ব্যবহার
সিটাফ্লক্সাসিন একটি অ্যান্টিবায়োটিক, যা ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণে ব্যবহৃত হয়, যেমন শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ (নিউমোনিয়া ও ব্রঙ্কাইটিসসহ), মূত্রনালির সংক্রমণ, নাক কান গলার সংক্রমণ এবং এই ঔষধে সংবেদনশীল জীবাণুর কারণে হওয়া আরও কিছু সংক্রমণ। সর্দি বা ফ্লুর মতো ভাইরাসজনিত রোগে এটি কাজ করে না।
কীভাবে কাজ করে
সিটাফ্লক্সাসিন ফ্লুরোকুইনোলোন গোত্রের ঔষধ। ব্যাকটেরিয়ার বংশগত উপাদান (ডিএনএ) কপি ও মেরামতের জন্য দরকারি দুটি এনজাইম, ডিএনএ জাইরেজ ও টোপোআইসোমারেজ IV, এটি আটকে দেয়। ফলে জীবাণু বংশবৃদ্ধি করতে পারে না এবং মারা যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা ৫০ mg দিনে দুইবার অথবা ১০০ mg দিনে একবার, খাবারের আগে বা পরে, ডাক্তার যতদিন বলেন ততদিন। গুরুতর সংক্রমণে বেশি মাত্রা দেওয়া হতে পারে। কিডনির সমস্যায় মাত্রা কমানো হয়। ভালো বোধ করলেও পুরো কোর্স শেষ করুন, এবং অ্যান্টাসিড, আয়রন, জিংক বা ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্টের অন্তত ২ ঘণ্টা আগে বা পরে খান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যালুমিনিয়াম বা ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড এবং আয়রন, জিংক বা ক্যালসিয়ামযুক্ত পণ্য এর শোষণ কমায়। আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশকের সাথে খেলে খিঁচুনির ঝুঁকি বাড়তে পারে। এটি ওয়ারফারিনের প্রভাব বাড়াতে পারে এবং ইনসুলিন বা গ্লিমেপিরাইড ব্যবহারকারীদের রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ বদলে দিতে পারে। থিওফাইলিন, কর্টিকোস্টেরয়েড এবং হৃৎস্পন্দনের QT ব্যবধান বাড়ায় এমন ঔষধ (যেমন অ্যামিওডারন, সোটালল বা কিছু মানসিক রোগের ঔষধ) এর সাথে ব্যবহারে সতর্কতা দরকার।
কারা খাবেন না
সিটাফ্লক্সাসিন বা অন্য কোনো কুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি থাকলে, গর্ভাবস্থায়, বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এবং বিশেষজ্ঞ অন্যভাবে না বললে শিশু ও কিশোরদের এটি খাওয়া উচিত নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ডায়রিয়া, পাতলা পায়খানা, বমিভাব, পেটে অস্বস্তি, মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা। লিভারের পরীক্ষা ও রক্তে শর্করার মাত্রায় পরিবর্তন হতে পারে। ফ্লুরোকুইনোলোন কদাচিৎ টেন্ডনে ব্যথা বা ছিঁড়ে যাওয়া, স্নায়ুর ক্ষতি (ঝিনঝিন, জ্বালা বা অবশভাব), মেজাজের পরিবর্তন এবং রোদে ত্বকের সংবেদনশীলতা ঘটাতে পারে।
হঠাৎ টেন্ডনে ব্যথা বা ফোলা, খিঁচুনি, তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা অজ্ঞান হওয়া, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, রক্তে শর্করা খুব কমে যাওয়া (ঘাম, কাঁপুনি, বিভ্রান্তি), অথবা মুখ বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট বা ফোসকাযুক্ত ফুসকুড়ি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ কুইনোলোন শিশুর বাড়ন্ত হাড়ের জোড়া ও তরুণাস্থিতে প্রভাব ফেলতে পারে। ডাক্তার অন্য অ্যান্টিবায়োটিক বেছে নেবেন।
সতর্কতা
বয়স্ক ব্যক্তি, কর্টিকোস্টেরয়েড গ্রহণকারী, এবং কিডনি রোগ, মৃগী, মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস, হৃৎস্পন্দনের সমস্যা, পটাশিয়াম কম থাকা বা ডায়াবেটিস থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। টেন্ডনে ব্যথা বা স্নায়ুর লক্ষণের প্রথম আভাসেই ঔষধ বন্ধ করে ডাক্তার দেখান। কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন। মাথা ঘুরলে গাড়ি চালাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমিভাব, মাথা ঘোরা, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা হৃৎস্পন্দনে পরিবর্তন হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন; হৃৎস্পন্দন পর্যবেক্ষণসহ লক্ষণভিত্তিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।