ব্যবহার
সিলিমারিন হলো মিল্ক থিসল ফলের নির্যাস। লিভারের কিছু সমস্যায় সহায়ক চিকিৎসা হিসেবে এটি ব্যবহার হয়, যেমন:
- ফ্যাটি লিভার।
- দীর্ঘমেয়াদি হেপাটাইটিস ও লিভারের প্রদাহ।
- মদ্যপান, বিষাক্ত পদার্থ বা কিছু ঔষধের কারণে লিভারের ক্ষতি।
এর উপকারিতার প্রমাণ সীমিত। এটি লিভারের রোগ সারায় না এবং মূল কারণের চিকিৎসার (যেমন মদ্যপান ছাড়া, ওজন কমানো বা ভাইরাসের চিকিৎসা) বিকল্প নয়।
কীভাবে কাজ করে
সিলিমারিন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে, অর্থাৎ ক্ষতিকর অণুর হাত থেকে লিভারের কোষকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ধারণা করা হয়, এটি লিভারের কোষের আবরণ মজবুত করে যাতে বিষাক্ত পদার্থ সহজে ঢুকতে না পারে, এবং কোষের মেরামতে সহায়তা করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: ঔষধের শক্তি অনুযায়ী সাধারণত ৭০ থেকে ১৪০ mg, দিনে ২ বা ৩ বার, বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। ক্যাপসুল আস্ত পানি দিয়ে, খাবারের সাথে বা পরে খান। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য উপযুক্ত নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- সিলিমারিন লিভারে কিছু ঔষধ ভাঙার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। ওয়ারফারিন, ডায়াবেটিসের ঔষধ (রক্তে শর্করা কিছুটা কমতে পারে) বা সূক্ষ্ম মাত্রার ঔষধ খেলে আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
- যত ভেষজ ও প্রেসক্রিপশনের ঔষধ খান, সব ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
মিল্ক থিসল বা ডেইজি পরিবারের গাছে (যেমন র্যাগউইড, চন্দ্রমল্লিকা, গাঁদা বা ডেইজি) এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। কারও হালকা পেটের অস্বস্তি, পাতলা পায়খানা, পেট ফাঁপা বা মাথাব্যথা হতে পারে। এলার্জি বিরল।
এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে, বা লিভারের রোগ বাড়ার লক্ষণ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন: চামড়া বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় রঙের প্রস্রাব, রক্তবমি, কালো পায়খানা, পেট ফুলে যাওয়া, বা বিভ্রান্তি ও অস্বাভাবিক ঘুম ঘুম ভাব।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
নিরাপত্তার যথেষ্ট তথ্য নেই। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
- লিভারের রোগের সঠিক রোগনির্ণয় ও ফলো-আপ দরকার; ডাক্তারের চিকিৎসার বদলে সিলিমারিন ব্যবহার করবেন না।
- হরমোন-সংবেদনশীল সমস্যা (যেমন স্তন বা জরায়ুর কিছু সমস্যা) থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন, কারণ মিল্ক থিসলের হালকা ইস্ট্রোজেনের মতো প্রভাব থাকতে পারে।
- ডায়াবেটিস থাকলে শুরুর দিকে বেশি বার রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে গুরুতর কোনো ক্ষতির কথা জানা নেই, তবে পেটের অস্বস্তি ও ডায়রিয়ার সম্ভাবনা বাড়ে। অনেক বেশি খেয়ে ফেললে, বিশেষ করে শিশু খেলে, ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
লিভার সুরক্ষাকারী (হেপাটোপ্রোটেক্টিভ) ভেষজ ঔষধ।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।