ব্যবহার
সিলভার সালফাডায়াজিন ১% ক্রিম দ্বিতীয় ও তৃতীয় মাত্রার পোড়ায় সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসার জন্য ত্বকে ব্যবহৃত হয়। ডাক্তারের পরামর্শে পায়ের কিছু ঘা, ত্বক প্রতিস্থাপনের জন্য ত্বক নেওয়া জায়গা ও সংক্রমণের ঝুঁকিতে থাকা অন্য ক্ষতেও এটি ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
এই ক্রিমে সিলভারের সাথে সালফোনামাইড অ্যান্টিবায়োটিক সালফাডায়াজিন যুক্ত থাকে। সিলভার ধীরে ধীরে ক্ষতে মুক্ত হয়ে ব্যাকটেরিয়া ও কিছু ইস্টের কোষপ্রাচীর ও ঝিল্লি নষ্ট করে। এতে সিউডোমোনাস ও স্ট্যাফিলোককাসসহ পোড়া ক্ষতে সংক্রমণ ঘটায় এমন অনেক জীবাণুর বিরুদ্ধে ব্যাপক সুরক্ষা পাওয়া যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
পরামর্শ অনুযায়ী পোড়া বা ক্ষত পরিষ্কার করে জীবাণুমুক্ত গ্লাভস বা স্প্যাচুলা দিয়ে প্রায় ৩ থেকে ৫ মিলিমিটার পুরু স্তর দিনে এক বা দুইবার, অথবা ডাক্তার বা নার্সের নির্দেশনা অনুযায়ী লাগান। জায়গাটি সবসময় ক্রিমে ঢাকা রাখুন; ঘষে উঠে গেলে আবার লাগান। ব্যান্ডেজ ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্ষত শুকানো বা ত্বক প্রতিস্থাপনের উপযুক্ত হওয়া পর্যন্ত চালিয়ে যান। বড় পোড়ার চিকিৎসা হাসপাতালে হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
এনজাইমভিত্তিক ক্ষত পরিষ্কারক পণ্য সিলভারের কারণে নিষ্ক্রিয় হতে পারে। বড় এলাকায় লাগালে যথেষ্ট সালফাডায়াজিন শোষিত হয়ে ওয়ারফারিন, ফেনিটোয়িন ও গ্লিবেনক্লামাইডের মতো কিছু ডায়াবেটিসের ঔষধের প্রভাব বাড়াতে পারে। পরামর্শ ছাড়া একই জায়গায় অন্য ক্রিম ব্যবহার করবেন না।
কারা খাবেন না
সিলভার সালফাডায়াজিন বা অন্য সালফা ঔষধে অ্যালার্জি থাকলে, অকালপ্রসূত শিশু বা ২ মাসের কম বয়সী নবজাতকে (জন্ডিসজনিত মস্তিষ্কের ক্ষতি বা কারনিকটারাসের ঝুঁকি), অথবা গর্ভাবস্থার শেষদিকে প্রসবের কাছাকাছি সময়ে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে লাগানোর জায়গায় জ্বালা, চুলকানি বা ব্যথা এবং ত্বকে ফুসকুড়ি। বড় এলাকায় দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বক ধূসর বা নীলচে হতে পারে। বড় এলাকায় চিকিৎসায় কদাচিৎ শ্বেত কণিকা কমা, কিডনির সমস্যা ও গুরুতর ত্বকের প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
জ্বর, গলাব্যথা, মুখে ঘা, অস্বাভাবিক কালশিটে দাগ, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব, ফোসকা বা চামড়া উঠে যাওয়াসহ ছড়িয়ে পড়া ফুসকুড়ি, অথবা মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
অত্যন্ত প্রয়োজন হলেই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করুন, এবং প্রসবের কাছাকাছি সময়ে এড়িয়ে চলুন, কারণ সালফোনামাইড নবজাতকের জন্ডিস ঘটাতে পারে। সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যেতে পারে; অকালপ্রসূত বা জন্ডিসআক্রান্ত শিশুকে দুধ খাওয়ালে এড়িয়ে চলুন এবং বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করুন।
সতর্কতা
শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য; চোখ ও মুখ এড়িয়ে চলুন। G6PD ঘাটতি, কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে, অথবা বড় এলাকায় চিকিৎসায় সাবধানে ব্যবহার করুন, কারণ রক্তকণিকা ও কিডনির পরীক্ষা দরকার হতে পারে। বড়, গভীর, মুখে, হাতে, পায়ে বা যৌনাঙ্গে পোড়া, অথবা ছোট শিশু বা বয়স্কের পোড়ায় চিকিৎসকের কাছে যান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
খুব বড় এলাকায় দীর্ঘদিন ব্যবহার না করলে ত্বকে ব্যবহারে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম; তাতে সালফোনামাইডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। গিলে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বাহ্যিক জীবাণুনাশক (পোড়ার জন্য সিলভার সালফোনামাইড)
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ক্রিম অনেক কালো হয়ে গেলে ব্যবহার করবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।