ব্যবহার
সোমাট্রোপিন হলো কৃত্রিমভাবে তৈরি মানুষের গ্রোথ হরমোন। শিশুদের ক্ষেত্রে গ্রোথ হরমোনের ঘাটতিজনিত কম বৃদ্ধি এবং টার্নার সিনড্রোম, প্রেডার উইলি সিনড্রোম, নুনান সিনড্রোম, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ, SHOX জিনের ঘাটতি বা জন্মের সময় ছোট আকার থেকে পরে বৃদ্ধি না পাওয়ার কারণে উচ্চতার সমস্যায় এটি ব্যবহৃত হয়। প্রাপ্তবয়স্কদের পিটুইটারি গ্রন্থি যথেষ্ট গ্রোথ হরমোন তৈরি না করলে এটি দিয়ে ঘাটতি পূরণ করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
সোমাট্রোপিনের গঠন পিটুইটারি গ্রন্থির তৈরি গ্রোথ হরমোনের মতোই। এটি লিভার ও অন্যান্য টিস্যুকে IGF-1 নামের একটি পদার্থ তৈরিতে উদ্দীপিত করে, যা হাড় ও পেশির বৃদ্ধি ঘটায়। এটি শরীরে চর্বি, প্রোটিন ও শর্করার ব্যবহারকেও প্রভাবিত করে, ফলে ঘাটতি থাকা প্রাপ্তবয়স্কদের পেশি বাড়ে ও চর্বি কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সোমাট্রোপিন চামড়ার নিচে ইনজেকশন হিসেবে দেওয়া হয়, সাধারণত দিনে একবার সন্ধ্যায়। মাত্রা বিশেষজ্ঞ শরীরের ওজন বা শরীরের উপরিতলের ক্ষেত্রফল অনুযায়ী হিসাব করেন এবং বৃদ্ধি, রক্ত পরীক্ষা ও সাড়া দেখে পরিবর্তন করেন, তাই ঠিক যেভাবে প্রেসক্রাইব করা হয়েছে সেভাবেই ব্যবহার করুন। রোগী বা অভিভাবককে পেন বা সিরিঞ্জ দিয়ে ইনজেকশন দেওয়া শেখানো হয়। ত্বকের পরিবর্তন এড়াতে প্রতিবার জায়গা বদলান (উরু, পেট, নিতম্ব বা বাহুর উপরের অংশ)।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
প্রেডনিসোলন বা হাইড্রোকর্টিসোনের মতো কর্টিকোস্টেরয়েড এর বৃদ্ধির প্রভাব কমাতে পারে। সোমাট্রোপিন রক্তে শর্করা বাড়াতে পারে, তাই ইনসুলিন ও ডায়াবেটিসের অন্য ঔষধের মাত্রা বদলাতে হতে পারে। মুখে খাওয়ার ইস্ট্রোজেন নিলে বেশি মাত্রা লাগতে পারে। এটি থাইরয়েড হরমোন এবং সাইক্লোস্পোরিন ও কিছু মৃগীরোগের ঔষধের মতো লিভারে ভাঙা ঔষধের প্রভাব বদলাতে পারে। আপনার সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
নিচের ক্ষেত্রে সোমাট্রোপিন ব্যবহার করা যাবে না:
- কোনো সক্রিয় টিউমার বা ক্যান্সার থাকলে
- যেসব শিশুর হাড়ের বৃদ্ধি প্লেট বন্ধ হয়ে গেছে, তাদের উচ্চতা বাড়ানোর জন্য
- বড় অস্ত্রোপচার, গুরুতর আঘাত বা শ্বাসযন্ত্রের বিকলতার পর যারা তীব্রভাবে গুরুতর অসুস্থ
- প্রেডার উইলি সিনড্রোমে যারা অত্যধিক মোটা বা যাদের তীব্র শ্বাসকষ্ট বা স্লিপ অ্যাপনিয়া আছে
- সক্রিয় প্রোলিফারেটিভ ডায়াবেটিক চোখের রোগ বা ঔষধে অ্যালার্জি থাকলে
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, লালচে ভাব বা ফোলা
- মাথাব্যথা
- গিঁট বা পেশিতে ব্যথা, এবং শরীরে পানি জমে হাত বা পা ফোলা
- হাতে ঝিনঝিন বা অবশ ভাব (কার্পাল টানেলের লক্ষণ)
- রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া বা থাইরয়েড হরমোন কমে যাওয়া
দৃষ্টির পরিবর্তন, বমি বমি ভাব বা বমিসহ তীব্র মাথাব্যথা; শিশুর হঠাৎ খুঁড়িয়ে হাঁটা বা কোমর বা হাঁটুতে ব্যথা; তীব্র পেটব্যথা; অথবা মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভধারণ হলে সাধারণত চিকিৎসা বন্ধ রাখা হয়, কারণ এর নিরাপত্তা সম্পর্কে তথ্য কম। সোমাট্রোপিন বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই। গর্ভধারণ বা বুকের দুধ খাওয়ানোর পরিকল্পনা থাকলে আগে বিশেষজ্ঞের সাথে কথা বলুন।
সতর্কতা
ডাক্তার নিয়মিত উচ্চতা, রক্তে শর্করা, থাইরয়েডের কাজ ও IGF-1 এর মাত্রা পরীক্ষা করবেন। আগের কোনো টিউমারের কারণে ঘাটতি হলে টিউমার ফিরে আসছে কি না তা দেখতে হয়। দ্রুত বৃদ্ধির সময় মেরুদণ্ডের বাঁকা ভাব (স্কোলিওসিস) বাড়তে পারে। ডায়াবেটিস থাকলে শর্করা আরও ঘন ঘন পরীক্ষা করুন। কখনো পেন বা সুঁই অন্যের সাথে ভাগ করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবারে অনেক বেশি নিলে প্রথমে রক্তে শর্করা কমে এবং পরে বেড়ে যেতে পারে। দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় নিলে অতিরিক্ত গ্রোথ হরমোনের লক্ষণ দেখা দিতে পারে, যেমন হাত, পা ও মুখের গঠন বড় হয়ে যাওয়া। প্রেসক্রিপশনের চেয়ে বেশি দিলে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
গ্রোথ হরমোন (পিটুইটারি হরমোন, রিকম্বিন্যান্ট সোমাটোট্রপিন)।
সংরক্ষণ
রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন। জমাবেন না। আলো থেকে রক্ষা করতে মূল বাক্সে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ব্যবহার শুরুর পর লিফলেটে লেখা সময় পর্যন্ত সংরক্ষণের নিয়ম মেনে চলুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।