জেনেরিক ঔষধ

Sodium Chloride

  • 308 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 100 টি কোম্পানি

ব্যবহার

সোডিয়াম ক্লোরাইড হলো চিকিৎসার মান অনুযায়ী তৈরি সাধারণ লবণ। এটি কয়েকভাবে ব্যবহার হয়:

  • স্যালাইন হিসেবে শিরায় (সাধারণত ০.৯% “নরমাল স্যালাইন”), পানিশূন্যতা, বমি, ডায়রিয়া, রক্তক্ষরণ, পোড়া বা অপারেশনে হারানো পানি ও লবণ পূরণে, এবং অন্য ইনজেকশন পাতলা করতে।
  • রক্তে সোডিয়াম কমে গেলে হাসপাতালে আরও ঘন দ্রবণ ব্যবহার হয়।
  • নাকের ড্রপ বা স্প্রে হিসেবে, সর্দিতে শুকনো বা বন্ধ নাক ভেজাতে ও শ্লেষ্মা নরম করতে, শিশুদেরও।
  • কিছু রোগে লবণ ঘাটতিতে ট্যাবলেট বা খাওয়ার দ্রবণ হিসেবে, এবং ক্ষত বা চোখ ধোয়ার জীবাণুমুক্ত দ্রবণ হিসেবে।

কীভাবে কাজ করে

সোডিয়াম ও ক্লোরাইড হলো শরীরের কোষের বাইরের তরলের প্রধান লবণ। এরা রক্তনালিতে পানি ধরে রাখে এবং শরীরের পানির ভারসাম্য, রক্তচাপ এবং স্নায়ু ও মাংসপেশির কাজ ঠিক রাখে। নাকে লবণ-পানি ঘন শ্লেষ্মা পাতলা করে ধুয়ে দেয়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

  • স্যালাইন (শিরায়): ডাক্তার বা নার্স দেন। কতটা ও কত দ্রুত দেওয়া হবে তা বয়স, ওজন ও রোগের ওপর নির্ভর করে, ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী।
  • নাকের ড্রপ বা স্প্রে: সাধারণত প্রতি নাকে ২ থেকে ৩ ফোঁটা বা ১ থেকে ২ স্প্রে, প্রয়োজনমতো বা পরামর্শ অনুযায়ী। শিশুদের ড্রপ দেওয়ার পর আলতোভাবে নাক পরিষ্কার করুন।
  • ট্যাবলেট বা খাওয়ার দ্রবণ: শুধু ডাক্তারের নির্দেশে।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

নাকের স্যালাইনের উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। শিরায় বা মুখে বেশি সোডিয়াম নিলে রক্তচাপ বাড়তে ও শরীরে পানি জমতে পারে, ফলে রক্তচাপের ঔষধ ও প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধের কাজ কমে যেতে পারে। ডেক্সামেথাসোন ও প্রেডনিসোলোনের মতো কর্টিকোস্টেরয়েড শরীরে সোডিয়াম বেশি ধরে রাখে। বেশি লবণ খেলে রক্তে লিথিয়ামের মাত্রা কমতে পারে।

কারা খাবেন না

স্যালাইন ও ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে: রক্তে সোডিয়াম বেশি থাকলে, শরীরে অতিরিক্ত পানি জমলে, বা হৃদ্‌যন্ত্র, কিডনি বা লিভারের গুরুতর রোগে শরীর ফুলে থাকলে, যদি না ডাক্তার অন্যভাবে সিদ্ধান্ত নেন। নাকে ব্যবহারের ক্ষেত্রে: ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

  • নাকের ড্রপ বা স্প্রে: হালকা জ্বালা বা হাঁচি।
  • স্যালাইন: সুই লাগানোর জায়গায় ব্যথা, লাল হওয়া বা ফোলা। বেশি তরল গেলে পা বা শরীর ফুলে যেতে পারে।

শ্বাসকষ্ট, মুখ বা পা ফুলে যাওয়া, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি, তীব্র মাথাব্যথা, অথবা স্যালাইনের জায়গায় ছড়িয়ে পড়া লালচে ভাব ও ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

নির্দেশমতো ব্যবহারে নাকের স্যালাইন ড্রপ ও নরমাল স্যালাইন গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ বলে ধরা হয়। লবণের ট্যাবলেট শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খাবেন।

সতর্কতা

  • হার্ট ফেইলিউর, কিডনি রোগ, উচ্চ রক্তচাপ, লিভারের রোগ, বয়স্ক ও ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে বাড়তি সাবধানতা দরকার। চিকিৎসার সময় রক্তে সোডিয়াম পরীক্ষা লাগতে পারে।
  • নিজে কখনও স্যালাইনের গতি বদলাবেন না।
  • নাকের ড্রপের বোতল অন্যের সাথে ভাগ করবেন না, এবং খোলার পর প্যাকে লেখা সময়ের মধ্যে ফেলে দিন।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

বেশি সোডিয়াম গেলে প্রচণ্ড পিপাসা, বমি, ডায়রিয়া, শরীর ফোলা, বিভ্রান্তি ও খিঁচুনি হতে পারে। রক্তের কম সোডিয়াম খুব দ্রুত ঠিক করলেও মস্তিষ্কের ক্ষতি হতে পারে, তাই এটি হাসপাতালে করা হয়। দেরি না করে চিকিৎসা নিন। শিশু অল্প একটু নাকের ড্রপ গিলে ফেললে সাধারণত ক্ষতি হয় না।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

ইলেকট্রোলাইট পূরণকারী ও শিরায় দেওয়ার তরল; নাকের স্যালাইন প্রস্তুতি।

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না। স্যালাইনের ব্যাগ বা বোতল ঘোলা, ছিদ্র বা নষ্ট হলে ব্যবহার করবেন না।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Sodium Chloride এর ব্র্যান্ড

86 টি ব্র্যান্ড

Sodium Chloride যুক্ত কম্বিনেশন ঔষধ

222 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।