ব্যবহার
সোডিয়াম অ্যাসিটেট একটি লবণ, যা শিরায় দেওয়া স্যালাইন ও পুষ্টির দ্রবণের উপাদান হিসেবে ব্যবহার হয়। বাংলাদেশে এটি মূলত পাওয়া যায় ব্যালান্সড স্যালাইনে (সোডিয়াম ক্লোরাইড, পটাসিয়াম ক্লোরাইড ও অন্য লবণের সাথে), যা বমি, ডায়রিয়া, রক্তক্ষরণ, পোড়া বা অস্ত্রোপচারের পর হারানো পানি ও লবণ পূরণে দেওয়া হয়; শিরায় পুষ্টি দিতে অ্যামিনো অ্যাসিড ও ভিটামিনের দ্রবণে; এবং চোখের অস্ত্রোপচারের সময় চোখ ধোয়ার ব্যালান্সড সল্ট সলিউশনে। রক্তে অতিরিক্ত অ্যাসিড (অ্যাসিডোসিস) প্রতিরোধ বা ঠিক করতেও এটি ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি সোডিয়াম সরবরাহ করে, যা রক্তনালীতে পানি ধরে রাখতে এবং স্নায়ু ও মাংসপেশির স্বাভাবিক কাজে সাহায্য করে। অ্যাসিটেট অংশটি লিভার ও মাংসপেশিতে বাইকার্বনেটে পরিণত হয়, যা রক্তের অতিরিক্ত অ্যাসিড নিষ্ক্রিয় করে। এই কারণে অ্যাসিটেটযুক্ত স্যালাইন সাধারণ নরমাল স্যালাইনের চেয়ে শরীরের নিজস্ব তরলের বেশি কাছাকাছি।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ডাক্তার বা নার্স শিরায় স্যালাইন (ড্রিপ) হিসেবে দেন, অথবা অস্ত্রোপচারের সময় চোখ ধোয়ার তরল হিসেবে ব্যবহার করেন। কোন দ্রবণ, কতটুকু ও কত গতিতে দেওয়া হবে তা বয়স, ওজন, রোগ ও রক্ত পরীক্ষার ফলাফল দেখে ডাক্তার ঠিক করেন। এটি বাড়িতে ব্যবহারের জন্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কর্টিকোস্টেরয়েড ও শরীরে সোডিয়াম ধরে রাখে এমন অন্য ঔষধে পানি জমে ফোলার ঝুঁকি বাড়ে।
- প্রস্রাব ক্ষারীয় হলে কিছু ঔষধের নিস্সরণ বদলায়, যেমন লিথিয়াম ও অ্যাসপিরিন দ্রুত বের হয়ে যায় এবং কিছু ঔষধ ধীরে বের হয়।
- পটাসিয়ামযুক্ত স্যালাইনের সাথে স্পাইরোনোল্যাকটোন, এসই ইনহিবিটর ও পটাসিয়াম সাপ্লিমেন্টের মতো পটাসিয়াম বাড়ায় এমন ঔষধে সাবধানতা দরকার।
- সামঞ্জস্য যাচাই করেই কেবল অন্য ঔষধ এই দ্রবণে মেশানো হয়।
কারা খাবেন না
- রক্তে সোডিয়াম বেশি বা পটাসিয়াম বেশি থাকলে (পটাসিয়ামযুক্ত স্যালাইনের ক্ষেত্রে)।
- অ্যালকালোসিস (রক্তে অ্যাসিড খুব কম) থাকলে।
- শরীরে অতিরিক্ত পানি জমলে, বা ফোলাসহ গুরুতর হার্ট বা কিডনি ফেইলিউর থাকলে।
- ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
স্যালাইন দেওয়ার জায়গায় ব্যথা, লালচে ভাব বা ফোলা, শরীরে পানি জমা (গোড়ালি ফোলা, শ্বাসকষ্ট), সোডিয়াম বেড়ে যাওয়া, এবং অ্যালকালোসিসের কারণে মাংসপেশি কাঁপা বা টান লাগা হতে পারে। চোখ ধোয়ার দ্রবণে অল্প সময়ের জন্য চোখে অস্বস্তি হতে পারে।
শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, মুখ বা পা ফোলা, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, মাংসপেশিতে টান বা কাঁপা, অথবা স্যালাইনের জায়গায় ব্যথা ও ফোলা হলে সঙ্গে সঙ্গে নার্স বা ডাক্তারকে জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
প্রয়োজনে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করা যায়, অন্য রোগীদের মতোই পানি ও লবণের মাত্রা সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করে।
সতর্কতা
- চিকিৎসার সময় রক্তের লবণ, অ্যাসিড-ক্ষারের ভারসাম্য ও পানির হিসাব পর্যবেক্ষণ করা উচিত।
- হার্ট ফেইলিউর, কিডনির রোগ, লিভারের রোগ (লিভার অ্যাসিটেট প্রক্রিয়া করে), উচ্চ রক্তচাপ, ফোলা, বয়স্ক ও শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা দরকার।
- দ্রবণ স্বচ্ছ ও পাত্র অক্ষত থাকলেই কেবল ব্যবহার করুন।
- চোখ ধোয়ার দ্রবণ ইনজেকশনের জন্য নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি দিলে শরীরে অতিরিক্ত পানি জমা, সোডিয়াম বেড়ে যাওয়া ও অ্যালকালোসিস হতে পারে, যার ফলে ফোলা, শ্বাসকষ্ট, বিভ্রান্তি, মাংসপেশি কাঁপা বা খিঁচুনি হয়। স্যালাইন বন্ধ করে চিকিৎসক দল প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইলেকট্রোলাইট পূরণকারী ও ক্ষারকারক উপাদান (শিরায় দেওয়া স্যালাইনের উপাদান)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না। একবার ব্যবহার করে বাকি দ্রবণ ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।