ব্যবহার
সলিফেনাসিন সাকসিনেট প্রাপ্তবয়স্কদের ওভারঅ্যাকটিভ ব্লাডার (অতিসক্রিয় মূত্রথলি) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এর উপসর্গ হলো হঠাৎ প্রস্রাবের তীব্র বেগ, ঘন ঘন প্রস্রাব এবং টয়লেটে পৌঁছানোর আগেই প্রস্রাব বেরিয়ে যাওয়া।
কীভাবে কাজ করে
সলিফেনাসিন একটি অ্যান্টিমাসকারিনিক ঔষধ। এটি মূত্রথলির পেশিকে বারবার সংকুচিত হওয়ার সংকেত বন্ধ করে, ফলে মূত্রথলি শিথিল থাকে, বেশি প্রস্রাব ধরে রাখতে পারে এবং বেগ কম আসে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে একবার ৫ mg। প্রয়োজনে ডাক্তার দিনে একবার ১০ mg পর্যন্ত বাড়াতে পারেন। ট্যাবলেট পানি দিয়ে পুরোটা গিলে খান, খাবারের আগে বা পরে। গুরুতর কিডনি সমস্যা, মাঝারি লিভার সমস্যা থাকলে বা নিচে উল্লেখিত কিছু ঔষধ খেলে দিনে ৫ mg এর বেশি খাবেন না। শিশুদের জন্য নয়। পুরো উপকার পেতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন ও রিটোনাভির সলিফেনাসিনের মাত্রা বাড়ায়; তখন দিনে ৫ mg এর বেশি নয়।
- রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন ও ফেনিটয়েন এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাবযুক্ত অন্য ঔষধ (কিছু অ্যান্টিহিস্টামিন, বিষণ্নতার ঔষধ ও মানসিক রোগের ঔষধ) মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য ও বিভ্রান্তি বাড়ায়।
- এটি মেটোক্লোপ্রামাইড ও ডমপেরিডনের কার্যকারিতা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- মূত্রথলি খালি করতে না পারলে (প্রস্রাব আটকে যাওয়া)।
- পাকস্থলী বা অন্ত্রের গুরুতর সমস্যা, যেমন অন্ত্রে বাধা বা টক্সিক মেগাকোলন।
- মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস (পেশি দুর্বলতার রোগ)।
- নিয়ন্ত্রণে নেই এমন ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা।
- গুরুতর লিভার রোগ, অথবা শক্তিশালী মিথস্ক্রিয়াকারী ঔষধ খাওয়ার সময় গুরুতর কিডনি রোগ।
- ডায়ালাইসিসে থাকা রোগী এবং সলিফেনাসিনে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঝাপসা দেখা, বদহজম, বমিভাব ও চোখ শুকানো। কম দেখা যায়: মূত্রনালির সংক্রমণ, ঝিমুনি, গলা শুকানো ও প্রস্রাব করতে কষ্ট।
প্রস্রাব একেবারে না হলে, পেটে তীব্র ব্যথা বা ৩ দিন বা তার বেশি পায়খানা না হলে, মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফুলে গেলে, হৃৎস্পন্দন দ্রুত বা অনিয়মিত হলে, চোখে ব্যথার সাথে ঝাপসা দেখলে বা বিভ্রান্তি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট তথ্য নেই; ডাক্তার একান্ত প্রয়োজন মনে করলেই কেবল ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
- প্রোস্টেট বড় হলে বা প্রস্রাবে কষ্ট থাকলে, পাকস্থলী বা অন্ত্রের সমস্যা, রিফ্লাক্স, কিডনি বা লিভারের রোগ, গ্লুকোমা বা হৃৎস্পন্দনের সমস্যা (QT দীর্ঘ হওয়া) থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- ঘাম কম হতে পারে, তাই গরমে শরীর অতিরিক্ত গরম হওয়া এড়িয়ে চলুন।
- ঝাপসা দেখা বা ঝিমুনি হলে গাড়ি চালাবেন না।
- ঘন ঘন প্রস্রাবের অন্য কারণ, যেমন সংক্রমণ বা ডায়াবেটিস, ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে মুখ খুব শুকিয়ে যাওয়া, চোখের মণি বড় হওয়া, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন, অস্থিরতা ও প্রস্রাব আটকে যেতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মূত্রথলির খিঁচুনি-রোধী ঔষধ (অ্যান্টিমাসকারিনিক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।