাথার ত্বকে আলতো করে মালিশ করে চুলে ছড়িয়ে দেওয়া হয়, কিছুক্ষণ বা সারা রাত রেখে প্রয়োজনে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলা হয়। পণ্যে খাওয়ার উপযোগী লেখা না থাকলে শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
চুল বা ত্বকে ব্যবহার করলে কোনো ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া আশা করা হয় না। ডাক্তার না বললে মাথার ত্বকের অন্য ঔষধযুক্ত চিকিৎসার সাথে একই সময়ে এটি ব্যবহার করবেন না।
কারা খাবেন না
- তিলে অ্যালার্জি থাকলে। তিল একটি পরিচিত খাদ্য অ্যালার্জেন এবং সংবেদনশীল ব্যক্তিদের মধ্যে গুরুতর প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে।
- কাটা, সংক্রমিত বা বেশি প্রদাহযুক্ত ত্বক বা মাথার ত্বকে লাগাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। কারও কারও চুলকানি, লালচে ভাব বা র্যাশ (কন্টাক্ট ডার্মাটাইটিস) হতে পারে। বেশি তেল দিলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে কপাল বা চুলের রেখার কাছে ব্রণ উঠতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট বা সারা শরীরে চুলকানিযুক্ত ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন, কারণ এগুলো তিলের গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চুল বা ত্বকে ব্যবহার করা অথবা স্বাভাবিক খাবারের পরিমাণে খাওয়া তিলের তেল গর্ভাবস্থা ও স্তন্যদানকালে নিরাপদ বলে ধরা হয়।
সতর্কতা
- প্রথমবার ব্যবহারের আগে ত্বকের ছোট জায়গায় পরীক্ষা (প্যাচ টেস্ট) করে নিন।
- চোখে যেন না যায়; গেলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- হঠাৎ বা ছোপ ছোপ চুল পড়লে ডাক্তার দেখান।
- তেল পড়লে মেঝে ও বাথরুম পিচ্ছিল হয়; মুছে ফেলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
চুলে বেশি তেল দিলে গুরুতর ক্ষতি হয় না, তবে চুল তেলতেলে থাকে। কোনো শিশু বেশি পরিমাণ চুলের তেল গিলে ফেললে বমি বা ডায়রিয়া হতে পারে, এবং কিছু ভেষজ তেলে শ্বাসনালিতে আটকে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে; চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভেষজ তেল (চুল ও ত্বকের যত্নে মূল তেল; খাওয়ার তেলও)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। তেল যেন নষ্ট না হয়, তাই ঢাকনা ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।