ব্যবহার
সোটাগ্লিফ্লোজিন হার্ট ফেইলিওরে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের, এবং দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগ ও হৃদরোগের অন্যান্য ঝুঁকিসহ টাইপ ২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ব্যবহৃত হয়। এটি হৃদরোগে মৃত্যুর ঝুঁকি, হার্ট ফেইলিওরের কারণে হাসপাতালে ভর্তি এবং জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন কমায়।
কীভাবে কাজ করে
সোটাগ্লিফ্লোজিন শরীরে চিনি পরিবহনকারী দুটি প্রোটিন, এসজিএলটি২ ও এসজিএলটি১, বন্ধ করে। কিডনিতে এসজিএলটি২ বন্ধ হলে প্রস্রাবের সাথে বেশি চিনি ও লবণ বের হয়ে যায়, ফলে রক্তে শর্করা কমে এবং হৃদপিণ্ডের ওপর তরলের চাপ কমে। অন্ত্রে এসজিএলটি১ বন্ধ হলে খাবারের পর চিনি শোষণ ধীর হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সাধারণ শুরুর মাত্রা দিনে একবার ২০০ mg, দিনের প্রথম খাবারের সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা আগে। ভালোভাবে সহ্য হলে এবং রোগী স্থিতিশীল থাকলে চিকিৎসক তা দিনে একবার ৪০০ mg পর্যন্ত বাড়াতে পারেন। চিকিৎসকের নির্দেশমতো সেবন করুন।
- ট্যাবলেট আস্ত গিলে ফেলুন।
- কয়েক ঘণ্টার বেশি দেরি হয়ে গেলে সেই ডোজ বাদ দিন এবং পরদিন যথারীতি পরের ডোজ নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়া (যেমন গ্লিক্লাজাইড বা গ্লিমেপিরাইড) এর সাথে নিলে রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, তাই সেগুলোর মাত্রা কমাতে হতে পারে। ফুরোসেমাইডের মতো প্রস্রাববর্ধক ঔষধের প্রভাব বাড়িয়ে পানিশূন্যতা বা নিম্ন রক্তচাপ ঘটাতে পারে। ডিগক্সিনের মাত্রা বাড়াতে পারে, তাই পর্যবেক্ষণ দরকার। রিফামপিসিনসহ কিছু ঔষধ এর কার্যকারিতা কমাতে পারে। লিথিয়ামের মাত্রা কমে যেতে পারে।
কারা খাবেন না
- সোটাগ্লিফ্লোজিন বা এর কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- টাইপ ১ ডায়াবেটিসে নয়, কারণ কিটোঅ্যাসিডোসিসের ঝুঁকি আছে।
- যারা ডায়ালাইসিসে আছেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে মূত্রনালির সংক্রমণ, যৌনাঙ্গে ছত্রাক সংক্রমণ, ডায়রিয়া, রক্তে শর্করা কমে যাওয়া (মূলত ইনসুলিন বা সালফোনাইলইউরিয়ার সাথে), মাথা ঘোরা এবং দাঁড়ালে মাথা হালকা লাগার মতো পানিশূন্যতার লক্ষণ।
বমিভাব, বমি, পেটব্যথা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা শ্বাসকষ্ট (রক্তে শর্করা স্বাভাবিক থাকলেও কিটোঅ্যাসিডোসিস হতে পারে), জ্বরসহ যৌনাঙ্গ বা মলদ্বারের আশেপাশে ব্যথা, স্পর্শে ব্যথা বা ফোলা (বিরল গুরুতর সংক্রমণ), অজ্ঞান হয়ে যাওয়া বা অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে শিশুর কিডনির ওপর প্রভাবের আশঙ্কায় এটি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয় না; গর্ভবতী হলে বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা থাকলে চিকিৎসককে জানান। এই ঔষধ খাওয়ার সময় বুকের দুধ খাওয়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয় না।
সতর্কতা
চিকিৎসার আগে ও চলাকালে কিডনির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা উচিত। বিশেষ করে গরমে বা অসুস্থতায় পর্যাপ্ত পানি পান করুন। কিটোঅ্যাসিডোসিসের ঝুঁকি কমাতে অস্ত্রোপচারের আগে, গুরুতর অসুস্থতা, রোজা বা অতিরিক্ত বমির সময় চিকিৎসক সাময়িকভাবে ঔষধ বন্ধ রাখতে বলতে পারেন। সংক্রমণ কমাতে যৌনাঙ্গ পরিষ্কার রাখুন। বয়স্ক এবং প্রস্রাববর্ধক ঔষধ খাচ্ছেন এমন ব্যক্তিদের বাড়তি সতর্কতা দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত সেবনে পানিশূন্যতা, নিম্ন রক্তচাপ বা রক্তে শর্করা কমে যাওয়া হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান। সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
এসজিএলটি১ ও এসজিএলটি২ ইনহিবিটর (সোডিয়াম গ্লুকোজ কোট্রান্সপোর্টার ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।