ব্যবহার
এটি একটি আয়ুর্বেদিক ভেষজ মিশ্রণ, যাতে শতমূলী (অ্যাসপারাগাস র্যাসিমোসাস মূল), বিদারিকন্দ (পুয়েরারিয়া টিউবারোসা মূল), অশ্বগন্ধা (উইথানিয়া সমনিফেরা মূল) ও আরও কিছু ভেষজ থাকে। প্রচলিতভাবে স্তন্যদানকারী মায়েরা বুকের দুধের পরিমাণ বাড়াতে এবং সন্তান জন্মের পরের ক্লান্তি ও দুর্বলতায় সাধারণ টনিক হিসেবে এটি ব্যবহার করেন। এটি দুধের পরিমাণ বাড়ায় এমন বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত।
কীভাবে কাজ করে
শতমূলী ও বিদারিকন্দে স্যাপোনিন ও ফাইটোইস্ট্রোজেন নামের উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে, যা প্রোল্যাকটিনসহ দুধ তৈরিতে জড়িত হরমোনকে প্রভাবিত করে বলে ধারণা করা হয়। অশ্বগন্ধাকে প্রচলিতভাবে একটি শক্তিবর্ধক ভেষজ মনে করা হয়, যা শরীরকে চাপ ও ক্লান্তি সামলাতে সাহায্য করে। এই মিশ্রণ দুধের পরিমাণে কতটা প্রভাব ফেলে তা ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী অথবা নিবন্ধিত আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শমতো সেবন করুন, প্রায়ই কুসুম গরম দুধ বা পানির সাথে। নির্ধারিত পরিমাণের বেশি খাবেন না। ঘন ঘন বুকের দুধ খাওয়ানো, সঠিকভাবে মুখে নেওয়ানো, পর্যাপ্ত তরল ও খাবার এবং বিশ্রামের সাথে ভেষজ পণ্য সবচেয়ে ভালো কাজ করে। এক থেকে দুই সপ্তাহের মধ্যে দুধের পরিমাণ না বাড়লে চিকিৎসক বা ব্রেস্টফিডিং কাউন্সেলরের পরামর্শ নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অশ্বগন্ধা ঘুমের ঔষধের প্রভাব বাড়াতে পারে এবং লেভোথাইরক্সিনের মতো থাইরয়েডের ঔষধ, ডায়াবেটিসের ঔষধ, রক্তচাপের ঔষধ ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা দমিয়ে রাখার ঔষধের কাজে প্রভাব ফেলতে পারে। শতমূলীর হালকা প্রস্রাব বাড়ানোর গুণ থাকতে পারে। আপনি যেসব ঔষধ ও ভেষজ পণ্য ব্যবহার করেন, সব চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
- অ্যাসপারাগাস, এই ভেষজগুলো বা প্যাকেটে লেখা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে
- গর্ভাবস্থায়
- স্তন ক্যান্সারের মতো হরমোন সংবেদনশীল রোগ থাকলে, চিকিৎসক পরামর্শ না দিলে
- অতিসক্রিয় থাইরয়েড থাকলে, চিকিৎসক পরামর্শ না দিলে
- অটোইমিউন রোগ থাকলে, চিকিৎসক পরামর্শ না দিলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বেশিরভাগ মানুষ এটি ভালোভাবে সহ্য করেন। পেটের অস্বস্তি, পাতলা পায়খানা, বমিভাব, ঘুম ঘুম ভাব ও ত্বকে অ্যালার্জি হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে অশ্বগন্ধাযুক্ত পণ্যের সাথে লিভারের সমস্যার সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট, সারা গায়ে র্যাশ, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব বা পেটে তীব্র ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। শিশু অস্বাভাবিক ঘুমালে, অস্থির হলে, র্যাশ বা ডায়রিয়া হলে অথবা ঠিকমতো দুধ না খেলেও দ্রুত পরামর্শ নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
অশ্বগন্ধা গর্ভপাতের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় এটি ব্যবহার করবেন না। পণ্যটি স্তন্যদানকারী মায়েদের জন্য তৈরি, তবে দুধ খাওয়া শিশুর জন্য এই ভেষজগুলোর নিরাপত্তা পুরোপুরি গবেষণা করা হয়নি। সীমিত সময়ের জন্য ব্যবহার করুন, শিশুর কোনো পরিবর্তন লক্ষ্য করুন এবং নিশ্চিত না হলে চিকিৎসককে জিজ্ঞাসা করুন।
সতর্কতা
দুধ কম হওয়ার কারণ প্রায়ই কম ঘন ঘন খাওয়ানো, ভুলভাবে মুখে নেওয়া বা অন্য কোনো কারণ, যা নিয়ে চিকিৎসক বা ব্রেস্টফিডিং কাউন্সেলর সাহায্য করতে পারেন। থাইরয়েড, লিভার বা অটোইমিউন রোগ অথবা ডায়াবেটিস থাকলে আগে পরামর্শ নিন। পরিকল্পিত অপারেশনের অন্তত দুই সপ্তাহ আগে সেবন বন্ধ করুন। শুধু নির্ভরযোগ্য উৎসের নিবন্ধিত পণ্য ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে পেটের অস্বস্তি, ডায়রিয়া ও ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে। কেউ নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি খেয়ে ফেললে বা কোনো শিশু খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন অথবা প্যাকেটসহ নিকটস্থ হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
আয়ুর্বেদিক ভেষজ প্রস্তুতি (বুকের দুধ বাড়ানোর কাজে ব্যবহৃত গ্যালাক্টাগোগ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।