ব্যবহার
সোডিয়াম ফ্লোরাইড দাঁতের ক্ষয় (ক্যাভিটি) প্রতিরোধে ব্যবহৃত ফ্লোরাইডের একটি উৎস। এটি মাউথওয়াশ, টুথপেস্ট, জেল এবং কিছু ট্যাবলেট বা ড্রপে পাওয়া যায়। এই উপাদানযুক্ত মাউথওয়াশ প্রতিদিন ব্যবহার করলে দাঁতের এনামেল মজবুত হয়, কিছু পণ্যে দাঁতের শিরশিরানি কমে এবং মুখের পরিচ্ছন্নতা বজায় থাকে। যারা ব্রেস পরেন বা যাদের মুখ শুকনো থাকে, তাদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী।
কীভাবে কাজ করে
ফ্লোরাইড দাঁতের বাইরের স্তর এনামেলে মিশে যায়। এতে এনামেল শক্ত হয় এবং মুখের জীবাণুর তৈরি অ্যাসিডের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ বাড়ে, একদম শুরুর দিকের ক্ষয় মেরামত হয় এবং ক্যাভিটি সৃষ্টিকারী জীবাণুর বৃদ্ধি কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
মাউথওয়াশ: প্রাপ্তবয়স্ক ও লেবেলে উল্লেখিত বয়সের বেশি শিশু (সাধারণত ৬ থেকে ১২ বছরের বেশি) দিনে ১ থেকে ২ বার প্রায় ১০ ml মুখে নিয়ে ৩০ থেকে ৬০ সেকেন্ড কুলি করে ফেলে দিন। গিলবেন না। ভালো ফলের জন্য এরপর ৩০ মিনিট কিছু খাবেন বা পান করবেন না। টুথপেস্ট ও জেল লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন। শিশুদের ফ্লোরাইড ট্যাবলেট বা ড্রপ শুধু দন্তচিকিৎসক বা চিকিৎসকের পরামর্শে দিন, কারণ মাত্রা বয়স ও এলাকার খাবার পানির ফ্লোরাইডের ওপর নির্ভর করে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত পণ্য (যেমন অ্যান্টাসিড বা দুধ) গিলে ফেলা ফ্লোরাইডের শোষণ কমাতে পারে। একসাথে কয়েকটি ফ্লোরাইড পণ্য এবং ফ্লোরাইডসমৃদ্ধ পানি ব্যবহারে শিশুদের শরীরে ফ্লোরাইড বেশি হয়ে যেতে পারে। নিশ্চিত না হলে দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
কারা খাবেন না
কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না। যে ছোট শিশুরা ঠিকমতো কুলি করে ফেলতে পারে না, তাদের জন্য মাউথওয়াশ উপযুক্ত নয়। খাবার পানিতে যথেষ্ট ফ্লোরাইড থাকলে বাড়তি ফ্লোরাইড সাপ্লিমেন্ট দেওয়া উচিত নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত মাউথওয়াশ ভালোভাবে সহ্য হয়। কারো কারো সাময়িক স্বাদের পরিবর্তন, মুখে হালকা জ্বালা বা কিছু পণ্যে দাঁতে হালকা দাগ পড়তে পারে। শিশুরা দীর্ঘদিন বেশি ফ্লোরাইড পেলে গজাতে থাকা দাঁতে সাদা বা বাদামি দাগ (ডেন্টাল ফ্লুরোসিস) হতে পারে।
কেউ বেশি পরিমাণ গিলে ফেললে, অথবা মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
নির্দেশনা মেনে ফ্লোরাইড মাউথওয়াশ বা টুথপেস্ট ব্যবহার করে ফেলে দিলে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত সমস্যা নেই। মুখে খাওয়ার ফ্লোরাইড সাপ্লিমেন্টের আগে চিকিৎসক বা দন্তচিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন এবং দাঁত ব্রাশ বা কুলির সময় শিশুদের তদারকি করুন। কিছু মাউথওয়াশে অ্যালকোহল থাকে, যা অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা ব্যক্তিদের জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। মাউথওয়াশ দাঁত ব্রাশ ও ফ্লসের বিকল্প নয়। ব্যথা, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বা দীর্ঘস্থায়ী শিরশিরানি থাকলে দন্তচিকিৎসকের কাছে যান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বিশেষ করে শিশু বেশি পরিমাণ গিলে ফেললে বমি বমি ভাব, বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে, এবং গুরুতর ক্ষেত্রে রক্তে ক্যালসিয়াম কমে হৃদযন্ত্রের সমস্যা হতে পারে। হাতের কাছে থাকলে দুধ খাওয়ান এবং সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
দাঁতের ক্ষয়রোধী উপাদান (ফ্লোরাইড প্রস্তুতি)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। বোতল শক্ত করে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।