ব্যবহার
সিবুট্রামিন আগে প্রাপ্তবয়স্কদের স্থূলতায় (বডি মাস ইনডেক্স ৩০ বা বেশি), অথবা টাইপ ২ ডায়াবেটিস বা উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো ঝুঁকিসহ বডি মাস ইনডেক্স ২৭ বা বেশি হলে, কম ক্যালরির খাবার ও ব্যায়ামের পাশাপাশি ওজন কমাতে ব্যবহার হতো। গুরুত্বপূর্ণ: ২০১০ সাল থেকে অনেক দেশে সিবুট্রামিন বাজার থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে, কারণ বড় এক গবেষণায় হৃদরোগীদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বেড়ে যেতে দেখা গেছে। ব্যবহার করতে হলে শুধু ডাক্তারের কড়া তত্ত্বাবধানে।
কীভাবে কাজ করে
সিবুট্রামিন মস্তিষ্কে সেরোটোনিন ও নরঅ্যাড্রেনালিন নামের রাসায়নিক পুনরায় শোষণ হতে বাধা দেয়। এতে খাওয়ার পর পেট ভরা অনুভূতি বাড়ে, ফলে মানুষ কম খায়। এটি শরীরের শক্তি খরচও সামান্য বাড়ায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সেবন করুন। ব্যবহারের সময় সাধারণত দিনে একবার সকালে ১০ mg দিয়ে শুরু করা হতো, পানি দিয়ে পুরো গিলে, খাবারের আগে বা পরে। কয়েক মাসে ওজন যথেষ্ট না কমলে ডাক্তার ঔষধ বন্ধ করতেন। নিজে কখনো মাত্রা বাড়াবেন না এবং প্রেসক্রিপশন ছাড়া ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- এমএও ইনহিবিটর (যেমন সেলেজিলিন বা লিনেজোলিড) এর সাথে, বা সেগুলো বন্ধের ২ সপ্তাহের মধ্যে খাওয়া যাবে না।
- ফ্লুওক্সেটিন, সারট্রালিন বা ভেনলাফ্যাক্সিনের মতো বিষণ্ণতার ঔষধ, মাইগ্রেনের ট্রিপটান, ট্রামাডল, পেথিডিন, ডেক্সট্রোমেথরফান ও লিথিয়াম একসাথে সেরোটোনিন সিনড্রোম ঘটাতে পারে।
- অন্য ক্ষুধা কমানোর ঔষধ, সিউডোএফেড্রিনের মতো নাক বন্ধের ঔষধ ও উত্তেজক ঔষধ রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন বাড়াতে পারে।
- কিটোকোনাজোল, ইরিথ্রোমাইসিন ও ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন এর মাত্রা বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
- হৃদরোগ: করোনারি হৃদরোগ, হার্ট ফেইলিওর, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, আগে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোক, বা পায়ের ধমনীর রোগ।
- অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ।
- অ্যানোরেক্সিয়া বা বুলিমিয়ার মতো খাদ্যাভ্যাসজনিত রোগ, বা গুরুতর মানসিক রোগ।
- থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা, লিভার বা কিডনির গুরুতর রোগ, ন্যারো অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা, প্রস্রাব আটকে যাওয়াসহ প্রোস্টেট বড় হওয়া, বা ফিওক্রোমোসাইটোমা।
- ১৮ বছরের কম বা ৬৫ বছরের বেশি বয়সী, গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
- এমএও ইনহিবিটর বা মস্তিষ্কে কাজ করা অন্য ওজন কমানোর ঔষধ খেলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঘুমের সমস্যা, মাথাব্যথা, রক্তচাপ ও হৃৎস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, বুক ধড়ফড়, ঘাম, বমিভাব, মাথা ঘোরা ও স্বাদের পরিবর্তন। গুরুতর ঝুঁকি: হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, রক্তচাপ খুব বেড়ে যাওয়া, মেজাজের পরিবর্তন এবং কদাচিৎ খিঁচুনি বা রক্তপাতের সমস্যা।
বুকে ব্যথা বা চাপ, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, শরীরের এক পাশ হঠাৎ দুর্বল বা অবশ, কথা জড়িয়ে যাওয়া, তীব্র মাথাব্যথা, অজ্ঞান হওয়া, খিঁচুনি, অথবা জ্বর, ঘাম ও মাংসপেশি শক্ত হওয়ার সাথে অস্থিরতা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করবেন না। যাঁদের গর্ভধারণের সম্ভাবনা আছে, চিকিৎসার সময় তাঁরা নির্ভরযোগ্য জন্মনিরোধ ব্যবহার করবেন।
সতর্কতা
- নিয়মিত রক্তচাপ ও নাড়ি পরীক্ষা করতে হবে; বেড়ে গেলে ঔষধ বন্ধ করে ডাক্তার দেখান।
- এটি খাদ্যনিয়ন্ত্রণ ও ব্যায়ামের বিকল্প নয়।
- মৃগীরোগ, বিষণ্ণতা, রক্তপাতের সমস্যা বা মাদক অপব্যবহারের ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- মাথা ঘোরাতে পারে; গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
- অনলাইনে ভেষজ ওজন কমানোর পণ্য হিসেবে বিক্রি হওয়া কিছু পণ্যে গোপনে সিবুট্রামিন পাওয়া গেছে; অনিয়ন্ত্রিত ওজন কমানোর পণ্য এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে দ্রুত হৃৎস্পন্দন, উচ্চ রক্তচাপ, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা ও অস্থিরতা হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন। নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই; হৃদযন্ত্র পর্যবেক্ষণসহ সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মস্তিষ্কে কাজ করা স্থূলতাবিরোধী ঔষধ (সেরোটোনিন ও নরঅ্যাড্রেনালিন রিআপটেক ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
৩০°C-এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।