ব্যবহার
সেভেলামার কার্বোনেট দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের, মূলত ডায়ালাইসিসে থাকা রোগীদের, রক্তে ফসফেটের উচ্চ মাত্রা (হাইপারফসফেটিমিয়া) নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত হয়। উচ্চ ফসফেট হাড় দুর্বল করতে পারে এবং রক্তনালী ও হৃৎপিণ্ডে ক্যালসিয়াম জমাতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
সেভেলামার একটি ফসফেট বাইন্ডার। এটি একটি পলিমার, যা শরীরে শোষিত হয় না। অন্ত্রে এটি খাবারের ফসফেটের সাথে যুক্ত হয়, ফলে ফসফেট রক্তে শোষিত না হয়ে পায়খানার সাথে বের হয়ে যায়। এতে ক্যালসিয়াম বা অ্যালুমিনিয়াম নেই। এটি LDL কোলেস্টেরলও সামান্য কমাতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী খান। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ শুরুর মাত্রা রক্তে ফসফেটের মাত্রা অনুযায়ী খাবারের সাথে দিনে তিনবার ৮০০ mg থেকে ১,৬০০ mg; এরপর রক্ত পরীক্ষা অনুযায়ী চিকিৎসক প্রতি ২ থেকে ৪ সপ্তাহে মাত্রা সমন্বয় করেন। খালি পেটে নয়, খাবারের সাথে খান। ট্যাবলেট আস্ত গিলে খান; গুঁড়ো করবেন না, চিবাবেন না বা ভাঙবেন না। পাউডার প্যাকের নির্দেশ অনুযায়ী পানিতে মিশিয়ে খান। নির্ধারিত কম-ফসফেটযুক্ত খাদ্যতালিকা মেনে চলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
একই সময়ে খাওয়া কিছু ঔষধের শোষণ সেভেলামার কমাতে পারে, যেমন সিপ্রোফ্লক্সাসিন, মাইকোফেনোলেট মোফেটিল, লেভোথাইরক্সিন, সাইক্লোস্পোরিন ও ট্যাক্রোলিমাস। যেসব ঔষধের মাত্রা সামান্য বদলালেও সমস্যা হয়, যেমন খিঁচুনিরোধী বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দনের ঔষধ, সেগুলো সেভেলামারের অন্তত ১ ঘণ্টা আগে বা ৩ ঘণ্টা পরে খান। চিকিৎসক এর কিছু ঔষধের রক্তমাত্রা পরীক্ষা করতে পারেন।
কারা খাবেন না
- সেভেলামার বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- রক্তে ফসফেট কম থাকলে
- অন্ত্রে বাধা (অবস্ট্রাকশন) থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমি বমি ভাব, বমি, পাতলা পায়খানা, কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম, গ্যাস ও পেটব্যথা। ক্ষেত্রবিশেষে তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য, অন্ত্রে বাধা, অন্ত্র ফুটো হওয়া বা অন্ত্রের আবরণে প্রদাহ হতে পারে। দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারে কিছু ভিটামিনের (A, D, E, K ও ফলিক অ্যাসিড) মাত্রা কমে যেতে পারে।
তীব্র পেটব্যথা, তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য, পেট ফুলে যাওয়া, থামছে না এমন বমি, পায়খানায় রক্ত বা কালো পায়খানা, অথবা তীব্র অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের তথ্য সীমিত। এটি শরীরে শোষিত হয় না, তবে ভিটামিনের শোষণ কমাতে পারে। চিকিৎসক প্রয়োজন মনে করলেই ভিটামিন ও ফলিক অ্যাসিড গ্রহণের দিকে খেয়াল রেখে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
গিলতে সমস্যা, অন্ত্রের গতিশীলতার গুরুতর সমস্যা, ইনফ্লামেটরি বাওয়েল ডিজিজ বা সম্প্রতি অন্ত্রের বড় অস্ত্রোপচার হলে সাবধানে ব্যবহার করুন। নিয়মিত রক্তে ফসফেট, ক্যালসিয়াম, বাইকার্বোনেট ও ভিটামিনের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়। তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য হলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
সেভেলামার শোষিত হয় না বলে মাত্রাতিরিক্ত সেবনে সারা শরীরে বিষক্রিয়ার সম্ভাবনা কম, তবে কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের সমস্যা হতে পারে। অনেক বেশি খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ফসফেট বাইন্ডার (ক্যালসিয়ামমুক্ত)
সংরক্ষণ
৩০°C-এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে, বোতলের মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।