ব্যবহার
সোডিয়াম ক্রোমোগ্লাইকেট এলার্জির উপসর্গ প্রতিরোধ ও উপশমে ব্যবহার হয়:
- চোখের ড্রপ: এলার্জির কারণে চোখ চুলকানো, লাল হওয়া ও পানি পড়া (এলার্জিক কনজাংটিভাইটিস), মৌসুমি ও দীর্ঘস্থায়ী চোখের এলার্জিসহ।
- নাকের স্প্রে বা ড্রপ: এলার্জির কারণে হাঁচি, নাক দিয়ে পানি পড়া বা নাক বন্ধ (এলার্জিক রাইনাইটিস)।
নাকের কিছু ঔষধে জাইলোমেটাজোলিনও থাকে, যা বন্ধ নাক খুলে দেয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি একটি মাস্ট সেল স্ট্যাবিলাইজার। মাস্ট সেল হলো চোখ ও নাকের এমন কোষ, যা পরাগরেণু বা ধুলোর মতো এলার্জেনের সংস্পর্শে হিস্টামিনসহ নানা রাসায়নিক ছাড়ে। সোডিয়াম ক্রোমোগ্লাইকেট এই রাসায়নিক বের হওয়া আটকে দেয়, ফলে এলার্জির প্রতিক্রিয়া হয় না। এলার্জেনের সংস্পর্শের আগে ও সময়ে নিয়মিত ব্যবহার করলে সবচেয়ে ভালো কাজ করে; পূর্ণ ফল পেতে কয়েক দিন লাগতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- চোখের ড্রপ (২%): বড় ও শিশু সবার জন্য সাধারণত প্রতি চোখে ১ বা ২ ফোঁটা, দিনে ৪ বার।
- চোখের ড্রপ (৪%): সাধারণত দিনে কম বার লাগে; প্যাকেটের নির্দেশনা বা ডাক্তারের পরামর্শ মানুন।
- নাকের স্প্রে বা ড্রপ: সাধারণত প্রতি নাসারন্ধ্রে ১টি স্প্রে বা নির্দেশিত ফোঁটা, দিনে ২ থেকে ৪ বার, প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী।
- জাইলোমেটাজোলিনযুক্ত ঔষধ: একটানা ৭ দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না।
আগে হাত ধুয়ে নিন। ড্রপারের মুখ বা নজল যেন চোখ, নাক বা অন্য কিছুতে না লাগে। ভালো বোধ করলেও এলার্জির মৌসুম জুড়ে ব্যবহার চালিয়ে যান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
খুব সামান্য পরিমাণ রক্তে যায়, তাই মুখে খাওয়া ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা নেই। একাধিক চোখের ঔষধ দিলে মাঝে অন্তত ৫ মিনিট বিরতি দিন। জাইলোমেটাজোলিনযুক্ত ঔষধ MAO ইনহিবিটর জাতীয় বিষণ্ণতার ঔষধের সাথে বা সেগুলো বন্ধের ১৪ দিনের মধ্যে ব্যবহার করা যাবে না।
কারা খাবেন না
- সোডিয়াম ক্রোমোগ্লাইকেট বা প্রিজারভেটিভসহ কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- জাইলোমেটাজোলিনযুক্ত ঔষধের ক্ষেত্রে: ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা, সম্প্রতি নাক বা মস্তিষ্কের অপারেশন হলে, এবং প্যাকেটে উল্লেখিত বয়সের চেয়ে ছোট শিশু।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
চোখের ড্রপ: দেওয়ার পরপর অল্প সময় জ্বালা বা ঝাপসা দেখা। নাকে ব্যবহারে: নাকে অস্বস্তি, হাঁচি, মুখে বিস্বাদ এবং কদাচিৎ নাক দিয়ে রক্ত পড়া।
গুরুতর এলার্জির লক্ষণ (মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, সারা শরীরে র্যাশ), চোখে তীব্র ব্যথা বা হঠাৎ দৃষ্টির পরিবর্তন হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
খুব সামান্য শোষিত হয়, তাই গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এলার্জির জন্য এটিকে তুলনামূলক নিরাপদ বিকল্প ধরা হয়। তবুও ব্যবহারের আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন, বিশেষ করে জাইলোমেটাজোলিনযুক্ত ঔষধের ক্ষেত্রে।
সতর্কতা
- চোখের ড্রপ দেওয়ার আগে নরম কন্টাক্ট লেন্স খুলে ফেলুন এবং অন্তত ১৫ মিনিট পর আবার পরুন; অনেক ড্রপের প্রিজারভেটিভ নরম লেন্সে জমে যায়।
- চোখের ঝাপসা ভাব না কাটা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না।
- চোখের সমস্যা বাড়লে বা না কমলে, কিংবা ব্যথা বা পুঁজ থাকলে ডাক্তার দেখান; এটি এলার্জি না হয়ে সংক্রমণ হতে পারে।
- উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, থাইরয়েডের রোগ ও ডায়াবেটিসে জাইলোমেটাজোলিনযুক্ত ঔষধ সাবধানে ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ফোঁটা দিলে ক্ষতির সম্ভাবনা কম। কোনো শিশু জাইলোমেটাজোলিনযুক্ত ঔষধ গিলে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের পরামর্শ নিন, কারণ ছোট শিশুদের এতে ঘুম ঘুম ভাব ও শ্বাস ধীর হয়ে যেতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মাস্ট সেল স্ট্যাবিলাইজার (এলার্জিরোধী)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জমাবেন না। চোখের ড্রপ খোলার ৪ সপ্তাহ পর, বা প্যাকেটে লেখা সময় পর ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।