ব্যবহার
সোডিয়াম থায়োসালফেট একটি সাধারণ লবণ, যার দুটি আলাদা ধরনের ব্যবহার আছে। বাংলাদেশে এটি মূলত মাছ ও চিংড়ির পুকুরের জন্য ট্যাবলেট হিসেবে বিক্রি হয়: পানির ক্লোরিন ও কিছু বিষাক্ত গ্যাস নিষ্ক্রিয় করতে এবং পানির মান খারাপ হওয়ায় মাছের চাপ কমাতে এটি ব্যবহার করা হয়। হাসপাতালে এর ইনজেকশন সায়ানাইড বিষক্রিয়ার প্রতিষেধক হিসেবে (সাধারণত সোডিয়াম নাইট্রাইটের সাথে) এবং কিছু ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ক্যান্সার চিকিৎসার সময় শ্রবণশক্তি রক্ষায় বা ত্বকের নিচে ক্যালসিয়াম জমা (ক্যালসিফাইল্যাক্সিস) চিকিৎসায় দেওয়া হয়। পুকুরের ট্যাবলেট মানুষের ব্যবহারের জন্য নয়।
কীভাবে কাজ করে
পানিতে এটি ক্লোরিন ও এ ধরনের রাসায়নিকের সাথে বিক্রিয়া করে সেগুলোকে ক্ষতিহীন পদার্থে পরিণত করে। শরীরে এটি একটি এনজাইমকে সালফার জোগায়, যা সায়ানাইডকে থায়োসায়ানেটে রূপান্তর করে; থায়োসায়ানেট অনেক কম বিষাক্ত এবং প্রস্রাবের সাথে বের হয়ে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
পুকুরের ট্যাবলেট: শুধু লেবেলের নির্দেশনা বা মৎস্য ও অ্যাকোয়াকালচার পরামর্শকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করুন। পরিমাণ নির্ভর করে পুকুরের আয়তন ও পানির গভীরতার ওপর; সাধারণত ট্যাবলেট পুরো পানিতে সমানভাবে ছিটিয়ে দেওয়া হয়। হাসপাতালের ইনজেকশন: ডাক্তার বা নার্স ধীরে ধীরে শিরায় দেন; রোগীর অবস্থা অনুযায়ী মাত্রা ডাক্তার ঠিক করেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
পুকুরে পরামর্শ ছাড়া একই সময়ে অন্য রাসায়নিক বা জীবাণুনাশক মেশাবেন না, কারণ এটি সেগুলোকে নিষ্ক্রিয় করে দিতে পারে। ঔষধ হিসেবে এটি স্বাস্থ্যকর্মীরা দেন এবং অন্য চিকিৎসা বিবেচনা করেন; জানা প্রতিক্রিয়া খুব কম।
কারা খাবেন না
এতে অ্যালার্জি থাকলে ইনজেকশন দেওয়া যাবে না। পুকুরের পণ্য কখনো গিলবেন না বা মানুষের ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনজেকশনে রক্তচাপ কমে যাওয়া, বমিভাব, বমি, মাথাব্যথা, মুখে লবণাক্ত স্বাদ, গরম লাগা ও রক্তের লবণের পরিবর্তন হতে পারে। অসাবধানে নাড়াচাড়া করলে পুকুরের ট্যাবলেট ত্বক ও চোখে জ্বালা করতে পারে।
পুকুরের ট্যাবলেট কেউ গিলে ফেললে, ইনজেকশনের পর অজ্ঞান ভাব, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা বা মুখ ফুলে গেলে, অথবা অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
সায়ানাইড বিষক্রিয়ার মতো জরুরি অবস্থায় উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে ডাক্তার গর্ভাবস্থায়ও এটি দিতে পারেন। গর্ভবতী বা দুগ্ধদানকারী মায়েরা পুকুরের ট্যাবলেট নাড়াচাড়া করলে গ্লাভস পরবেন এবং গুঁড়া এড়িয়ে চলবেন।
সতর্কতা
পুকুরের ট্যাবলেট ধরার সময় গ্লাভস পরুন, পরে হাত ধুয়ে নিন এবং খাবার থেকে দূরে রাখুন। পুকুরে বেশি দেবেন না, কারণ বেশি পরিমাণে পানির অক্সিজেন কমে যেতে পারে। ইনজেকশনে প্রচুর সোডিয়াম থাকে, তাই হৃদ্রোগ বা কিডনির সমস্যা থাকলে বা কম লবণের খাদ্যাভ্যাস থাকলে ডাক্তার বাড়তি সতর্কতা নেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
পুকুরে বেশি দিলে অক্সিজেন কমে যেতে পারে; বায়ু সঞ্চালন বাড়িয়ে পরামর্শ নিন। মানুষের শরীরে বেশি মাত্রায় বমি, নিম্ন রক্তচাপ ও লবণের ভারসাম্যহীনতা হতে পারে, এজন্য চিকিৎসা প্রয়োজন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রতিষেধক (সায়ানাইড বিষক্রিয়া); অ্যাকোয়াকালচারে পানি শোধনকারী উপাদান।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। হাসপাতালের ইনজেকশন প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।