ব্যবহার
সোডিয়াম পলিস্টাইরিন সালফোনেট রক্তে পটাশিয়ামের উচ্চ মাত্রা (হাইপারকালেমিয়া) কমাতে ব্যবহৃত হয়। কিডনি রোগে এবং কিছু ঔষধের কারণে পটাশিয়াম বেড়ে যাওয়া সাধারণ, যা হৃৎস্পন্দনের বিপজ্জনক সমস্যা ঘটাতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
এটি একটি রেজিন (বিনিময়কারী পাউডার) যা শরীরে শোষিত হয় না। অন্ত্রে, মূলত বৃহদন্ত্রে, এটি সোডিয়ামের বদলে পটাশিয়াম আটকে নেয়। পটাশিয়াম রেজিনের সাথে মলের মাধ্যমে বের হয়ে যায়, ফলে কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনে রক্তের পটাশিয়াম কমে। জীবনসংকটপূর্ণ জরুরি অবস্থায় একা এটি যথেষ্ট দ্রুত নয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
রক্তের পটাশিয়াম পরীক্ষার ভিত্তিতে ডাক্তার মাত্রা ও সময়কাল ঠিক করেন, চিকিৎসকের নির্দেশমতো সেবন করুন। প্রাপ্তবয়স্কদের মুখে খাওয়ার সাধারণ মাত্রা ১৫ g দিনে এক থেকে চারবার, অল্প পানিতে মিশিয়ে (ফলের রস নয়, কারণ তাতে পটাশিয়াম আছে)। নার্স এটি পায়ুপথে এনিমা হিসেবেও দিতে পারেন, সাধারণত ৩০ g, সম্ভব হলে কয়েক ঘণ্টা ধরে রাখতে হয়। সরবিটলের সাথে মেশাবেন না। শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী, চিকিৎসকের নির্দেশমতো।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- এটি অন্ত্রে অন্য ঔষধকে আটকে ফেলতে পারে; অন্য মুখে খাওয়ার ঔষধ এর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে বা পরে খান (পাকস্থলী ধীরে খালি হলে ৬ ঘণ্টা)।
- এর সাথে সরবিটল দিলে অন্ত্রের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে, তাই এড়িয়ে চলুন।
- ম্যাগনেসিয়াম বা অ্যালুমিনিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড বা জোলাপ এর প্রভাব কমাতে পারে এবং বিপাকীয় সমস্যা (অ্যালকালোসিস) ঘটাতে পারে।
- এর কারণে পটাশিয়াম কমে গেলে ডিগক্সিনের বিষক্রিয়া বাড়তে পারে।
- এটি লিথিয়াম ও লেভোথাইরক্সিনের শোষণ কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- রক্তে পটাশিয়াম ৫ mmol/L এর কম হলে।
- অন্ত্র বন্ধ বা সরু হলে, অথবা অস্ত্রোপচারের পর অন্ত্রের নড়াচড়া কমে গেলে।
- নবজাতকের মুখে, এবং অন্ত্রের নড়াচড়া কম এমন শিশুদের।
- পলিস্টাইরিন সালফোনেট রেজিনে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কোষ্ঠকাঠিন্য, ক্ষুধামান্দ্য, বমিভাব, বমি ও পেটে জ্বালাভাব। এটি পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম কমিয়ে দিতে পারে, এবং অতিরিক্ত সোডিয়ামের কারণে শরীরে পানি জমা, ফোলা, হার্ট ফেইলিউর বা উচ্চ রক্তচাপ বাড়তে পারে। কদাচিৎ অন্ত্রের গুরুতর ক্ষতি (ঘা, রক্তক্ষরণ বা টিস্যু নষ্ট হওয়া) হতে পারে, বিশেষ করে অন্ত্রের সমস্যা বা অস্ত্রোপচারের পর।
পেটে তীব্র ব্যথা, তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য বা পেট ফাঁপা, মলে রক্ত বা কালো মল, রক্তবমি, পেশি দুর্বলতা বা খিঁচ, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অথবা হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বা ফোলা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এটি শোষিত হয় না, তাই শিশুর কাছে পৌঁছানোর আশঙ্কা কম, তবে কিছু পুষ্টির শোষণ কমাতে পারে। গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
- রক্তে পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও সোডিয়াম নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে।
- কোষ্ঠকাঠিন্য এড়িয়ে চলুন; ডাক্তার সরবিটল বা ম্যাগনেসিয়ামমুক্ত উপযুক্ত জোলাপ দিতে পারেন।
- হার্ট ফেইলিউর, উচ্চ রক্তচাপ, ফোলা বা অতিরিক্ত সোডিয়াম ক্ষতিকর এমন অবস্থায় সাবধানে ব্যবহার করুন।
- মুখে খাওয়ার সময় সোজা হয়ে বসুন, যাতে শ্বাসনালিতে না যায়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত মাত্রায় পটাশিয়াম কমে যেতে পারে (দুর্বলতা, পেশিতে খিঁচ, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন), ক্যালসিয়াম কমে যেতে পারে এবং তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য বা অন্ত্রে বাধা হতে পারে। চিকিৎসা নিন; রক্ত পরীক্ষা ও কমে যাওয়া লবণের চিকিৎসা প্রয়োজন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পটাশিয়াম আটকানো ক্যাটায়ন এক্সচেঞ্জ রেজিন।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, পাত্রের মুখ শক্ত করে বন্ধ রেখে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। তাজা তৈরি মিশ্রণ ব্যবহার করুন এবং ২৪ ঘণ্টার বেশি রাখবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।